Ajker Patrika

বাংলাদেশের কাছে হারের ধাক্কা সামলাতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক    
বাংলাদেশের কাছে হারের ধাক্কা সামলাতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্টে পাত্তাই পায়নি অস্ট্রেলিয়া। ছবি: এএফপি

ডারউইনে পরশু বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমের ছবিটা নিশ্চয়ই খুব ভালো নয়। ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কাছে এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম হার। তার ওপর বিশ্ব টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলকে এই ম্যাচে সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে দেয়নি বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো রীতিমতো লজ্জার চোখে দেখছে এই হার। সমালোচনা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও হারটা সহজভাবে নিতে পারছেন না। প্রথম টেস্টে নিজেদের মান ধরে রাখতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

গতকাল ডারউইনে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘এই টেস্ট ম্যাচে আমরা খুব বাজে খেলেছি। ওই ধরনের উইকেটে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রানের কম করলে, আমাদের অবশ্যই কিছু উন্নতি করতে হবে। এটা মেনে নেওয়া কঠিন। আমরা আমাদের মান ধরে রাখতে পারিনি।’

ডারউইনের উইকেট নিয়ে ম্যাচের আগে দুই দলেরই ইতিবাচক মন্তব্য ছিল। কিন্তু সেই উইকেটে অস্ট্রেলিয়া দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫০০ রানও করতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৮ রান করে তারা। বাংলাদেশ ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে।

সেই হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও তিন নম্বরে মারনাস লাবুশেনের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুজনই সাম্প্রতিক সময়ে রান করতে ব্যর্থ। সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংও অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন। প্রথম টেস্টে ২৩ ও ০ রান করা ওয়েদারাল্ড বাদ পড়েছেন দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকেই। তাঁর জায়গায় এসেছেন ম্যাট রেনশ।

অস্ট্রেলিয়া দলে বয়সের ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বর্তমান স্কোয়াডে ৩০ বছরের নিচে একমাত্র খেলোয়াড় ক্যামেরন গ্রিন। আগামী এক বছরে অস্ট্রেলিয়াকে ২০টি টেস্ট খেলতে হতে পারে। ফলে পুরোনো মুখগুলোর জায়গায় নতুনদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

ম্যাকডোনাল্ড অবশ্য একটি হার দিয়ে সবকিছু পাল্টে ফেলার পক্ষে নন। তিনি বলেন, ‘দলের বয়সের ভারসাম্য, আমরা কোথায় আছি, কেমন এগোচ্ছি—এসব নিয়ে আলোচনা সব সময় থাকবে। একটি হার অবশ্যই বিষয়টিকে সহজ করে না।’ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছেন অস্ট্রেলিয়া কোচ, ‘আমি বিশ্বাস করি, এখনো অনেক খেলা বাকি। আসল বিষয়, আমরা কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলে এগিয়ে যাই।’

বাংলাদেশের কাছে হারটা যে খেলোয়াড়দের জন্য ভীষণ কষ্টের, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড, ‘টেস্ট ম্যাচে হারলে সেটা অনুভব করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা তাদের কাছে অনেক বড় ব্যাপার। এসবের মধ্যে সে বিষয়টিও যেন আমরা ভুলে না যাই।’

বাংলাদেশের কাছে হারটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য শুধু একটি টেস্ট হার নয়। নিজেদের মাঠে ৯ উইকেটে এই পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া দল, ব্যাটিং আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত দিন যে দলকে হারানো কঠিন মনে হতো, সেই দলকে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে অসহায় দেখা গেছে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাই চাপটা অস্ট্রেলিয়ার ওপরই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত