কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করেন একদল তরুণ-তরুণী। ছয় বছর আগে সেই ঢেউয়ের কাছে এসেছিল ফাতিমা আক্তারও। তবে তখন সার্ফিং কী, সেটাই জানত না। সমুদ্রসৈকতে বান্ধবীদের নিয়মিত যাতায়াত দেখে কৌতূহল হয়েছিল তার। তা থেকেই একদিন তাঁদের সঙ্গে লুকিয়ে চলে যায় সার্ফিং করতে।
সেদিনের সেই কৌতূহলই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে স্বপ্নে। যা তাকে এখন নিয়ে যাচ্ছে জাপানে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে সার্ফিংয়ে অংশ নেবে ফাতিমা। মাল্টি ইভেন্টের গেমসে প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে কক্সবাজারের এই কিশোরী।
ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় প্রথমবার পানিতে নেমেই ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলেছিল ফাতিমা। তখন সে সাঁতার জানত না। পানিতে পড়ে বোর্ডটি তার মাথার ওপর চলে এসেছিল। বান্ধবীদের উৎসাহে পরে আবার পানিতে নামে। ১৬ বছর বয়সী ফাতিমা বলে, ‘সার্ফিং সম্পর্কে তখন আমার কোনো ধারণাই ছিল না। একদিন কৌতূহল থেকে বান্ধবীদের সঙ্গে সার্ফিং করতে যাই। প্রথমবার পানিতে নামার পর খুব ভয় পেয়েছিলাম। পরে ওদের উৎসাহেই আবার চেষ্টা করি।’
সার্ফিং করার আগে ক্লাব থেকে সাঁতার শেখানো হতো। ধীরে ধীরে পানির ভয় কাটিয়ে উঠল ফাতিমা। একসময় নিজেই বোর্ড নিয়ে দাঁড়াতে পেরেছে, অন্যদের সঙ্গে মাঝসমুদ্রে গিয়ে সার্ফিংও শুরু করল। ভালো একটি বোর্ড পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।
কিন্তু সমুদ্রের ঢেউয়ের ভয় কাটলেও সামাজিক বাধা তখনো কাটেনি। সমাজের কিছু মানুষের কথায় একসময় মা-ও মেয়েকে সার্ফিংয়ে যেতে দিতে চাইতেন না। ফাতিমার পরিবার সচ্ছল নয়। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে সে। মা বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ফাতিমা সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। সংসারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে মেয়ের খেলাধুলার খরচ চালানো ছিল কঠিন।
একপর্যায়ে ফাতিমা সার্ফিং ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিল। তখন পাশে দাঁড়ান তার কোচ রাশেদ আলম। তাঁর সহায়তায় আবার নিয়মিত অনুশীলনে ফেরে ফাতিমা, ‘সংসারে আর্থিক চাপ ছিল। খেলাধুলার খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একসময় সার্ফিং ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলাম। তখন রাশেদ ভাই পাশে দাঁড়ান। তিনি আমার পড়াশোনা এবং অনুশীলনের খরচ এবং ক্লাব থেকে যাতায়াতেও সহায়তা করেছেন।’
এ ছাড়া সুযোগের সীমাবদ্ধতাও আছে। বাংলাদেশের উপকূলে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত। ঢেউ সব সময় অনুকূলে থাকে না। ফলে দীর্ঘ সময় অনুশীলনের সুযোগও মেলে না। ফাতিমা বলে, ‘আমরা অন্য কোনো দেশে গিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারলে আরও ভালো করতে পারতাম। অন্য দেশের সার্ফাররা ইন্দোনেশিয়ার মতো জায়গায় গিয়ে দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ নেয়। আমাদের সেই সুযোগ হয়নি। এখানে কয়েক দিন ভালো ঢেউ পাওয়া গেলেও এরপর অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়।’
তবু থামেনি ফাতিমা; বরং সময়ের সঙ্গে বদলেছে ভাবনাও। তার চোখের সামনে শুধু সার্ফিং আর নিজের স্বপ্ন, ‘যখন সার্ফিং নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম, তখন এসব আর মাথায় রাখিনি। আমি চাই, বাংলাদেশেও অন্য খেলাগুলোর মতো সার্ফিংকে গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং এই খেলায় আরও অনেক মেয়ে এগিয়ে আসুক।’
এবার সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়ানোর পালা। জাপানে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে সার্ফিং করতে যাচ্ছে ফাতিমা। এই আসরে ফাতিমার অংশগ্রহণ তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার মেয়েদের জন্যও এটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। ফাতিমার বিশ্বাস, সে এগোতে পারলে আরও অনেক মেয়ে সার্ফিংয়ে আসবে।

লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিতেই সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের বিতর্কে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে এগিয়ে রাখলেন ব্রিটিশ ব্রডকাস্টার পিয়ার্স মরগান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলসংখ্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে পর্তুগিজ তারকাকে ইতিহাসের সেরা বলে দাবি করেছেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো আর্জেন্টিনার। তাঁর বিদায় শুধু একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নয়; এটি আলবিসেলেস্তদের দীর্ঘদিনের খেলার কাঠামো ও নেতৃত্বের একটি বড় পরিবর্তন। তবে তাঁর জায়গায় সরাসরি কাউকে দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। বরং নতুন প্রজন্মের এক
১ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের ঘোষণার পর তাঁকে বিশেষভাবে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা করছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। দেশের মাটিতে সমর্থকদের সামনে কিংবদন্তি অধিনায়কের বিদায়ী আয়োজন করতে চায় সংস্থাটি। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মেসির ইচ্ছার ওপর।
২ ঘণ্টা আগে
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তে গভীরভাবে আঘাত পেয়েছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘ ও গৌরবময় এক অধ্যায়ের সমাপ্তির বেদনার মধ্যেও অবশ্য ছেলের সুখকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মেসির মা সেলিয়া।
৩ ঘণ্টা আগে