
আমাদের গ্রহে প্রাণের বিকাশ ও প্রাচুর্য টিকে আছে অক্সিজেনের কল্যাণে। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সব সময় এমন ছিল না। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ভবিষ্যতে আমাদের বায়ুমণ্ডলে আবারও মিথেনের আধিক্য হবে এবং অক্সিজেনবিহীন অবস্থায় ফিরে যাবে। তবে এখনই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এমনটা হতে প্রায় এক বিলিয়ন বছর বা তারও বেশি সময় লাগবে। তবে ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, যখন এই পরিবর্তন আসবে, তখন তা বেশ দ্রুত ঘটবে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জিওসায়েন্স জার্নালে। সেটিকে সংবাদ আকারে প্রকাশ করেছে বিজ্ঞানভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সায়েন্স অ্যালার্ট। গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মিথেনের আধিক্য ও অক্সিজেনহীনতা পৃথিবীকে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন বছর আগের ‘গ্রেট অক্সিডেশন ইভেন্ট—জিওই’—এর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
জাপানের টোহো ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞানী কাজুমি ওজাকি গবেষণাটি প্রকাশের সময় বলেন, ‘অনেক বছর ধরে পৃথিবীর জীবমণ্ডলের আয়ু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর কারণ হলো, সূর্যের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং কার্বনেট-সিলিকেটের ভূ-রাসায়নিক চক্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই তাত্ত্বিক কাঠামোর একটি পরিণতি হলো বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ক্রমাগত কমে যাওয়া এবং ভূতাত্ত্বিক সময়কালে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।’
গবেষকেরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সম্ভবত বাসযোগ্য বিশ্বের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য নয়। এর ফলে মহাবিশ্বে প্রাণের চিহ্ন খোঁজার আমাদের প্রচেষ্টায় কিছু প্রভাব পড়তে পারে। দলটি তাদের গবেষণাপত্রে ব্যাখ্যা করেছে, ‘মডেল অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন কমে যাওয়া, অর্থাৎ আর্কেয়ান পৃথিবীর মতো অবস্থায় ফিরে যাওয়া, সম্ভবত পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় আর্দ্র গ্রিনহাউস পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগেই ঘটবে। এমনকি বায়ুমণ্ডল থেকে পৃষ্ঠের পানি ব্যাপক হারে হারানোর আগেই এটি ঘটবে।’
গবেষকেরা বলেছেন, ‘সেই সময়ে মানবজাতি এবং অক্সিজেন-নির্ভর বেশির ভাগ প্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই আশা করা যায়, আগামী এক বিলিয়ন বছরের মধ্যে আমরা পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার উপায় খুঁজে বের করব।’
গবেষকেরা তাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য পৃথিবীর জীবমণ্ডলের বিস্তারিত মডেল তৈরি করেছেন। এতে সূর্যের উজ্জ্বলতার পরিবর্তন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রার হ্রাস অন্তর্ভুক্ত ছিল। কারণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসটি ভেঙে যায়। কম কার্বন ডাই-অক্সাইড মানে হলো গাছপালার মতো সালোকসংশ্লেষণকারী জীবের সংখ্যা কমে যাওয়া, যার ফলে অক্সিজেনও কম উৎপন্ন হবে।
বিজ্ঞানীরা আগে ধারণা করেছিলেন যে, সূর্যের বিকিরণ বৃদ্ধির কারণে প্রায় ২ বিলিয়ন বছরের মধ্যে পৃথিবীর সমুদ্রের পানি শুকিয়ে যাবে। কিন্তু এই মডেল—যা প্রায় ৪ লাখ সিমুলেশনের গড় ফলাফলের উপর ভিত্তি করে তৈরি—বলছে পানি নয় অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণেই জীবনের অবসান হবে।
জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভূ-বিজ্ঞানী ক্রিস রেইনহার্ড নিউ সায়েন্টিস্টকে বলেন, ‘অক্সিজেনের পতন হবে চরম মাত্রার। আমরা এখনকার তুলনায় প্রায় ১০ লাখ গুণ কম অক্সিজেনের কথা বলছি।’ তিনি বলেন, ‘এই গবেষণাটি বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ আমরা সৌরজগতের বাইরে বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান করছি।’
ওজাকি এবং রেইনহার্ডের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাসযোগ্য ইতিহাস গ্রহের মোট আয়ুর মাত্র ২০-৩০ শতাংশ সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ, পৃথিবীর মোট আয়ুর ২০-৩০ শতাংশ সময় ধরে অক্সিজেনের কারণে প্রাণের বিকাশ ও টিকে থাকবে। আর আমাদের বিলুপ্তির পরেও আণুবীক্ষণিক জীবন বা প্রাণ দীর্ঘকাল টিকে থাকবে।
ওজাকি বলেন, ‘অক্সিজেন কমে যাওয়ার পর বায়ুমণ্ডল উচ্চ মিথেন, নিম্ন কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ওজোন স্তরবিহীন অবস্থায় থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর পরিবেশ সম্ভবত অবায়বীয় জীবন বা প্রাণের জগতে পরিণত হবে।’

ব্রিটিশ সংগীত তারকা এড শিরানের মতো লালচে চুলের মানুষের সংখ্যা ইউরোপে বাড়ছে, এমনটি উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। একসময় স্কুলগুলোতে এমন বৈশিষ্ট্যের শিক্ষার্থীদের ‘জিঞ্জার’ বলে ঠাট্টা করা হতো, এখন তারাই যেন বিবর্তনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১২ ঘণ্টা আগে
কানের কাছে আমরা যে শব্দ শুনি, তা মূলত মশার ডানা ঝাপটানোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। মশা যখন ওড়ে, তখন তার ডানা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নড়াচড়া করে, যা একটি তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এই শব্দের সীমা খুব বেশি বড় নয়, তাই মশা যখন কানের একদম কাছে চলে আসে, তখনই আমরা সেই তীক্ষ্ণ শব্দ শুনতে পাই।
২ দিন আগে
হরমুজ প্রণালি অবরোধের মার্কিন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এক নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরান। কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক বিবৃতির বদলে এবার গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাজার ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্য চরম বিপদের সতর্কতা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
৪ দিন আগে
উগান্ডার কিবালে ন্যাশনাল পার্কে গত আট বছর ধরে চলছে শিম্পাঞ্জিদের এক রক্তক্ষয়ী ‘গৃহযুদ্ধ’। সম্প্রতি বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র মানুষের মধ্যকার গোষ্ঠীগত সহিংসতার প্রচলিত ধারণাগুলোকে নতুন করে মূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কীভাবে ২০০ সদস্যের একটি সুসংগঠিত
৫ দিন আগে