জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষে বাহাস হচ্ছে প্রায়শ। বিরোধীদের ওয়াকআউটের ঘটনাও ঘন ঘন ঘটছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৪ এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন প্রত্যাশা করে দেশের মানুষ। সেই অবস্থান থেকে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হবে, আবার ভালো কাজে উভয়ে পরস্পরের পাশে থাকবে, সেটাই কাম্য। কিন্তু আগের সময়ের মতো সংসদে যদি আবার অচলাবস্থা তৈরি হয়, সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। বিরোধী দল সংসদ থেকে বের হয়ে গেলে ক্ষতি শুধু তাদের নয়, সরকারেরও হবে। তাই ছোটখাটো বিরোধ এড়িয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সমঝোতার সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটা আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ভালো নয়। সরকার ও বিরোধী দল—দুই পক্ষই একেবারে হার্ড লাইনে চলে গেলে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়বে এবং সংসদীয় কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে গত ১২ মার্চ। সেদিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। নানা দাবিতে প্রথম অধিবেশন এবং দ্বিতীয় অধিবেশনেও একাধিকবার ওয়াকআউট করে তারা। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে আংশিক সংস্কার দাবি করে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিল দুটির আলোচনা বর্জন করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিল দুটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। তবে সভা থেকে ওয়াকআউট করা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছে বিরোধী দল। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে নাম দিলে আসনের অনুপাতে বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিলের বিষয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। অধ্যাদেশে থাকা মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা কমিয়ে পুলিশের হাতে দেওয়ার উদ্যোগে বিরোধী দলের আপত্তি যৌক্তিক। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটির সভাপতির ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘বিরোধী দলকে বারবার চাপ দিলে তা ধীরে ধীরে সংসদ বর্জনের পথ তৈরি করতে পারে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি সরকারেরই বেশি হবে।’
জাতীয় সংসদে ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি। সংবিধান অনুসারে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রথম দুই অধিবেশনে মাত্র ১৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী চলতি তৃতীয় অধিবেশনে বাকি সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন করতে হবে।
জুলাই সনদে প্রস্তাব করা হয়েছে, সরকারি হিসাব কমিটি, বিশেষ অধিকার কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে। তাতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, বিরোধী দলসহ স্বাক্ষরকারী সব দলই একমত হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ অধিকার ও সরকারি হিসাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতীতের রীতি অনুযায়ী বিশেষ অধিকার কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে এবং সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে।
সংসদীয় কমিটি গঠন নিয়ে প্রথম অধিবেশন থেকে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক একাধিক আলোচনা হয়েছে, সেটি এখনো চলছে বলে সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ গত রোববার বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতার সঙ্গে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির ফোনালাপ হয়েছিল। তা নিয়ে ওই দিন সংসদ অধিবেশনে আলোচনা হয়েছিল। আলোচনায় দুই পক্ষের অনড় অবস্থান দেখা গেছে।
সেদিন সংসদে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত অন্যান্য কমিটি সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দল সভাপতি পাবে। সে জন্য তো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হতে হবে। সংবিধান সংশোধন করা হবে।
তবে সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে সূত্রে জানা গেছে। জামায়াতের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে এখনো আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে চললে আলোচনার পথটাও আস্তে আস্তে সংকীর্ণ হয়ে যাবে। অন্যান্য সংসদের তুলনায় আমরা কমই ওয়াকআউট করেছি। তবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে না পারলে এবং সরকার আমাদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফা কাজ করলে, রাবার স্ট্যাম্প হয়ে সংসদে থাকার কোনো মানে হয় না। সে ক্ষেত্রে জনগণের অধিকার রক্ষায় আমাদের সামনে সব পথই খোলা থাকবে।’
জামায়াতের সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান বলেন, ‘যদি এমন হয় যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে তারা যা ইচ্ছা তাই করবে, তাহলে তো আর গণতন্ত্র হলো না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বিরোধীদের দিতে সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের প্রয়োজন নেই, সরকার চাইলে এখনই তা করতে পারত। বিএনপি যেহেতু সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাই তারা নানা অজুহাত খুঁজছে। সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোও বাস্তবায়ন করছে না।
বিরোধী দলের ঘন ঘন ওয়াকআউট থেকে সামনের দিনগুলোতে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের সংসদ বর্জনের আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে সংসদে সরকারদলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিরোধী দলের ওয়াকআউট করা সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি সৌন্দর্য। এটি কোনো সংসদ বর্জনের পূর্বাভাস নয়।’ তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘আমরা চাই, বিরোধী দল সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তাদের ভূমিকা রাখুক।’
দুই পক্ষ যখন এমন ঠেলাঠেলি করছে, তখন সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলছেন, সমঝোতার ঘাটতিতে সংসদীয় রাজনীতিতে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, সংসদকে প্রাণবন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটা সুখকর নয়। তাই দুই পক্ষের মধ্যে সংসদে কিংবা প্রয়োজনে সংসদের বাইরে আলাপ-সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।

এ দেশ মুক্ত হবে, এ দেশে ইনশাআল্লাহ কোরআনের আইন কায়েম হবে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আপনাকে-আমাকে নিয়ে, নাকি আপনাকে-আমাকে বাদ দিয়ে আল্লাহর আইন কায়েম হলো? আমরা যদি তাঁর সঙ্গী হতে না পারলাম, আমরা কি সৌভাগ্যবান হব? আল্লাহ তাআলা সেই সৌভাগ্যটা যেন আমাদের দান করেন...
১২ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এমন প্রস্তাব অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক।
১৮ ঘণ্টা আগে
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ...হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দু-একটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই।’
২০ ঘণ্টা আগে
প্রতিষ্ঠার পর চার দশক পেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে শেষ প্রায় দুই দশক রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকে দলটি এখন আবার ক্ষমতায়। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাস পেরোতে না পেরোতেই নানামুখী পরীক্ষায় পড়তে হচ্ছে বিএনপিকে।
১ দিন আগে