পরাজিত শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না: রিজভী

অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে কোনো অরাজক পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পরাজিত শক্তির সঙ্গে যারা আঁতাত করবে, তারা জনগণের কাছে চিহ্নিত হবে। আর যারা ককটেল বিস্ফোরণসহ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদ্যাপনে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এত রক্ত ঝরিয়ে যারা দেশকে এক ভয়ংকর বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করলে তার দায় তাদেরই নিতে হবে। এতে সরকার বা জনগণের কোনো ক্ষতি হবে না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে সংবাদ সম্মেলনে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র্যালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ এক চরম অনিশ্চয়তা, বাকশাল ও আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। ৭ নভেম্বরের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ৭ নভেম্বরের সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরে রিজভী জানান, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওই দিন বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতা-কর্মীরা। তিনি আরও জানান, দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। একই সঙ্গে সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ র্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আগামী ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা আয়োজনের একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ পোস্টার প্রকাশের পাশাপাশি ছাত্রদলসহ অন্য সহযোগী সংগঠনগুলো চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ও নানা সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন এমপি, আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, প্রচার সম্পাদক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









