নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

টানাপোড়েন ও নানা নাটকীয়তার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচনী জোট থেকে বেরিয়ে গেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটির এই জোটে না থাকার স্পস্ট আভাস গত বৃহস্পতিবার রাতেই পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানাল ১১ দলীয় জোটের অন্যতম এই শরিক দল। জোটটি এখন ১০ দলের।
জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও জানায়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টি আসনে দলীয় প্রার্থী থাকার কথাও বলেছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত আসন ভাগাভাগিতে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণেই জোট ছেড়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির প্রথমে প্রত্যাশা ছিল ১০০–এর বেশি আসন। পরে কমিয়ে ৮০টি আসন দাবি করলেও জোটের অন্য শরিকেরা ৪০–৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে চায়নি।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ইসলামের মৌলিক নীতির বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অস্পষ্ট অবস্থান ও রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।’
গাজী আতাউর বলেন, ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থী শক্তিকে একত্র করার জন্য যে চেষ্টা করেছিল ইসলামী আন্দোলন, শেষপর্যায়ে এসে সে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নীতি, আদর্শ, ইনসাফের প্রশ্নে তাঁদের দল বৈরিতার শিকার হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টি আসনে আমাদের প্রার্থী রয়েছেন। বাকি ৩২টি আসন বর্তমানে ফাঁকা আছে। তবে সেই আসনগুলোতেও আমরা সমর্থন দেব। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, ঠিক কাদের আমরা সমর্থন দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের নীতি, আদর্শ এবং লক্ষ্যের সঙ্গে যাঁদের মিল থাকবে, তেমন যোগ্য প্রার্থীদেরই আমরা সমর্থন জানাব।’
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ পরিচালনা করবে কি না-এমন প্রশ্নে তাদের আমির জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে তাঁরা প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের বর্তমান দুর্দশার মূল কারণ হলো বিদ্যমান আইন। সেই আইন পরিবর্তনের জন্যই আমাদের রাজনীতি। যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে আমাদের উদ্বেগ জন্মায়। আমরা নীতির রাজনীতি করি এবং মৌলিক নীতি নিয়ে যখন ভিন্নমত তৈরি হয়, তখন তাদের সঙ্গে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নেই।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত যে আগামী দিনে আসলে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না। আমাদের মধ্যে এই আশঙ্কা প্রবল হয়েছে যে, আমাদের সঙ্গে ঐক্য করে পর্দার আড়ালে বা তলে তলে অন্য কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না।’ তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি বলে তাঁরা মনে করছেন। জনগণ পরিস্থিতি উপলব্ধি করছে। তাঁদের কাছেও বিভিন্ন দিক থেকে নানা ধরনের সংবাদ আসছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে কী ধরনের পরিকল্পনা বা সমন্বয় করা হচ্ছে, তা তাঁদের কাছে এখনো অস্পষ্ট।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি, নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট আট দল। ডিসেম্বরের শুরুতে রাজধানীর পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘এক বাক্স’ নীতিতে আসন সমঝোতার জোটের ঘোষণা করে আট দল। পরে এলডিপি, এবি পার্টি ও এনসিপি যোগ দেওয়ায় জোটের শরিক দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণার কথা থাকলেও আলোচনা শেষ না হওয়ায় সে ঘোষণা আসেনি।
জোটসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই একশ’র বেশি আসন প্রত্যাশা করে আসছিল। কিন্তু জোটের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫টি আসনের প্রস্তাব করা হয়। সবশেষ ইসলামী আন্দোলন ৮০টি আসন দাবি করেছিল, কিন্তু তাদের সে প্রত্যাশাও পূরণে রাজি হয়নি জোটের অন্য শরিকেরা। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেও সমাধান হয়নি। বেঁকে বসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই চূড়ান্ত বৈঠক করে জোটের অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক থেকে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে মধ্যস্থতার দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বেলা ৩টায় বৈঠক শেষে রাত আটটায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হয়। পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন না আসায় তাদের ছাড়াই ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা করেন অন্য দলগুলোর নেতারা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দেয়। এই সংবাদ সম্মেলনে দলটি জোট ছাড়ার ঘোষণা দিল।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের অভিযোগের বিষয়ে জামায়তে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আচরণ করে থাকে। কারও সঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করে না। তিনি বলেন, গাজী আতাউর রহমান ‘আল্লাহর আইন ও ইসলামী আদর্শ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন দিকে চলে গেছে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তাও সঠিক নয়। তাঁরা মনে করেন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
অবশিষ্ট ৪৭ আসনের ৩১টি নিল জামায়াত
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বৃহস্পতিবার জোটের সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩টি আসনে সমঝোতার ঘোষণা করেন। ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ায় বাকি ৪৭টি আসনের কয়টি কোন দল পাবে তা নিয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র বলছে, জামায়াতে ইসলামী বাকি আসনগুলো থেকে ৩১টি আসন নেবে। অর্থাৎ জামায়াত মোট ২১০ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। বাকি ১৬টি আসন জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

টানাপোড়েন ও নানা নাটকীয়তার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচনী জোট থেকে বেরিয়ে গেল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটির এই জোটে না থাকার স্পস্ট আভাস গত বৃহস্পতিবার রাতেই পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানাল ১১ দলীয় জোটের অন্যতম এই শরিক দল। জোটটি এখন ১০ দলের।
জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও জানায়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টি আসনে দলীয় প্রার্থী থাকার কথাও বলেছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত আসন ভাগাভাগিতে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণেই জোট ছেড়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির প্রথমে প্রত্যাশা ছিল ১০০–এর বেশি আসন। পরে কমিয়ে ৮০টি আসন দাবি করলেও জোটের অন্য শরিকেরা ৪০–৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে চায়নি।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ইসলামের মৌলিক নীতির বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অস্পষ্ট অবস্থান ও রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।’
গাজী আতাউর বলেন, ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থী শক্তিকে একত্র করার জন্য যে চেষ্টা করেছিল ইসলামী আন্দোলন, শেষপর্যায়ে এসে সে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নীতি, আদর্শ, ইনসাফের প্রশ্নে তাঁদের দল বৈরিতার শিকার হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টি আসনে আমাদের প্রার্থী রয়েছেন। বাকি ৩২টি আসন বর্তমানে ফাঁকা আছে। তবে সেই আসনগুলোতেও আমরা সমর্থন দেব। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, ঠিক কাদের আমরা সমর্থন দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের নীতি, আদর্শ এবং লক্ষ্যের সঙ্গে যাঁদের মিল থাকবে, তেমন যোগ্য প্রার্থীদেরই আমরা সমর্থন জানাব।’
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ পরিচালনা করবে কি না-এমন প্রশ্নে তাদের আমির জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে তাঁরা প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের বর্তমান দুর্দশার মূল কারণ হলো বিদ্যমান আইন। সেই আইন পরিবর্তনের জন্যই আমাদের রাজনীতি। যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে আমাদের উদ্বেগ জন্মায়। আমরা নীতির রাজনীতি করি এবং মৌলিক নীতি নিয়ে যখন ভিন্নমত তৈরি হয়, তখন তাদের সঙ্গে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নেই।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত যে আগামী দিনে আসলে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না। আমাদের মধ্যে এই আশঙ্কা প্রবল হয়েছে যে, আমাদের সঙ্গে ঐক্য করে পর্দার আড়ালে বা তলে তলে অন্য কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না।’ তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি বলে তাঁরা মনে করছেন। জনগণ পরিস্থিতি উপলব্ধি করছে। তাঁদের কাছেও বিভিন্ন দিক থেকে নানা ধরনের সংবাদ আসছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে কী ধরনের পরিকল্পনা বা সমন্বয় করা হচ্ছে, তা তাঁদের কাছে এখনো অস্পষ্ট।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি, নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট আট দল। ডিসেম্বরের শুরুতে রাজধানীর পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘এক বাক্স’ নীতিতে আসন সমঝোতার জোটের ঘোষণা করে আট দল। পরে এলডিপি, এবি পার্টি ও এনসিপি যোগ দেওয়ায় জোটের শরিক দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণার কথা থাকলেও আলোচনা শেষ না হওয়ায় সে ঘোষণা আসেনি।
জোটসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই একশ’র বেশি আসন প্রত্যাশা করে আসছিল। কিন্তু জোটের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫টি আসনের প্রস্তাব করা হয়। সবশেষ ইসলামী আন্দোলন ৮০টি আসন দাবি করেছিল, কিন্তু তাদের সে প্রত্যাশাও পূরণে রাজি হয়নি জোটের অন্য শরিকেরা। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেও সমাধান হয়নি। বেঁকে বসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই চূড়ান্ত বৈঠক করে জোটের অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক থেকে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে মধ্যস্থতার দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বেলা ৩টায় বৈঠক শেষে রাত আটটায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হয়। পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন না আসায় তাদের ছাড়াই ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা করেন অন্য দলগুলোর নেতারা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দেয়। এই সংবাদ সম্মেলনে দলটি জোট ছাড়ার ঘোষণা দিল।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের অভিযোগের বিষয়ে জামায়তে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আচরণ করে থাকে। কারও সঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করে না। তিনি বলেন, গাজী আতাউর রহমান ‘আল্লাহর আইন ও ইসলামী আদর্শ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন দিকে চলে গেছে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তাও সঠিক নয়। তাঁরা মনে করেন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
অবশিষ্ট ৪৭ আসনের ৩১টি নিল জামায়াত
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বৃহস্পতিবার জোটের সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩টি আসনে সমঝোতার ঘোষণা করেন। ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ায় বাকি ৪৭টি আসনের কয়টি কোন দল পাবে তা নিয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র বলছে, জামায়াতে ইসলামী বাকি আসনগুলো থেকে ৩১টি আসন নেবে। অর্থাৎ জামায়াত মোট ২১০ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। বাকি ১৬টি আসন জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে দুই দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তিনি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও গাইবান্ধা ভ্রমণ করবেন।
১ ঘণ্টা আগে
বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
কোনো একক দলের নয়, শেষ পর্যন্ত দেশ ও জনগণের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন সম্প্রতি প্রয়াত বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় এটিই ছিল বক্তাদের কথার অন্যতম মূল সুর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শোকসভার আয়োজন করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
৩ ঘণ্টা আগে