আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতায় ইশরাককে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে: আখতার হোসেন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণে ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন এ মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এটি স্পষ্ট। বিভিন্ন জায়গায় মাদক, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ইশরাক-কাণ্ডের মধ্য দিয়ে আবার সামনে এসেছে।
এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের মাদক নির্মূলের জন্য যেসব সংস্থা রয়েছে, সেগুলো অকার্যকর অবস্থায় আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অকার্যকর অবস্থায় আছে। বাংলাদেশের সীমান্ত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কারণ যেসব মাদক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, সেগুলো প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের যোগসাজশ রয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আখতার। তিনি বলেন, ইশরাকের পদত্যাগ কী শুধু অস্ত্র সামনে নিয়ে আসার বিষয়, নাকি এর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরও কোনো বিষয় রয়েছে? সে প্রশ্নও সামনে আসছে।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় ফাঁদে পড়লেন ইশরাক হোসেন। তিনি নতুনভাবে রাজনীতিতে নেমেছেন। মাদকের বিষয়টি যাতে বন্ধ হয়, তিনি সে চেষ্টা করছিলেন।
নাসীরুদ্দীন এ বিষয়ে আরও বলেন, সমস্যাটা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। গুলি কেন খেলেন ইশরাক ভাই? অর্থাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করেন, আরেকজন এই পাপে ভোগেন। এটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা।
এদিন এনসিপির নেতারা শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেন। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম এবং যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ।
এ সময় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতারা তাঁদের স্বাগত জানান। শুরুতে পুরো মণ্ডপের পূজা অর্চনা ও সমগ্র আয়োজন ঘুরে দেখেন এনসিপি নেতারা। পরে তাঁরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘কোনো দলের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হবেন না হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। যারা বিভিন্ন সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হীন স্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং তাদের সম্পত্তি দখল করেছে তাদেরকে আমরা অশুভ শক্তি হিসেবে বলতে চাই। তারা এই দেশের জন্য ক্ষতিকর। এই অশুভ শক্তির বিনাশে কাজ করতে হবে।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেকের সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে, অনেকে মনে কষ্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের সবার সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে কাজ করব। আপনাদের এই লড়াইয়ে আমরা অংশীজন হিসেবে থাকব সবসময়। এছাড়াও বর্তমানে সরকারে যারা রয়েছেন তারাও যেন এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় সেটা আমরা সংসদে এবং রাজপথে সর্বত্র বলব।’
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে এনসিপি সম্প্রতি ন্যাশনাল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান এলায়েন্স গঠন করেছে। দেশের সবাই একেকজন নাগরিক হিসেবে সমমর্যাদা নিয়ে যেন থাকতে পারে সেই লড়াইটা সেই রাজনীতিটা আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে করে আসছি।’










