Ajker Patrika

সমঝোতার চাঁদা: একই যুক্তি অন্য খাতেও প্রয়োগের আশঙ্কা টিআইবির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৪৬
সমঝোতার চাঁদা: একই যুক্তি অন্য খাতেও প্রয়োগের আশঙ্কা টিআইবির
ছবি: সংগৃহীত

সড়কে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে একই যুক্তি অন্যান্য খাতেও প্রয়োগের পথ খুলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, চাঁদাবাজির মতো একটি অপরাধকে ভিন্ন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা দুর্নীতিবিরোধী ঘোষিত অবস্থানের পরিপন্থী। টিআইবির মতে, এতে শুধু পরিবহন খাত নয়, রাষ্ট্রীয় সেবা ও উন্নয়ন ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুর্নীতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার প্রবণতা শক্তিশালী হতে পারে।

বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, নবগঠিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সেই ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবহন খাতে বহুল আলোচিত চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পরিবহনমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন তা দুর্নীতিবিরোধী ঘোষিত অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকার প্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে। সেই অঙ্গীকারের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা না যেতেই চাঁদাবাজির মতো একটি অনৈতিক ও যোগসাজশমূলক অপরাধকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন অত্যন্ত হতাশাজনক।’

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সড়ক ও পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের চাঁদা সংস্কৃতিকে মালিক-শ্রমিক কল্যাণের যুক্তিতে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা বিভ্রান্তিকর। এতে প্রকৃত সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যকে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা শক্তিশালী হতে পারে। চাঁদাবাজির বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ওপরই বর্তায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, সড়কে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে একই যুক্তি অন্য খাতেও প্রয়োগের পথ খুলে যেতে পারে। বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন সেবা খাত এবং সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় সুশাসন ও জবাবদিহি কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই দুর্নীতি প্রতিরোধে আন্তরিক হয়, তবে অনতিবিলম্বে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহনমন্ত্রী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় জনমনে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত