নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা থাকব। আমরা উনাকে সহায়তা করার জন্য থাকব। সিদ্ধান্ত পার্টিকুলার কেউ নেবে না। এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন। আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন হলে উনি পরামর্শ করবেন এবং আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেখানে আমরা দৃঢ় থাকব। সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত হবে।’
আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অনৈক্যের বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে, ঐকমত্য কমিশন দুইটা বিকল্প দিয়েছে। একটা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ—তারপর গণভোট; এরপরে ২৭০ দিনের মধ্যে না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে। এ রকম কোনো নজির আছে কি না বা এটা আদৌ সম্ভব কি না, এটা আমরা দেখব। আরেকটা হচ্ছে, এই দায়দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। এই দুইটা বিকল্পের মধ্যে কোনটা আসলে বেশি গ্রহণযোগ্য, সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। আর গণভোট কবে হবে, সেটা নিয়ে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বোধ হয়।’
গণভোট নিয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার তীব্র বিরোধ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। ২৭০ দিন যাবৎ আলাপ-আলোচনার পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যে যে অনৈক্যের সুর দেখছি, এটা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে কীভাবে সমঝোতার দলিল পাস হবে? এটা খুব দুরূহ একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে এনে দিয়েছে।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘উনাদের (রাজনৈতিক দল) তো আসলে ঐকমত্য হয় নাই। কিছু ভাইটাল (গুরুত্বপূর্ণ) প্রশ্নে এর আগে আমরা জেনেছিলাম, কনটেন্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। যে সংস্কার হবে, সেই বিষয়বস্তু নিয়ে বিরোধ ছিল। এখন আবার দেখলাম, আরও দুই ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। একটা হচ্ছে, এটা (জুলাই সনদ) কী পদ্ধতিতে পাস করা হবে; আরেকটা হচ্ছে এর জন্য গণভোট হলে গণভোট কবে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এসব ব্যাপারে একটা সময় সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধান উপদেষ্টা।’
এ সময় মতানৈক্য থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিরোধ এত দৃঢ় এবং পরস্পরবিরোধী—কী বলব? যে উত্তেজিত ভূমিকা নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল, আপনারা যদি এ রকম একটা ভূমিকা নেন, তাহলে সরকার কী করবে? আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না। এত দিন আলোচনার পর যদি আপনাদের মধ্যে ঐকমত্য না আসে, আমরা আসলে এখন কীভাবে কী করব—এটা নিয়ে সত্যি আমাদের একটু চিন্তা করতে হচ্ছে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর আলটিমেটাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেওয়ার জন্য আমাদের আলটিমেটাম বেঁধে দেয় বা জোর করে, তার মানে হচ্ছে উনাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই এবং উনারা চাচ্ছেন, উনাদের দলীয় পজিশনটা যেন এই সরকার আপহোল্ড (সমুন্নত) করে—এটা দুর্ভাগ্যজনক। উনাদেরকে তো যথেষ্ট আলোচনার সময় দেওয়া হয়েছে। উনারা যে অনৈক্য দেখাচ্ছেন, জুলাই স্পিরিটকে উনারা কোথায় নিয়ে গেছেন—এটা উনাদের বিবেচনা করা উচিত।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা তো কমিশনের সুপারিশ নিয়েছি। সুপারিশটা আমরা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেখানে সরকারের স্বাধীনতা রয়েছে। এটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
আরও খবর পড়ুন:

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা থাকব। আমরা উনাকে সহায়তা করার জন্য থাকব। সিদ্ধান্ত পার্টিকুলার কেউ নেবে না। এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন। আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন হলে উনি পরামর্শ করবেন এবং আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেখানে আমরা দৃঢ় থাকব। সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত হবে।’
আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘অনৈক্যের বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে, ঐকমত্য কমিশন দুইটা বিকল্প দিয়েছে। একটা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ—তারপর গণভোট; এরপরে ২৭০ দিনের মধ্যে না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে। এ রকম কোনো নজির আছে কি না বা এটা আদৌ সম্ভব কি না, এটা আমরা দেখব। আরেকটা হচ্ছে, এই দায়দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। এই দুইটা বিকল্পের মধ্যে কোনটা আসলে বেশি গ্রহণযোগ্য, সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। আর গণভোট কবে হবে, সেটা নিয়ে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বোধ হয়।’
গণভোট নিয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার তীব্র বিরোধ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। ২৭০ দিন যাবৎ আলাপ-আলোচনার পর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যে যে অনৈক্যের সুর দেখছি, এটা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে কীভাবে সমঝোতার দলিল পাস হবে? এটা খুব দুরূহ একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে এনে দিয়েছে।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘উনাদের (রাজনৈতিক দল) তো আসলে ঐকমত্য হয় নাই। কিছু ভাইটাল (গুরুত্বপূর্ণ) প্রশ্নে এর আগে আমরা জেনেছিলাম, কনটেন্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। যে সংস্কার হবে, সেই বিষয়বস্তু নিয়ে বিরোধ ছিল। এখন আবার দেখলাম, আরও দুই ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। একটা হচ্ছে, এটা (জুলাই সনদ) কী পদ্ধতিতে পাস করা হবে; আরেকটা হচ্ছে এর জন্য গণভোট হলে গণভোট কবে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এসব ব্যাপারে একটা সময় সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধান উপদেষ্টা।’
এ সময় মতানৈক্য থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিরোধ এত দৃঢ় এবং পরস্পরবিরোধী—কী বলব? যে উত্তেজিত ভূমিকা নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল, আপনারা যদি এ রকম একটা ভূমিকা নেন, তাহলে সরকার কী করবে? আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না। এত দিন আলোচনার পর যদি আপনাদের মধ্যে ঐকমত্য না আসে, আমরা আসলে এখন কীভাবে কী করব—এটা নিয়ে সত্যি আমাদের একটু চিন্তা করতে হচ্ছে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর আলটিমেটাম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেওয়ার জন্য আমাদের আলটিমেটাম বেঁধে দেয় বা জোর করে, তার মানে হচ্ছে উনাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই এবং উনারা চাচ্ছেন, উনাদের দলীয় পজিশনটা যেন এই সরকার আপহোল্ড (সমুন্নত) করে—এটা দুর্ভাগ্যজনক। উনাদেরকে তো যথেষ্ট আলোচনার সময় দেওয়া হয়েছে। উনারা যে অনৈক্য দেখাচ্ছেন, জুলাই স্পিরিটকে উনারা কোথায় নিয়ে গেছেন—এটা উনাদের বিবেচনা করা উচিত।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা তো কমিশনের সুপারিশ নিয়েছি। সুপারিশটা আমরা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেখানে সরকারের স্বাধীনতা রয়েছে। এটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
আরও খবর পড়ুন:

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
১৩ ঘণ্টা আগে
পোস্টে প্রেস সচিব লিখেছেন, ‘শহীদ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে আমার মনে হচ্ছে তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ভীষণ একা হয়ে পড়েছেন। একত্রে এই দুই নেতা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম এক সম্মানিত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সহমর্মিতা এবং নীরবে ধৈর্য ধরার ক্ষমতার...
১৫ ঘণ্টা আগে
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু জানান, রাজধানীতে নিজ বাসায় বর্ষীয়ান এ রাজনীতিকের মৃত্যু হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে সারা দেশে অন্তত ৪২৮টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। ২০২৪ সালে গণপিটুনির ১৬৯টি ঘটনায় নিহত হয়েছিল ১৪৬ জন এবং আহত ছিল ১২৬ জন। আর ২০২৫ সালে গণপিটুনিতে ১৬৬ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৪৬০ জন। ২২০ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গণপিটুনির ঘটনায় আহত
১৭ ঘণ্টা আগে