Ajker Patrika

রূপপুরের পরমাণু বিদ্যুৎ মিলবে কবে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৪০
রূপপুরের পরমাণু বিদ্যুৎ মিলবে কবে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: এএফপি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদারণ চুল্লিতে জ্বালানি শলাকা স্থাপন শুরুর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো পরমাণু বিদ্যুতের আলোকচ্ছটা দেখার ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। প্রায় ৯ বছরের নির্মাণকাজ শেষে সংবেদনশীল পরমাণু জ্বালানি স্থাপনের এই প্রক্রিয়াকে নির্মাণ পর্ব থেকে উৎপাদন পর্বের রূপান্তর হিসেবে অভিহিত করছেন বিজ্ঞানীরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল লোড বা জ্বালানি স্থাপন শুরু হয়, যা শেষ হতে ৩০ থেকে ৩৫ দিন লাগতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। এই সময়ের মধ্যে চুল্লিতে স্বল্পমাত্রার ইউরেনিয়াম ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রড বা শলাকার ১৬৩টি বান্ডিল স্থাপন করা হবে। স্টিল ও হারমোনিয়ামের তৈরি ৪ দশমিক ৬ মিটার লম্বা ও ৭৫০ কেজি ওজনের একটি রডের মধ্যে ৫৩৪ কেজি ইউরেনিয়াম অক্সাইড থাকে।

সাড়ে ৪ থেকে ৫ গ্রাম ওজনের ইউরেনিয়াম পেলেট রড বা শলাকার মধ্যে স্থাপন করা হয়। প্রতিটি ৭৫০ কেজি ওজনের এ রকম ৩১২টি রড একত্র করে তৈরি করা হয় একেকটি বান্ডিল বা ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল। সেই হিসাবে একটি ইউরেনিয়াম বান্ডিলের ওজন দাঁড়ায় ১৬৬ দশমিক ৬০৮ টন। এক মাসে এ ধরনের ১৬৩টি বান্ডিল বা অ্যাসেম্বল স্থাপন করা হবে চুল্লিতে। অর্থাৎ একেকটি চুল্লিতে মোট ২৭ হাজার ১৫৭ দশমিক ১০৫ টন জ্বালানি স্থাপন করা হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও পরমাণুবিজ্ঞানী ড. শৌকত আকবর বলেন, নির্মাণ পর্যায়ে ছিল সেফটি বা নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিউক্লিয়ার সিকিউরিটির প্রশ্ন। এখানে ক্যামেরা সেট করা আছে, যা দিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থা (আইএইএ) দেখতে পাচ্ছে যে কীভাবে কোন দিকে ফুয়েল মুভ করছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি, নিউক্লিয়ার সেফটি, রেডিওলজিক্যাল (বিকিরণ) সেফটি, নিউক্লিয়ার সেফগার্ডস এবং নিউক্লিয়ার ইমার্জেন্সি। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আলোকে এসব নিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা করা দরকার সব করা হবে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ড. শৌকত আকবর বলেন, আগে ডামি ফুয়েল লোড করার পর যতগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, সেগুলো এখন ধাপে ধাপে আবার করা হবে। সব পরীক্ষা শেষে বিদারণ প্রক্রিয়ায় (ফিশন) শৃঙ্খলিত বিভাজন (চেইন রিঅ্যাকশন) ঘটিয়ে চুল্লিতে তাপ উৎপাদন শুরু হবে। জ্বালানি স্থাপনের পর তাপ ও বাষ্প উৎপাদন শুরু করতে ২৯ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে চুল্লি থেকে অন্তত ১ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

ধাপে ধাপে পরীক্ষা

পরমাণুবিজ্ঞানী ড. শৌকত আকবর বলেন, জ্বালানি স্থাপনের পর থেকে কার্যক্রম এক ধাপ করে সামনে এগোবে, আর বেশ কিছু নিরাপত্তা যাচাই শুরু হবে। এভাবে ৩ শতাংশ অগ্রগতির পর পরীক্ষা, ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ অগ্রগতির পর বারবার পরীক্ষা করা করা হবে। বিষয়টি এভাবেই এগোবে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ এনে পারমাণবিক চুল্লি ও প্ল্যান্টের অন্যান্য প্রয়োজনগুলো পূরণ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রাথমিক ধাপগুলো অতিক্রমের সময় যে বিদ্যুৎ আসবে, তা প্ল্যান্টের কাজে লাগিয়ে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার চাহিদা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

রূপপুরের ভিভিআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর বা চুল্লির মডেল অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সক্রিয়তা অর্জন করার পর টারবাইন থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন বা গ্রিডে যোগ করা শুরু হবে বলে জানান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের এই সাবেক চেয়ারম্যান।

এই জায়গায় পৌঁছাতে ফুয়েল লোডিং শুরুর দিন থেকে অন্তত তিন মাস অতিবাহিত হয় জানিয়ে ড. শৌকত আকবর বলেন, আগস্টে হয়তো গ্রিড টেস্ট করা যাবে। এটা হলো ভিভিআর স্ট্যান্ডার্ড।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, পরীক্ষার ধাপগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুরোমাত্রায় বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়া শুরু হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত