শ্যালকের অবৈধ সম্পদের মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক এসবিপ্রধান মনিরুল

শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও হাজার কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলামকে আসামি করে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই অভিযোগে মনিরুলের স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা এবং শ্যালক শাহীন ও তাঁর স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে পৃথক দুটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
আজ সোমবার দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মোজাম্মিল হোসেন মামলা অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এক হাজার ৪৫ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৮ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব হিসাবে ওই সময়ে ৫২৭ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলন করা হয়। দুদকের অভিযোগ, ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে শাহীন এসব সম্পদ অর্জন ও লেনদেন করেছেন।
এ ঘটনায় শাহীনের বোন সায়লা ফারজানা এবং তাঁর স্বামী সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামকেও আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সায়লা ফারজানা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব।
অন্যদিকে, শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামেও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৫ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৫৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ পেয়েছে দুদক।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, টুম্পার ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, স্বামী শাহীন, তাঁর বোন সায়লা ফারজানা ও ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলামের ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে টুম্পার নামে সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক লেনদেন করা হয়েছে। এ মামলায় টুম্পা, শাহীন, সায়লা ফারজানা ও মনিরুল ইসলামকে আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুই মামলাতেই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অভিযোগ আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।









