Ajker Patrika

প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি

দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সব ধর্মের মানুষের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আগামী ২৫ অক্টোবর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা এবং এরপর মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উপলক্ষে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনার স্বাধীনতা রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ অপকর্ম করে পার পাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমা কিংবা পরিচালনা কমিটি-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধকে ধর্মীয় হামলা হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন ও চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস ওড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। তাঁরা সারা দেশের বৌদ্ধবিহারগুলোর তালিকা মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, তালিকা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত