Ajker Patrika

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবে উঠে এল যাঁদের নাম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৫: ২১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবে উঠে এল যাঁদের নাম
ফাইল ছবি

স্পিকার নির্বাচনের পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই শোকপ্রস্তাব উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে যায় সংসদ।

প্রথম দিনের অধিবেশনে খালেদা জিয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের কথা আগে থেকেই কার্যসূচিতে ছিল। পরে চিফ হুইপ জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব করেন; যা স্পিকার গ্রহণ করেন।

আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন এবং শোকপ্রস্তাব উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম দিনের কার্যক্রম সাজানো হয়। এর আগে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে দিনের প্রথম ভাগে অধিবেশন শুরু হয়। পরে স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কায়সার কামাল নির্বাচিত হন।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়। বিরতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। পরে মাইক বিভ্রাট ও নামাজের বিরতির পর বেলা দেড়টার দিকে আবার অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে। অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর সংসদে একে একে শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রথম দিনের এই অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বহু সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

সংসদে উপস্থাপিত শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের দুবারের বিরোধীদলীয় নেতা, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন’ বেগম খালেদা জিয়াকে হারিয়েছে দেশ। প্রস্তাবে বলা হয়, তাঁর মৃত্যুতে ‘মহান জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।’

একই অধিবেশনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে পৃথক শোকপ্রস্তাব আনা হয়। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ ৬২ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের প্রস্তাবও সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

তালিকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, শহীদুল্লাহ শহীদ, অ্যাডভোকেট মো. নাদিম মোস্তফা, অধ্যাপিকা নূরুন নেসা হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, মতিয়া চৌধুরী, শহিদুজ্জামান বেল্টু, রওজি কবির, এস এম আকরাম, মেজর জেনারেল অব. কে এম সফিউল্লাহ, আবদুল মোমিন তালুকদার, আবদুল্লাহ আল নোমান, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, কর্নেল অব. এম আনোয়ারুল আজিম, মখদুমা মহিউদ্দিন মিঠু, মো. আবদুল মান্নান তালুকদার, ইফতিখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, মো. হাফেজ মুহাম্মদ আমিন মাদানী, বোরহান উদ্দিন, শহিদার হাসান তারেক, মেজর জেনারেল অব. মাহমুদ হাসান, রমেশ চন্দ্র সেন, মিরা আজমত, জিয়াউদ্দিন বাবলু, সুকুমার রঞ্জন ঘোষসহ অন্যদের নাম রয়েছে।

সংসদে উপস্থাপিত আরেক শোকপ্রস্তাবে ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের অগাস্ট পর্যন্ত গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিহতদের স্মরণ করা হয়। সেখানে বলা হয়, গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গোপন ও ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন বহু মানুষ।

একই প্রস্তাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, বীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, মেহেদী হাসান জুনায়েদ, ফাইয়াজসহ আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতিও শোক জানানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, গত ১১ জুলাই ২০২৫ উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু মানুষ নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংসদ তাঁদের প্রতিও শোক প্রকাশ করে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট নুসরাত শারমিন মোরী, উপপরিচালক রিপোর্টিং মোহাম্মদ হুসান, সহকারী পরিচালক গণসংযোগ মাহফুজা বেগম এবং অফিস সহায়ক মো. আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে আলাদা শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

শোকপ্রস্তাবে দেশের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাবিষয়ক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক অঙ্গনের আরও অনেক বিশিষ্টজনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শাফিন আহমেদ, অধ্যাপক আবু জাফর, এ কে হাসান আরিফ, প্রবীর মিত্র, অধ্যাপক আনিসুর রহমান, ইমান আলী আহমেদ চৌধুরী, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, শহীদ রফিক, সুষমা দাশ, ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, হামিদুজ্জামান খান, হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল, অধ্যাপক এম শমশের আলী, মতিন সরকার, ফরিদা পারভীন, আহমদ রফিক, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বিচারপতি আব্দুর রউফ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, এম হাফিজ উদ্দিন খান এবং কানিজ ফাতেমা।

প্রস্তাবে বলা হয়, উপস্থাপিত শোকপ্রস্তাবগুলোর বাইরে যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তাঁদের নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত সংসদ সচিবালয়ে পাঠালে পরবর্তীতে শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে শোকপ্রস্তাব

খালেদা জিয়াকে নিয়ে শোকপ্রস্তাবে যা বললেন স্পিকার বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আনা দীর্ঘ শোকপ্রস্তাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক ভূমিকা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ‘তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ এবং ‘জাতীয় সংসদের দুবারের বিরোধীদলীয় নেতা’ ছিলেন। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট দিনাজপুর জেলার জলপাইতলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো।

প্রস্তাবে বলা হয়, স্বামী জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তিনি রাজনীতিতে আসেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন হয়ে ওঠেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে জয় এনে দিয়ে সরকার গঠন করেন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

তাঁর সরকারের সময় মেয়েদের শিক্ষার প্রসার, বিনা মূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, স্কুলে টিফিনের ব্যবস্থা, ক্ষুদ্রঋণ ও নারীশিক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের কথা প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কম্পিউটার চালু, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

শোকপ্রস্তাবে আরও বলা হয়, তার শাসনামলে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় এবং যমুনা নদীর ওপর দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প যমুনা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রস্তাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দুঃসময়ের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট পাঁচবার কারাবরণ করেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং পরে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে কারাবন্দী রাখা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া সব ‘মিথ্যা মামলা’ থেকে মুক্ত হন। পরে বাক্‌শক্তি হারালেও তাঁর চিন্তা, দর্শন, প্রতিভা, সংযম, প্রজ্ঞা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা জাতির জীবনে প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে শোকপ্রস্তাবের শেষাংশে বলা হয়, ‘বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সর্বোপরি জননন্দিত সরকার প্রধান ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক দিনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।’

মনমোহন সিং, পোপ ফ্রান্সিস, খামেনিকে নিয়ে শোকপ্রস্তাব

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে আনা শোকপ্রস্তাবে তাঁকে ‘একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সুনামধন্য অর্থনীতিবিদ, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতের অর্থনৈতিক উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ ও বিশ্বায়ন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

পোপ ফ্রান্সিসকে নিয়ে শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, তিনি ছিলেন, ‘বিশ্বের একজন মানবতাবাদী নেতা, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব, ক্যাথলিক ধর্মগুরু ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক।’ তাঁর নেতৃত্বে ধর্মীয় সহনশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকারের পক্ষে অবদানের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে আনা শোকপ্রস্তাবে তাঁকে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করেছে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

অধিবেশনে জানানো হয়, এসব শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবার বা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে।

পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম শোক প্রস্তাবের জন্য জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেন। পরে স্পিকার সেটা অনুমোদন করেন।

পরে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান মাইক নেন। তিনি বলেন, শোক প্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো বলার জন্য বিরোধী উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে অনুরোধ করেন। পরে তাহেরকে মাইক দেন স্পিকার।

পরে তাহের বলেন, শোকপ্রস্তাব একটি দুঃখের বিষয়। প্রস্তাবনাটি একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত করতে হলে আরও সচেতন হওয়া দরকার।

এ সময় কিছু সংসদ সদস্য ও সমাজের গণমান্য ব্যক্তির নাম বাদ পড়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, শহীদ মাওলানা আবদুস সোবহান, মরহুম শেখ আনছার আলী, মরহুম রিয়াসাত আলী, মরহুম আবদুল খালেক মণ্ডল, হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, শহীদ আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, অধ্যাপক নাজির আহমেদ, শহীদ কামারুজ্জামান, শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা, শহীদ মীর কাসেম আলী।

তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের জামায়াতে ইসলামী বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটা হবে হেফাজতে ইসলামী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ২ হাজার শহীদ, শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যাঁদের নাম বলেছেন, তাঁদের নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম আরও শোকপ্রস্তাবের জন্য আরও কয়েকটি নাম যুক্ত করেন। তাঁরা হলেন গৌতম চক্রবর্তী, এম এ মতিন, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, আনোয়ারুল হোসেন খান এবং এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকারের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ। তিনি অন্যকোনো এমপির নাম বাদ পড়লে সংসদ সচিবালয়কে জানানো অনুরোধ করেন।

পরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নেন। তিনি বলেন, ‘শোকপ্রস্তাবে শরিফ ওসমান বিন হাদীর নাম যুক্ত করার প্রস্তাব করছি। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম শহীদ আবরার ফাহাদের নাম প্রস্তাব করছি।’ শহীদ ফেলানীর নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, নামগুলো শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। শোকপ্রস্তাবের নাম গ্রহণের আগে প্রয়াত খালেদা জিয়া ও শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের ওপর আলোচনা হবে।

শোকপ্রস্তাবে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলায় নিহত ও ২০০৯ সালে পিলখানায় শহীদদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব করেন স্পিকার।

এছাড়াও শোক প্রস্তাবে আরও কিছু নাম সংযোজিত হবে বলে জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁরা হলেন ছালেহা খানম, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কামাল ইবনে ইউসুফ, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ডেমু বদলে হচ্ছে কমিউটার, নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন

যে ফাঁদ এড়িয়ে হাজার বছর টিকে ছিল বাইজেনটাইন সাম্রাজ্য, ইরানে সেই ফাঁদে ট্রাম্প

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু, বিরোধীদের হট্টগোল ও ওয়াক আউট

হামলায় মোজতবা খামেনির মুখে আঘাত, পায়ের হাড়ে চিড়

‘টাকা খাওয়ার’ কথা বলতেই পলাতক ফারুক চৌধুরী বললেন, ‘তুই সামনে পড়িস’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত