Ajker Patrika

স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৪০
স্বৈরাচার পয়সা দিচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যে স্বৈরাচার দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং এই দেশের ভেতর আরেক পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসামাঠের জনসভায় এ কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই—পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে; এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

জনগণ তাদের টিকিট খায় না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল। সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন বলেছিল—রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হলে মা-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের তো কিছু যায়-আসে না। আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড চালু করব কি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকে, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী পাঁচ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। সেসব ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা একাত্তর সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, দেশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদের স্মরণে আমরা গতকাল ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। বিএনপি একাত্তরকে ধারণ করে, বিএনপি চব্বিশকে ধারণ করে। চব্বিশকে ধারণ করে বলেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে চব্বিশকে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলের কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ, একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি—চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে, তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজ, প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত