Ajker Patrika

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি: ক্রাচে ভর দিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মেসবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ২৫
ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি: ক্রাচে ভর দিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মেসবাহ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত

‘মেরুদণ্ডে সমস্যা থাকার কারণে ক্রাচ ব্যবহার করছিলাম। আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলাম। পুলিশের লাঠিচার্জ সত্ত্বেও আমার অবস্থান থেকে সরিনি। পুলিশ আমার ওপরেও লাঠিচার্জ করে।’

আজ সোমবার জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এলাকায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আসামি।

মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ জবানবন্দিতে বলেন, তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, জুনাইদ আহমেদ পলকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মেসবাহ উদ্দীন বলেন, ১৮ জুলাই সকাল ১০টায় কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ বাধা দেয়। প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর শুরু হয় লাঠিচার্জ। মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে ক্রাচ ব্যবহার করলেও তিনি অবস্থান থেকে সরে যাননি। পুলিশ প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর লাঠিচার্জ শুরু করলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। লাঠিচার্জের পর পুলিশ রাবার বুলেট এবং শটগানের গুলি করতে থাকে। তাদের আক্রমণে ছাত্রছাত্রীরা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে গেইট বন্ধ করে দিলে পুলিশ গেইটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে গুলি এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ওই দিন পুলিশের হামলায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০-২৫০ জন ছাত্রছাত্রী আহত হয়। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়। সেই সঙ্গে ইম্পেরিয়াল কলেজের ছাত্র জিল্লুর শেখ পুলিশের গুলিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ হয়।

মেসবাহ উদ্দীন বলেন, ১৯ জুলাই উত্তর বাড্ডার প্রধান সড়কে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। যুবলীগের সদস্যদের গায়ে তাদের লোগো-সংবলিত পোশাক ছিল। ওই হামলায় তিনি ১০ জনের মতো আন্দোলনকারীকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সের ওপরেও হামলা করা হয়। সেদিন রামপুরা, বাড্ডা এলাকায় ৩০-৪০ জনের মতো শহীদ হয়েছিল।

মেসবাহ উদ্দীন আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর তিনি জানতে পারেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক আরেকজন ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। ওই ব্যক্তি সম্ভবত সালমান এফ রহমান। তাদের কথোপকথনের বিষয় ছিল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া। শেখ হাসিনার নির্দেশে ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। ইন্টারনেট বন্ধের উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সরকারের হামলায় আন্দোলনকারীদের নিহত এবং আহত হওয়ার সংবাদ যাতে প্রচারিত হতে না পারে।

জবানবন্দিতে তিনি আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক, সালমান এফ রহমান, আরাফাতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত