
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। ২৫ কার্যদিবসের বৈঠকে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে, গঠিত হয়েছে সাতটি কমিটি আর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর প্রায় ৪০ ঘণ্টার আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অধিবেশন শেষে সমাপনী ভাষণে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে তিনি প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির ১২ মার্চের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়।
স্পিকার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয় গত ১২ মার্চ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে’ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর এই অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা তিনি এই অধিবেশনে দেখেছেন, অতীতের কোনো সংসদে তেমন দৃশ্য দেখেননি।
স্পিকার বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিই।’
স্পিকার জানান, অধিবেশনের শুরুতে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম যে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, তার ওপর কোনো সংশোধনী নোটিশ পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি প্রস্তাবটি ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
ধন্যবাদ বার্তায় বলা হয়, জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে সমবেত সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ১২ মার্চের ভাষণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
২৫ কার্যদিবস, ৯৪ বিল, ১৩৩ অধ্যাদেশ
সমাপনী ভাষণে স্পিকার বলেন, এই অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ২৫ দিন। সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার তথ্য অনুযায়ী, এই অধিবেশনে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে। উত্থাপিত হয়েছে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। একই সঙ্গে ২৮০ জন সংসদ সদস্য ৪০ ঘণ্টার মতো আলোচনায় অংশ নেন। স্পিকারের ভাষণে আরও বলা হয়, আইন প্রণয়ন কার্যাবলির পাশাপাশি গঠিত হয়েছে সাতটি কমিটি। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটি রয়েছে।
স্পিকার বলেন, ‘সংসদে একটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এই সংসদে ২২০ জন সদস্য প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। নতুন সত্ত্বেও আপনাদের গঠনমূলক আলোচনা ও সহনশীল আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি গৃহীত হয় এবং দুটি নিয়েই আলোচনা হয়। ৬৮ বিধিতে ৯টি নোটিশ পাওয়া যায়; এর মধ্যে একটি গৃহীত হয় এবং সেটির ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। ৭১ বিধিতে মোট ১ হাজার ১৯৮টি নোটিশের মধ্যে ৪২টি গৃহীত হয় এবং ৩৮টির ওপর আলোচনা হয়। ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়া হয় ২০৭ বার।
১৬৪ বিধিতে ১৪টি নোটিশের মধ্যে একটি গৃহীত হলে বিশেষ অধিকার-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ২৬৬ বিধিতে একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে ৯৩, মন্ত্রীদের জন্য ২৫০৯ প্রশ্ন
স্পিকার বলেন, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য মোট ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৫টির উত্তর তিনি সংসদে দিয়েছেন। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য মোট ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়; এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর সংসদে দেওয়া হয়েছে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে এগোনোর আহ্বান
সমাপনী ভাষণে স্পিকার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনায় করব কাজ, গড়ব দেশ’—এই প্রতিপাদ্য এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতি সামনে রেখে এগোতে হবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি।
স্পিকার বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সুসংহত করাও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এই যে চেয়ারটা আপনি দেখছেন, যে চেয়ারে আমি এখানে বসছি, আপনার সামনে, মাননীয় স্পিকার, এই চেয়ার কঠিন একটি চেয়ার মাননীয় স্পিকার। এ চেয়ার দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম। আসলে মাননীয় স্পিকার মোটেও আরামের না।’
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সংসদ যাতে কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, সে বিষয়ে নিজ দল ও বিরোধী দলসহ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিতর্ক করব, আলোচনা করব; কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।’
২ ঘণ্টা আগে
অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধি, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিস্তার—আইনের শাসনের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সীমান্ত এলাকায় হতাহতের ঘটনা, অপহরণ ও নির্যাতন এবং পার্বত্য অঞ্চলে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের থেকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের মধ্যে ৬৫ শতাংশই কোটিপতি।
৩ ঘণ্টা আগে