Ajker Patrika

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদ, কী বলা আছে এতে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদ, কী বলা আছে এতে
বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ রোববার জাতীয় সংসদে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির মামলায় বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে অতিদ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো আবেদনের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এই নোটিশের কার্যকারিতা বজায় রেখেই দুবাইয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং স্থানীয় সময় অনুযায়ী গতকাল রাতে তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ বিষয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এর আগে, ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের তরফ থেকে গত বছরের ১১ এপ্রিল যে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল, তার শিরোনাম ছিল ‘বিচারিক কার্যক্রমের জন্য পলাতক অভিযুক্ত’। সেখানে সতর্কতা হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয় ‘বিপজ্জনক’ ও ‘পালানোর ঝুঁকি’ আছে এমন ব্যক্তি হিসেবে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশে বেনজীর আহমেদের ব্যক্তিগত পরিচয়, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করা হয়। সেখানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার বর্ণনার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ২৭-৮-২০২৪ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সেখানে তিনি স্থাবর সম্পদ হিসেবে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকা ঘোষণা করেন। অর্থাৎ তাঁর ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৪২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা।

তবে দুদকের তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল অনুসন্ধান করে দেখতে পায়, তিনি তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। এভাবে তিনি অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৬ (২) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এ ছাড়া তদন্তে আরও দেখা যায়, তিনি অজ্ঞাত উৎস থেকে ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা এখনো ভোগ ও দখলে রেখেছেন। এটি একই আইনের ধারা ২৭ (১)-এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে, ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার সম্পদ গোপন করা এবং পরিচিত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৬ (২) ও ২৭ (১)-এর আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

নোটিশে মামলার অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৬ (২) ও ২৭ (১)-এর অধীনে তদন্তাধীন। দাখিল করা আবেদন, মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ তাঁর পদমর্যাদা ও প্রভাব ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মে জড়িয়েছিলেন। তিনি ঘোষিত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে সেই সম্পদ অর্থপাচারের মাধ্যমে স্থানান্তর বা গোপন করেন।

তদন্তে আরও প্রকাশ পায়, তিনি অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ৪ (২), ৪ (৩) এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১০৯ অনুযায়ীও অপরাধ করেছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন।

নোটিশে বেনজীরকে ‘বিচারের জন্য পলাতক অভিযুক্ত’ উল্লেখ করা হয়। নোটিশে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং ঘোষিত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৬ (২) ও ধারা ২৭ (১)-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এতে আরও বলা হয়, এই অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ সম্ভাব্য শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার সময়সীমা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মেয়াদোত্তীর্ণের কোনো সময়সীমা ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয় নোটিশে।

শনাক্ত হলে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা কী নেওয়া হতে পারে এই প্রসঙ্গে ইন্টারপোলের রেড নোটিশে বলা হয়, তাঁর ‘অবস্থান শনাক্ত করে প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার’ এবং ‘অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলে জাতীয় আইন এবং/অথবা প্রযোজ্য দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তির আলোকে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হবে বলে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।’

নোটিশে আরও বলা হয়, এই অনুরোধকে জাতীয় আইন এবং/অথবা প্রযোজ্য দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অস্থায়ী আটকের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া, পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হলে অবিলম্বে ‘এনসিবি ঢাকা, বাংলাদেশ’ এবং ‘আইসিপিও-ইন্টারপোলের প্রধান কার্যলয়কে’ অবহিত করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত