
রাষ্ট্রপতি যে কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা হ্রাস বা মওকুফ করার ক্ষমতা রাখেন। সাংবিধানিকভাবে তিনি এই ক্ষমতা পেয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধিতেও রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা প্রয়োগ নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক নেতাদের বাঁচাতে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে। তাই এই ক্ষমতার যথেচ্ছ প্রয়োগ বন্ধ করতে আইন বা নীতিমালা চান আইনজ্ঞরা।
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের মার্জনা এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১, ৪০২ ও ৪০২ক ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আজকের পত্রিকাকে বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সাংবিধানিক। যাচ্ছে–তাইভাবে এটি ব্যবহার করা উচিত না। কোনো একসেপশন সিচুয়েশনে (ব্যতিক্রম পরিস্থিতি) রাষ্ট্রপতি মনে করলে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সন্ত্রাসীদের মুক্ত করার জন্য বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো ফাঁসির আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা বা মুক্ত করা উচিত নয়।
এদিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রয়োগে স্বেচ্ছাচারিতা ঠেকানোর জন্য বোর্ড গঠনের সুপারিশ করেছে সম্প্রতি বিলুপ্ত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। এক বছর আগে জমা দেওয়া সুপারিশে বলা হয়েছে, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সংবিধানে আমাদের সংবিধানের মতোই রাষ্ট্রপ্রধানকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনেক দেশে এই ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে সে সম্পর্কিত নীতিমালা বা নির্দেশাবলি আছে। তবে লিখিত নিয়ম-নীতি যাদের নেই তারা কতকগুলো অলিখিত ও অদৃশ্য বাধা মেনে চলে। কিছু প্রথাগত নিয়ম-নীতি মেনে চলে। ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির খেয়াল, আনন্দ, সুখানুভূতি বা বিশেষ কোনো সুবিধার বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কর্তব্যের বিষয়। ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা যতই স্বেচ্ছাধীন হোক না কেন, ক্ষেত্রবিশেষে এই ক্ষমতা প্রয়োগ না করা যেমন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব, ঠিক তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা রাষ্ট্রপতির কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।
জানতে চাইলে বিলুপ্ত হওয়া বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটি করতে হলে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। ‘রাষ্ট্রপতি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ইচ্ছে মতো ক্ষমা করতে পারবেন না’—বিষয়টি এবারের গণভোটেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তিনি।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমা প্রদর্শন আইন’ নামে একটি আইন প্রণয়ন করা হবে। ক্ষমা প্রদর্শন আইনের মাধ্যমে একটি ‘ক্ষমা প্রদর্শন বোর্ড’ গঠিত হবে। ক্ষমা প্রদর্শন বোর্ড বছরে ন্যূনতম দুইবার— জানুয়ারি ও জুলাই মাসে সভায় মিলিত হবে। সরকার বোর্ডের সভা অনুসারে সদস্যদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করবে। আগ্রহী দণ্ডিত ব্যক্তি নির্ধারিত ফরমে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর ক্ষমা প্রদর্শনের আবেদন করবেন। সব আবেদন যাচাই-বাছাই করে অ্যাটর্নি জেনারেল ক্ষমা প্রদর্শন বোর্ডের সভা আহ্বান করবেন। বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী দপ্তরকে অবহিত করা হবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী বিভাগ ক্ষমা প্রদর্শন করবেন।
বিলুপ্ত হওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ গত বছরের ৩ জুলাই ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বিগত সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে একমত হয়েছে।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বোর্ডকে সুপারিশের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে তা হলো—অপরাধের মাত্রা ও ধরন, ভুক্তভোগী এবং সার্বিকভাবে সমাজের ওপর সংশ্লিষ্ট অপরাধের প্রভাব, দণ্ডপ্রাপ্তির পর অপরাধীর আচরণ, অপরাধী অনুতপ্ত কিনা, সাজা ভোগের মেয়াদ, অপরাধীর বয়স, শারীরিক বা মানসিকভাবে রোগাক্রান্ত হলে তার ধরন ইত্যাদি।
নীতিমালা করতে হাইকোর্টের রুল
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা কেন প্রণয়ন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত বছরের ৩ মার্চ রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তবে ১১ মাস পার হলেও ওই রুল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিটটি করেছিলেন। জানতে চাইলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি যাদের ক্ষমা করেছেন তার বেশির ভাগই হত্যা মামলার আসামি। কিসের ভিত্তিতে ও কোন কোন দিক বিবেচনায় ক্ষমা করা হয়—এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা নেই। কেন ক্ষমা করা হলো সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় না। বিগত সময়ে রাজনৈতিক আদর্শ বিবেচনায় দণ্ডিতদের ক্ষমা করতে দেখা গেছে, যা সংবিধানের ৭,২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই ক্ষমা করার এই ক্ষমতা প্রয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন আবশ্যক। আমরা চেষ্টা করছি রুল শুনানি করতে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তির মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৫ মিনিট আগে
নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এবার প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার ওই দুই নেতার সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাসায় যাবেন তিনি।
২২ মিনিট আগে
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ নেবেন। তাঁদের শপথ পড়াবেন প্রধান
৪৩ মিনিট আগে
বাংলাদেশের সম্ভাব্য নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ভারতীয়...
৩ ঘণ্টা আগে