Ajker Patrika

ত্বকযত্নে যা করেন জেনিফার লরেন্স

ফিচার ডেস্ক
ত্বকযত্নে যা করেন জেনিফার লরেন্স
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

পর্দায় তিনি যতই গ্ল্যামারাস ও গম্ভীর চরিত্রে অভিনয় করুন না কেন, ব্যক্তিজীবনে অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স একদমই খোলামেলা কথা বলতে ভালোবাসেন। এককথায় রসিক ও স্পষ্টভাষী। মেকআপহীন মুখ, সাদা টি-শার্ট আর আরামদায়ক সোয়েটপ্যান্টস পরে ভেনিসের একটি বিলাসবহুল স্পা সেন্টারে সম্প্রতি তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন বিউটি ও ওয়েলনেস সাংবাদিকের। নিজের ত্বকচর্চার কৌশল, বয়স ৩৫ অতিক্রম করার পর শরীরচর্চার ধরন পরিবর্তন এবং হলিউডের সাজগোজের আড়ালের মজার সব তথ্য নিয়ে আড্ডায় মাতেন এই হলিউড তারকা। জানতে পড়ে ফেলুন পুরো ফিচারটি।

নতুন ওয়ার্কআউট রুটিন

সম্প্রতি মার্টিন স্কোরসেসির নতুন থ্রিলার ‘হোয়াট হ্যাপেনস অ্যাট নাইট’-এর শুটিং শেষ করেছেন লরেন্স। কাজের চাপের দিনে ওয়ার্কআউট না করলেও শুটিং বিরতিতে তিনি নিয়মিত শরীরচর্চায় মনোযোগ দেন। ব্যক্তিগত ট্রেইনারের চেয়ে ইদানীং তিনি ইয়োগা বা যোগব্যায়ামকে নতুন রুটিন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘ট্রেইনার থাকলে আমি শুধু কথা বলেই সময় কাটিয়ে দিই, ব্যায়াম আর করি না! তাই যোগব্যায়ামের বাঁধাধরা নিয়মটাই আমার জন্য সেরা।’ এ ছাড়া নিউইয়র্কে চলাচলের জন্য ইদানীং ই-বাইকের বদলে সাধারণ সিটি বাইক বা সাইকেল চালানো শুরু করেছেন তিনি, যাতে সারা দিন শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা যায়।

তারুণ্য বজায় রাখতে আধুনিক ত্বকচর্চা

৩৬ বছরে পা রাখার মুখে দাঁড়িয়ে রুপালি পর্দার অভিনয়ে মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বজায় রাখা জেনিফার লরেন্সের জন্য জরুরি। তাই অতিরিক্ত প্লাস্টিক সার্জন বা ফেসলিফটের চেয়ে তিনি ত্বক স্বাভাবিকভাবে সতেজ রাখায় বিশ্বাসী। সামান্য বেবি বোটক্স নিলেও ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে তিনি ভরসা করেন রেটিনলের ওপর। রেটিনল ব্যবহারের ফলে ত্বকে যে লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া হয়, তা কমাতে তিনি বন্ধুদের কাছ থেকে শেখা রেটিনল স্যান্ডউইচ কৌশল ব্যবহার করেন। এই কৌশল হলো, প্রথমে ত্বকে ময়শ্চারাইজার বা নাইট ক্রিম লাগানো। তার ওপর হালকা রেটিনল প্রয়োগ করা। সব শেষে সামান্য পানির ঝাপটা দিয়ে এর ওপর এসেনশিয়াল অয়েলের প্রলেপ, যাতে ভেতরের আর্দ্রতা আটকে থাকে। ত্বকের লালচে ভাব কমানো এবং পোরস ছোট করতে তিনি মাঝে মাঝে রাতে শিশুদের ডায়াপার ক্রিম মুখে মেখে ঘুমানোর মজার ঘরোয়া টোটকার কথাও স্বীকার করেন।

১৪.

মেলাজমা বা মেছতা থেকে বাঁচার লড়াই

লরেন্সের ত্বকের অন্যতম সমস্যা হলো মেলাজমা বা মেছতার দাগ। সূর্যের তাপ বা হট ইয়োগার তীব্র তাপমাত্রায় এটি বেড়ে যায়। তাই বাইরে বের হলে রোদের প্রকোপ থেকে বাঁচতে তিনি গাড়িতে বা রাস্তায় মুখের দুপাশ স্কার্ফ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখেন। লরেন্স রসিকতা করে বলেন, ‘ছবি তুলে অনেকে ভাবেন, আমি বুঝি নতুন কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট করছি! আসলে আমি মেছতার হাত থেকে চামড়া বাঁচানোর যুদ্ধ করছি!’

Untitled-5১৪

মাতৃত্বের বিরতি ও মনের শান্তি

স্পা সেশনে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ বা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি পছন্দ করলেও পারলারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর করা কিংবা চুলে রং করানো চরম বোরিং মনে করেন লরেন্স। সন্তান হওয়ার পর এখন কাজের ফাঁকে ও শুটিংয়ের ধকল সামলে নিজের জন্য কিছুটা নির্ঝঞ্ঝাট সময় বের করাটাই তাঁর আসল রিফ্রেশমেন্ট। বিশেষ করে বিমানে ভ্রমণের সময় তিনি কখনোই ওয়াই-ফাই কানেক্ট করেন না। ডিজিটাল দুনিয়ার সব নেটওয়ার্ক ও নোটিফিকেশনের বাইরে এক গ্লাস হোয়াইট ওয়াইন হাতে মেঘের ওপর নিঃশব্দে নিজের মতো সময় কাটানোকেই তিনি জীবনের সেরা ‘মি-টাইম’ মনে করেন।

তারকাদের বাহ্যিক নিখুঁত রূপের পেছনে যে অনেক কষ্ট, অদ্ভুত ঘরোয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাস্তবসম্মত ভাবনা থাকে, জেনিফার লরেন্সের এই আড্ডা যেন তা-ই প্রমাণ করে। নিজেকে সুন্দর রাখতে কৃত্রিমতার চেয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনই যে আসল, তা-ই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই তারকার কথায়।

সূত্র: ভোগ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত