Ajker Patrika

আজ চিৎকার দিয়েই ঝেড়ে ফেলুন মনের সব কষ্ট

ফিচার ডেস্ক
আজ চিৎকার দিয়েই ঝেড়ে ফেলুন মনের সব কষ্ট
চিৎকার করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে এটি মনের জমে থাকা বাষ্প বের করে দেওয়ার এক কার্যকর তাৎক্ষণিক উপায়। ছবি: পেক্সেলস

আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মনে হয় সবকিছু ছেড়ে-ছুড়ে দিয়ে চলে যায়। এমন অনেক কথা থাকে, যেগুলো জমতে জমতে ভেতরেই কথার পাহাড় হয়ে যায়। অনেক সময় মনে হয় জোরে একটা চিৎকার দিই। এমন হয়ে থাকলে আজ চিৎকার দিয়েই ফেলুন। কারণ, আজ চিৎকার দিবস। কর্মক্ষেত্রের চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন কিংবা জমানো কোনো অভিমান—সব মিলিয়ে মনের ভেতর যে বাষ্প জমে, তা বের করে দেওয়ার একটি দারুণ উপায় হতে পারে ‘চিৎকার’। এই ভাবনা থেকে পালিত হয় ‘স্ক্রিম ডে’।

চিৎকার করা কি আসলেও কোনো থেরাপি

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ক্যাথারসিস’ বা মনের অবদমিত আবেগ মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া। সত্তরের দশকে ডক্টর আর্থার জানভ ‘প্রাইমাল থেরাপি’ বা ‘স্ক্রিম থেরাপি’র ধারণা জনপ্রিয় করেন। তাঁর মতে, শৈশবের ট্রমা বা জমানো কষ্টগুলো যখন আমরা উচ্চ স্বরে চিৎকার বা কান্নার মাধ্যমে প্রকাশ করি, তখন মস্তিষ্ক একধরনের স্বস্তি পায়। বিখ্যাত সংগীতশিল্পী জন লেনন এবং ইয়োকো ওনো-ও এই থেরাপির চর্চা করতেন। চিৎকার করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে এটি মনে জমে থাকা বাষ্প বের করে দেওয়ার এক কার্যকর তাৎক্ষণিক উপায়। এটি অনেকটা ডিনামাইট দিয়ে কোনো কিছু উড়িয়ে দেওয়ার মতো। এই কৌশল খুব সূক্ষ্ম না হলেও এর প্রভাব বিশাল। তাই আজকের এই দিনে সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে অন্তত একবার প্রাণ খুলে চিৎকার করে দেখুন, হয়তো নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি হালকা ও সতেজ মনে হবে।

চিৎকার করলে ভালো লাগে কেন

চিৎকার করার সময় আমাদের শরীর ও মনে একধরনের চেইন রিঅ্যাকশন বা শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চিৎকার করলে শরীরের কর্টিসলের (স্ট্রেস হরমোন) মাত্রা কমে এবং মেজাজ ফুরফুরে হয়। চিৎকার করার সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন প্রবাহিত হয় এবং পরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা কমায় এবং মনে প্রশান্তি আনে। চিৎকার করার সময় মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ অংশটি সক্রিয় হয়। এটি আমাদের আবেগ প্রসেস করতে সাহায্য করে। চিৎকার শেষে যখন অ্যাড্রেনালিনের প্রভাব কমে যায়, তখন পেশিগুলো শিথিল হয়ে আসে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়।

কর্মক্ষেত্রের চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন কিংবা জমানো কোনো অভিমান সব মিলিয়ে মনের ভেতর যে বাষ্প জমে, তা বের করে দেওয়ার একটি দারুণ উপায় হতে পারে ‘চিৎকার’। ছবি: পেক্সেলস
কর্মক্ষেত্রের চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন কিংবা জমানো কোনো অভিমান সব মিলিয়ে মনের ভেতর যে বাষ্প জমে, তা বের করে দেওয়ার একটি দারুণ উপায় হতে পারে ‘চিৎকার’। ছবি: পেক্সেলস

চিৎকার করার ৪ বিশেষ সুফল

-সমাজ অনেক সময় নারীদের আবেগ প্রকাশে বাধা দেয়। দলবদ্ধভাবে চিৎকার করার মাধ্যমে নারীরা তাদের আবেগ প্রকাশের অধিকার ফিরে পান। এটি তাদের আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী বোধ করতে সাহায্য করে।

-স্কুল বা পড়াশোনার চাপে শিশুরা অনেক সময় আবেগ চেপে রাখে। নিরাপদ পরিবেশে চিৎকার করার সুযোগ দিলে তাদের মনের ভার হালকা হয় এবং ঘুমের সমস্যা বা মেজাজ খিটখিটে হওয়া কমে।

-চিৎকার বা গর্জন আপনার শক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। টেনিস খেলোয়াড়দের দিকে তাকালে দেখা যায়, জোরে শট মারার সময় তারা একধরনের চিৎকার বা শব্দ করেন, যা তাদের শটে বাড়তি শক্তি জোগায়।

-বন্ধুদের সঙ্গে বা কোনো গ্রুপ ইভেন্টে একসঙ্গে চিৎকার করলে মনের মধ্যে একধরনের একাত্মতা তৈরি হয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, আমরা একা নই, সবার জীবনেই লড়াই আছে।

যেভাবে পালন করবেন দিনটি

চিৎকার করার জন্য খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই, শুধু চাই কিছুটা ব্যক্তিগত স্পেস। এর জন্য বালিশে মুখ গুঁজে চিৎকার করতে পারেন। যদি মনে করেন, আপনার চিৎকারে আশপাশের মানুষ বিরক্ত হবে, তবে একটি বালিশে মুখ চেপে জোরে চিৎকার করুন। এটি নিঃশব্দে মনের চাপ কমানোর দারুণ উপায়। নিজের ঘর, গাড়ি কিংবা প্রকৃতির মাঝে নির্জন কোনো জায়গায় গিয়ে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে চিৎকার করে মনের সব অস্থিরতা বের করে দিন। বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে চিৎকার করুন। এতে আনন্দের পাশাপাশি বন্ধুত্বের বন্ধনও দৃঢ় হয়। আপনার এই অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানোর মাধ্যমে অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারেন।

কিছু জরুরি সতর্কতা

চিৎকার করা ভালো, তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

ভোকাল কর্ডের যত্ন: চিৎকার করার আগে গুনগুন করে বা গান গেয়ে নিজের গলাকে কিছুটা ‘ওয়ার্ম আপ’ করে নিন। হুট করে চিৎকার করলে গলার ক্ষতি হতে পারে।

পেশাদার পরামর্শ: যদি আপনার ট্রমা বা মানসিক সমস্যা খুব গভীর হয়, তবে একা একা এটি না করে একজন থেরাপিস্টের অধীনে ‘স্ক্রিম থেরাপি’ নেওয়া উচিত। কারণ, পুরোনো যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি অনেক সময় মানুষকে বেশি বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

অন্যের অসুবিধা: আপনার চিৎকার যেন অন্যদের মধ্যে ভীতি বা বিপদের সংকেত তৈরি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

সূত্র: বিবিসি, ইন্সপায়ার দ্য মাইন্ড

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত