Ajker Patrika

প্রত্যাখ্যানে ব্যথিত, নাকি আপনি ‘আরএসডি’র শিকার

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
প্রত্যাখ্যানে ব্যথিত, নাকি আপনি ‘আরএসডি’র শিকার
প্রত্যাখ্যানে ব্যথিত, নাকি আপনি ‘আরএসডি’র শিকার— এটি বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক

প্রত্যাখ্যানে ব্যথিত, নাকি আপনি ‘আরএসডি’র শিকার— এটি বুঝে নেওয়া জরুরি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ‘ঘোস্টিং’ কিংবা ‘সিন জোন’ হওয়া খুব পরিচিত এক অভিজ্ঞতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর দ্রুতগতির এই জীবনে আমরা সবাই কমবেশি প্রত্যাখ্যান বা রিজেকশনের মুখে পড়ি। কারও ক্ষেত্রে এটি স্রেফ কয়েক মুহূর্তের মন খারাপ, আবার কারও কাছে এটি হয়ে দাঁড়ায় পাহাড়সমান মানসিক যন্ত্রণা। যদি কোনো ছোট অবহেলা বা প্রত্যাখ্যান ‘অসহ্য’ বা ‘বিধ্বংসী’ মনে হয়, তবে আপনি হয়তো রিজেকশন সেনসিটিভ ডিসফোরিয়া বা আরএসডির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যাখ্যান জীবনেরই অংশ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনাকে সেই যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে হবে। যদি প্রতিনিয়ত রিজেকশনের ভয়ে থাকেন, তাহলে মনে রাখবেন, এটি আপনার কোনো চারিত্রিক দুর্বলতা নয়; আপনার মস্তিষ্কের একটি বিশেষ প্রতিক্রিয়া মাত্র। সঠিক যত্ন আর সচেতনতার সঙ্গে এই পাহাড়সমান আবেগ মোকাবিলা করা সম্ভব।

আরএসডি আসলে কী

‘ডিসফোরিয়া’ শব্দটির গ্রিক অর্থ হলো তীব্র যন্ত্রণা বা অস্বস্তি। সাধারণ মানুষের রিজেকশন সহ্য করার ক্ষমতার চেয়ে আরএসডি আক্রান্তদের প্রতিক্রিয়া হয় বহুগুণ তীব্র। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রোগ বা মেডিকেল ডায়াগনসিস না হলেও বিশেষজ্ঞরা একে এডিএইচডির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলে মনে করেন। যেখানে সাধারণ মানুষ নেতিবাচক অনুভূতিগুলো দ্রুত সামলে নিতে পারে, সেখানে আরএসডি আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

লক্ষণগুলো কেমন

নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন, আপনি বা আপনার কাছের কেউ এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কি না।

অন্যকে খুশি রাখার তীব্র ইচ্ছা বা পিপল-প্লিজিং: সবাইকে খুশি করার এক অদ্ভুত নেশা কাজ করে, যাতে কেউ তাকে অপছন্দ বা রিজেক্ট না করে।

অতিরিক্ত পারফেকশনিজম: কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়া মানেই রিজেকশন—এই ভয়ে সবকিছু নিখুঁত করার চাপে নিজেকে পিষ্ট করা।

হঠাৎ আবেগ বিস্ফোরণ: তুচ্ছ কারণেও হঠাৎ প্রচণ্ড রাগ, কান্না কিংবা বিষণ্নতায় ডুবে যাওয়া।

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: রিজেক্ট হওয়ার ভয়ে আগেভাগে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেওয়া বা নিজেকে সরিয়ে নেওয়া।

নেতিবাচক সেলফ-টক: নিজের প্রতি চরম সন্দেহ এবং সারাক্ষণ নিজেকে অপরাধী মনে করা।

সম্পর্ক নিয়ে আতঙ্ক: পার্টনার হয়তো একটু দেরিতে টেক্সট করেছে, তাতেই মনে হওয়া যে সম্পর্কটা শেষ হয়ে গেল।

কেন এমন হয়

আরএসডি শুধু মনের কল্পনা নয়, এর পেছনে রয়েছে শারীরিক কারণ। আমাদের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা এবং প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স প্রত্যাখ্যান এবং আবেগ প্রসেস করার কাজ করে। যাদের এডিএইচডি আছে, তাদের মস্তিষ্কের গঠনগত পার্থক্যের কারণে এই অংশগুলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খায়। ফলে তারা অনেক সময় সাধারণ কথোপকথনকেও বিদ্রূপ বা সমালোচনা হিসেবে ভুল বোঝে। এটি শরীরে একধরনের ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফলে রক্তচাপ ও মানসিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। সাধারণ ইমোশনাল ডিসরেগুলেশনে মানুষ আবেগ সামলাতে সমস্যায় পড়ে। কিন্তু আরএসডির ক্ষেত্রে সেই আবেগ হয়ে ওঠে শারীরিক যন্ত্রণার মতো তীব্র, যা নিয়ন্ত্রণ করা মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যায়।

পরিত্রাণের উপায়

আরএসডির কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাময় না থাকলেও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

থেরাপির সাহায্য: কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি বা টক থেরাপির মাধ্যমে নিজের আবেগের ধরন চেনা যায়। এতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বোঝার কৌশল শেখা সম্ভব।

মেডিটেশন ও সচেতনতা: অনেক সময় ‘আমি আরএসডির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি’, শুধু এই বিষয়ে জানা স্বস্তি দেয়। বর্তমান মুহূর্ত নিয়ে সচেতন থাকলে নেতিবাচক চিন্তা কমানো যায়।

চিকিৎসকের পরামর্শ: যেহেতু এটি এডিএইচডির সঙ্গে যুক্ত, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ মস্তিষ্কের আবেগ প্রসেস করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

যোগাযোগ বাড়ানো: মনের কথা চেপে না রেখে কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করুন। অন্যের কথা শোনার অভ্যাস এবং অস্পষ্ট বিষয়ে পরিষ্কার করে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভুল-বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে।

সূত্র: ওয়েব মেড, সাইকোলজি টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ

দূরপাল্লার বাসযাত্রায় নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, কোন রুটে কত বাড়ল

তেলপাম্পে মিছিল নিয়ে এসে ইউএনওর ওপর হামলা, অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীকে খুন পূর্বপরিকল্পিত, খুনি রুমমেট: পুলিশ

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত