
ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ইদানীং এক বিশেষ ঘরানার ভিডিও বেশ নজরে পড়ে। ঝকঝকে রান্নাঘর, পরনে রঙিন অ্যাপ্রোন আর হাসিমুখে পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করছেন একজন নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে একে বলা হচ্ছে ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ বা প্রথাগত ঘরোয়া স্ত্রী হওয়ার ট্রেন্ড।
মা-খালা কিংবা দাদি-নানিরা যেভাবে ঘর সামলাতেন, সেই জীবনকেই এখনকার ‘ট্র্যাডিশনাল ওয়াইফ’ বা ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ ধারণার সঙ্গে তুলনা করা হয়। একটি সাজানো-গোছানো ঘর, পরিবারের সবার খেয়াল রাখা, রান্নাবান্না আর স্বামীর সেবা—এই আটপৌরে জীবনই ছিল তাঁদের পরিচয়।
নারীরা কেন এই যাপনে আগ্রহী হচ্ছেন, তা বোঝা কঠিন নয়। ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড়, দীর্ঘ কাজের চাপ আর যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই অতীতের সেই ‘সাদামাটা’ জীবনে শান্তি খুঁজছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক পুরুষেরা কেন এমন প্রথাগত জীবনসঙ্গিনী খুঁজছেন? নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই প্রশ্নের উত্তরে এক রূঢ় সত্য সামনে এনেছে।
১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৬০০ মার্কিন তরুণের ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের এই ‘ট্র্যাডওয়াইফ’প্রীতির পেছনে কোনো রোমান্টিক বা আদর্শিক কারণ নেই, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও ‘নারীবিদ্বেষী মনোভাব’।
গবেষণার ফল বলছে, যেসব পুরুষ এমন ঘরোয়া স্ত্রী খুঁজছেন, তাঁদের বড় অংশের মধ্যেই নারীদের প্রতি চরম নেতিবাচক ধারণা বা ‘হোস্টাইল সেক্সিজম’ কাজ করে। অর্থাৎ, তাঁরা নারীকে সমান মর্যাদার মানুষ ভাবার চেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা একজন সেবাদাতা হিসেবে দেখতেই বেশি পছন্দ করেন।
‘সাইকোলজি অব উইমেন কোয়ার্টারলি’ সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে পুরুষ, নারী ও প্রথাগত জীবনধারা সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁদের লিঙ্গবিদ্বেষী মনোভাব ও ধর্মীয় উগ্রতার মতো বিষয়গুলোও যাচাই করা হয়।
জরিপের উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করে মনোবিজ্ঞানীরা সেসব বিষয় চিহ্নিত করেছেন, যা মূলত ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ সংস্কৃতির প্রতি পুরুষদের সমর্থনের পেছনে কাজ করে। গবেষকেরা অবাক হয়ে লক্ষ করেছেন, এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘হোস্টাইল সেক্সিজম’ বা নারীবিদ্বেষী মনোভাব, যার মাধ্যমে নারীর প্রতি চরম নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয়।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী র্যাচেল রবনেত টাইমস অব লন্ডনকে বলেন, ‘ফলাফল দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।’
গবেষকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, হয়তো ‘বেনেভোলেন্ট সেক্সিজম’ বা পুরুষেরা নারীদের রক্ষা করার বা তাঁদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার একধরনের ‘শৌর্য’ থেকে এমন জীবনসঙ্গিনী চান, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। রবনেত জানান, এই পুরুষেরা নারীদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং তাঁরা চান জীবনসঙ্গিনী যেন পুরোপুরি তাঁদের ওপর নির্ভরশীল থাকে।
মনোবিজ্ঞানীরা এর একটি বিশেষ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই শ্রেণির পুরুষেরা শারীরিক বা মানসিক অন্তরঙ্গতার জন্য নারীর ওপর প্রচণ্ড নির্ভরশীল। কিন্তু, এই চরম নির্ভরশীলতার কারণেই তাঁরা মনের গভীরে নারীর প্রতি একধরনের ক্ষোভ বা ‘রেজেন্টমেন্ট’ পুষে রাখেন। তাঁরা মনে করেন, প্রথাগত জীবনসঙ্গিনী ঘরে থাকলে তাঁদের কর্তৃত্ব বা আধিপত্য বজায় রাখা সহজ হবে।
রবনেত টাইমসকে বলেন, যে ধরনের পুরুষেরা ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ আন্দোলনকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন, তাঁরা সম্ভবত সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নন। এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, এই জীবনধারা সমর্থনকারী পুরুষেরা অন্তরঙ্গতার জন্য নারীর ওপর নির্ভরশীল থাকেন এবং এই নির্ভরশীলতার কারণেই আবার নারীর প্রতি চরম ক্ষোভ পোষণ করেন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আলফা মেল’ বা পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য নিয়ে প্রচুর কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। অনেক তরুণ এই ভুল আদর্শে প্রভাবিত হয়ে মনে করছেন, একজন স্বাধীন বা ক্যারিয়ারসচেতন নারী মানেই সংসারের জন্য হুমকি। ফলে তাঁরা এমন কাউকে খুঁজছেন, যিনি কেবল ‘সংসার’ করবেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এর সঙ্গে উগ্র ধর্মীয় মনোভাব ও অতিরক্ষণশীল রাজনৈতিক চিন্তারও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
রান্না করা বা সংসার সামলানো কোনোটিই ছোট কাজ নয়। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যখন কোনো পুরুষ সুস্থ অংশীদারত্বের বদলে কেবল নিজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য একজন ‘আদর্শ’ স্ত্রীর স্বপ্ন দেখেন, তখন সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার অবকাশ থাকে।

জমে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। পথে-ঘাটে গাড়ি থামিয়ে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখতেও ভুল হচ্ছে না এতটুকু। আর রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখার ব্যাপারটি তো আছেই। তবে বিশ্বকাপের আমেজ এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উন্মাদনা জার্সি ছাড়িয়ে উঠে এসেছে রোজকার পরিধেয়তেও।
৮ ঘণ্টা আগে
আমাদের মুখমণ্ডলের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পাতলা হয় চোখের চারপাশের ত্বক। তাই রোজ যে ক্লিনজার স্ক্রাব বা ময়শ্চারাইজার আমরা মুখে ব্যবহার করি, তা চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য সমান কার্যকর নয়।
৯ ঘণ্টা আগে
ভ্যাপসা গরমে যাঁরা রোজ অফিস করছেন বা যাঁরা বাড়িতে রয়েছেন, তাঁদের সবারই নাজেহাল অবস্থা। কখন বৃষ্টি নামবে, এই ক্ষণ গুনতে গুনতেই চলে এল বর্ষা। তপ্ত রোদ থেকে এবার একটু রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। বর্ষার প্রথম দিনেই আলমারিতে নীল শাড়ির খোঁজ পড়ে।
১০ ঘণ্টা আগে
আষাঢ় মানে বাহারি স্বাদের খিচুড়ির আয়োজন। ঝুম বৃষ্টিতে গরম-গরম সুস্বাদু খিচুড়ি বাঙালির রসনাবিলাসের দারুণ এক উপকরণ। আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন, খিচুড়িপ্রেমীদের জন্য আজ থাকছে মুখরোচক মুগ ডালের খিচুড়ির রেসিপি। সবজি, আচার এবং মাংস কষা দিয়ে খাওয়ার জন্য এই খিচুড়ির রেসিপি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
১০ ঘণ্টা আগে