
চার হাজার বছরের প্রাচীন এক চীনা জীবনদর্শন ফেংশুই। এটি মূলত ঘর সাজানোর পদ্ধতি। ‘ফেং’ মানে বায়ু আর ‘শুই’ মানে পানি। প্রকৃতির এই দুই শক্তির সঙ্গে মানুষের বসবাসের জায়গার সামঞ্জস্য বিধান করাই এর মূল লক্ষ্য। ফেংশুইয়ের মূল বিশ্বাস হলো ‘চি’ বা প্রাণশক্তি। আমাদের চারপাশের পরিবেশে এই শক্তির প্রবাহ যদি মসৃণ হয়, তবে তা স্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। ফেংশুই কোনো অলৌকিক জাদু নয়। এটি আপনার চারপাশ সুশৃঙ্খল করার একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রচেষ্টা। প্রতিটি দিন শেষে ঘর একবার গুছিয়ে নেওয়া, ভাঙা জিনিস মেরামত করা এবং অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে আপনার ঘর শুধু সুন্দরই করেন না, বরং নিজের মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথও প্রশস্ত করেন। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে এই মৈত্রীবন্ধনই হলো ফেংশুইয়ের মূল শিক্ষা।
ফেংশুই মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত ঘরে প্রাণশক্তির প্রবাহ যেন থমকে না থাকে, আবার খুব দ্রুত বেরিয়েও না যায়, সেদিকে নজর রাখাই এর প্রধান কাজ। বদ্ধ বা অগোছালো ঘরে এই শক্তি স্থবির হয়ে পড়ে, যা মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে। দ্বিতীয় বিষয় হলো ইন ও ইয়াং। এর অর্থ বিপরীত কিন্তু পরিপূরক শক্তির ভারসাম্য। যেমন বেডরুম হওয়া উচিত শান্ত ও আরামদায়ক (ইন), আবার ড্রয়িংরুম হওয়া উচিত প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল (ইয়াং)। এরপর আসে পঞ্চ উপাদান। অর্থাৎ কাঠ, আগুন, পৃথিবী বা মাটি, ধাতু এবং পানি—এই পাঁচটি উপাদানের সঠিক সংমিশ্রণ ঘরে স্থিতি আনে। যেমন কাঠ জীবনীশক্তি বাড়ায়, পানি আনে সমৃদ্ধি, আর ধাতু আনে মানসিক একাগ্রতা।
ফেংশুইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ হলো ‘কমান্ড পজিশন’। এর অর্থ হলো, দরজার সোজা লাইনে না থেকেও আপনার বিছানা, পড়ার টেবিল বা সোফা এমনভাবে রাখা থাকবে, যেন আপনি ঘর থেকে প্রবেশের দরজাটি স্পষ্ট দেখতে পান। এটি অবচেতন মনে নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে। এটি হঠাৎ কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনাকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

একটি ঘরের ইতিবাচক শক্তি বাড়াতে কিছু বিষয় অত্যন্ত জরুরি। যেমন অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে দেওয়া। ফেংশুই মতে, ভাঙা জিনিস বা অপ্রয়োজনীয় স্তূপ ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ আটকে দেয়। আলমারি বা খাটের নিচে অতিরিক্ত জিনিস রাখা মানে হলো নতুন কোনো সুযোগকে জীবনে আসার জায়গা না দেওয়া। কোনো স্মৃতিময় জিনিস ফেলে দেওয়ার আগে তাকে ধন্যবাদ জানানো চীনা সংস্কৃতির এক সুন্দর রীতি। এখানে আলো ও বাতাসের প্রবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে ভাবা হয়। সূর্যালোককে বলা হয় বিশুদ্ধ শক্তি। দিনের বেলা জানালা খোলা রাখা এবং জানালার কাচ পরিষ্কার রাখা ইতিবাচক আবেগ বা ‘চি’ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ঘরের কোণে ব্যাম্বো, অর্কিড বা জেড প্ল্যান্টের মতো সজীব গাছ প্রাণচাঞ্চল্য বাড়ায়। তবে বিষাক্ত বা মৃতপ্রায় গাছ রাখা নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনে।
ফেংশুইতে আয়না ও পানির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
আয়না: এটি জায়গা বাড়াতে সাহায্য করে এবং আলো প্রতিফলিত করে। তবে বেডরুমে বিছানার ঠিক বিপরীতে আয়না রাখা উচিত নয়। কারণ, এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আয়না সব সময় সুন্দর কোনো দৃশ্যকে প্রতিফলিত করার জন্য ব্যবহার করা ভালো। যেমন বাগানের দৃশ্য।
পানি: প্রবহমান পানি বা ছোট ফাউন্টেইন সমৃদ্ধির প্রতীক। প্রবেশপথের কাছাকাছি অ্যাকোরিয়াম বা পানির শোপিস রাখা সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে ঘরের কোনো কল চুইয়ে যেন পানি না পড়ে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। কারণ, একে সম্পদ ‘ক্ষয়’ হওয়ার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
প্রাচীনকালে ফেংশুই শুধু ভবন বা সমাধি নির্মাণের জায়গা নির্ধারণে ব্যবহৃত হতো। আধুনিক কালে এটি ইন্টেরিয়র ডিজাইনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রবেশপথ বা মাউথ অব চি: বাড়ির মূল দরজা পরিষ্কার ও আলোকিত রাখা উচিত। কারণ, এখান দিয়েই সমস্ত শক্তি ঘরে ঢোকে।
রান্নাঘরের গুরুত্ব: পরিষ্কার চুলা সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। চুলার প্রতিটি বার্নার নিয়মিত ব্যবহার করা প্রাচুর্যকে সক্রিয় করার একটি উপায়।
কালার থেরাপি: রঙেরও নিজস্ব প্রতীক আছে। যেমন সবুজ রং কাঠের প্রতীক। এটি বৃদ্ধি নির্দেশ করে। লাল রং আগুনের প্রতীক। এটি উৎসাহ প্রকাশ করে। আর নীল বা কালো রং পানির প্রতীক। একে ক্যারিয়ার ও অর্থের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি, আনফ্ল্যাশ

গত ৫০ বছরে ত্বকের ক্যানসারের হার বাড়তে থাকায় সূর্যের আলো নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এ বিষয়ে প্রমাণ এখন শক্তিশালী। ফলে সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা এবং সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায়...
৮ ঘণ্টা আগে
উনিশ শতকের শুরুর দিকে ঝিটকা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আকারে ধনে, পেঁয়াজ ও রসুনের চাষ হতো। ইছামতী নদীপথে নৌকায় করে এসব কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতেন ব্যবসায়ীরা। সে সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী আনন্দ মোহন পোদ্দারের দুই ছেলে যোগেশ্বর মোহন পোদ্দার ও রায়চরণ মোহন পোদ্দার ধনের ব্যবসা শুরু করেন। বড় বড়...
১০ ঘণ্টা আগে
পার্লামেন্টে ছাতা মাথায় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কঙ্গনা রনৌত। এক হাতে রোলেক্সের ঘড়ি ও বার্কিন ব্যাগ, অন্য হাতে ভারত মহাসাগরের সংস্কৃত নাম ‘রত্নাকর’ থেকে অনুপ্রাণিত নকশায় ‘গুড আর্থ’-এর একটি প্রিন্টের ছাতা। পরনে মণিপুরভিত্তিক ব্র্যান্ড এনইউপিআইয়ের তৈরি বেবি-ব্লু অ্যারি সিল্কের হালকা ওজনের শাড়ি। না, কোনো...
১৪ ঘণ্টা আগে
দৈনিক রুটিন আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু সন্ধ্য়েবেলায় বাড়ি ফেরার পর খুব বেশি ক্লান্ত অনুভব করছেন। কারণটা নিজেও বুঝতে পারছেন না। ঝট করে আগে যেভাবে সব কাজ শেষ করে ফেলতে পারতেন, আজকাল সেখানে অলসতা কাজ করছে। শারীরিকভাবে ফিট থেকেও সারা দিন ক্লান্তি ও অলসতার মুখোমুখি হলে দৈনন্দিন রুটিনে কিছু সাধারণ পরিবর্তন আন
১৬ ঘণ্টা আগে