
বন্ধু মানে জীবন, সুখ-দুঃখের সঙ্গী, রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আপন। কিন্তু আজ সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ঢেকে যাচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে। কুমিল্লায় মায়ের আইফোন হাতে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরেনি অপ্রতিম। এমন ঘটনা কি একটিই? না, আরও ঘটেছে। মনে প্রশ্ন জাগে, শুধু টাকা বা লোভই কি বন্ধুর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার কারণ।
মনোবিশ্লেষণ বা সাইকোঅ্যানালিসিস বলছে, মানুষের মনে তিনটি স্তর—ইদ, ইগো ও সুপার ইগো। ইদ চায় তৎক্ষণাৎ সুখ। মানে, আমার এখনই চাই, হোক তা অপরাধ। সুপার ইগো হলো বিবেক। সে বলে ‘এটা অন্যায়’। ইগো মাঝখানে ভারসাম্য রাখে। কিন্তু যখন ইদের চাপ বাড়ে, সুপার ইগো দুর্বল হয়ে পড়ে, ইগো হারিয়ে যায়—তখন বন্ধুত্ব, নৈতিকতা, ভালোবাসা; সব ফিকে হয়ে আসে।
‘ওর আইফোন আছে, আমার নেই’—এই ঈর্ষা একসময় ‘ও থাকলে আমি থাকতে পারি না’ ভাব তৈরি করে। আর নার্সিসিস্টিক ইনজুরি—বন্ধুর দামি ফোন, বিলাসী জীবন নিজের অক্ষমতার আয়না। সেই আয়না সহ্য করতে না পেরে সে বন্ধুকে মুছে ফেলে, নিদেনপক্ষে মুছে ফেলতে চায়।

কিন্তু এই যুগের বড় সংকট হলো অস্তিত্বের সংকট। এই সময়ের কিশোরেরা বড় হচ্ছে অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, মূল্যহীনতা আর সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনার মধ্য দিয়ে। তারা জানে না জীবনের মানে কী। ‘আমি কে? আমার জীবনের মূল্য কী?’ —এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে মানুষের ভেতরে এক শূন্যতা তৈরি হয়। আর এটিই নিজের অস্তিত্ব মুছে ফেলে। এই শূন্যতা থেকে মানুষ মাদক, অপরাধ কিংবা হিংসার দিকে ঝুঁকে পড়ে। মৃত্যুভয় ঢাকতে মানুষ সম্পদ, স্ট্যাটাস, বিলাসী জিনিসের পেছনে ছোটে—যেন ‘আমি আছি’ সেটা প্রমাণ করা যায়। স্মার্টফোন, দামি ঘড়ি, আইফোন হয়ে ওঠে অস্তিত্বের প্রমাণ। বন্ধুর হাতে সেই জিনিস দেখলে নিজের শূন্যতা টের পায় অন্যজন। বন্ধু হয়ে ওঠে সেই আয়না, যেখানে নিজের ব্যর্থতা স্পষ্ট দেখা যায়। সেই আয়না ভাঙতে সে বন্ধুকে হত্যা করে। কিন্তু মোবাইল ফোন হাতে নেওয়ার পরও শূন্যতা যায় না। কারণ, অস্তিত্বের ক্ষুধা রক্তে মেটে না।

এখন আসা যাক বিশ্বায়ন এবং ওভার ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে। বিশ্বায়ন আজ দুনিয়াকে এক গ্রামে পরিণত করেছে। কিন্তু সেই গ্রামের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ভোগবাদ আর ব্র্যান্ডের নেশা। আমেরিকার এক কিশোরের হাতে আইফোন, জার্মানির এক তরুণের হাতে দামি ঘড়ি—এই ছবি এখন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরের মোবাইল স্ক্রিনেও হাজির। গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো হয়ে উঠেছে স্ট্যাটাসের প্রতীক। ‘আইফোন থাকলে তুমি কিছু, না থাকলে তুমি কিছু নও’—এই বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে বিজ্ঞাপন, সিনেমা, ইউটিউব। ফলে গ্রামের দরিদ্র কিশোরও মনে করে, বন্ধুর আইফোন তার নিজের অস্তিত্বের চেয়ে বড়। এই তুলনা তাকে হীনম্মন্যতায় ডুবিয়ে দেয়, আর সেই হীনম্মন্যতা রূপ নেয় হিংসায়।

অতিরিক্ত ডিজিটালাইজেশন এই বিষ আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক—সব জায়গায় শুধু দেখানো হচ্ছে, কার কী আছে। কেউ দেখায় দুবাইয়ের ট্যুর, কেউ দেখায় নতুন আইফোন, কেউ দেখায় দামি গেমিং সেটআপ। এই কিউরেটেড জীবনযাত্রা বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলে না। কিশোরেরা ভাবে, ‘আমিও তো পারি’—কিন্তু পারে না। তখন সে হতাশায় ভোগে। ডিজিটাল দুনিয়ায় সে যত বেশি ডুবে থাকে, তত কমে যায় বাস্তব বন্ধুত্ব, সহানুভূতি। অনলাইনে সে শেখে সহিংসতা, শেখে টাকা জোগাড়ের সহজ পথ। মোবাইল গেম, অনলাইন জুয়া, ডার্ক ওয়েব—সব মিলিয়ে অপরাধের দরজা খুলে যায়। আর সেই অপরাধের শিকার হয় তারই বন্ধু, যে কিনা তার চেয়ে একটু বেশি ভাগ্যবান।
এই যুগের ডিজিটাল পুঁজিবাদ, ভোক্তাবাদ আর সামাজিক মিডিয়ার অসম তুলনা তরুণদের মনে করে তোলে অদৃশ্য, অসহায়। কেউ কেউ তখন ক্ষমতার স্বাদ নিতে বন্ধুকেই বলি বানায়।
যে অপরাধ করে, সে নিজেকে বোঝায়, আমি বাধ্য হয়ে অপরাধ করেছি। তবে এটা আসলে বেছে নেওয়া। অপরাধ রুখতে শুধু শাস্তি নয়, দরকার অস্তিত্বের শূন্যতা পূরণ—মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পারিবারিক বন্ধন, নৈতিক শিক্ষা, সমতার সমাজ। বিশ্বায়ন ও ডিজিটালাইজেশনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে, কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। বিনয় মজুমদারের কবিতার সেই প্রশ্নই আমাদের সামনে ফিরে আসে, ‘যখন সবকিছু চলে যায়, তখন কী থাকে?’ বন্ধুত্ব বাঁচাতে হলে আগে বাঁচাতে হবে জীবনের অর্থ।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

চিকেনের সঙ্গে মধু আর মাখনের মেলবন্ধন—শুনতে একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে মচমচে ভাজা চিকেনের সঙ্গে রসুন, মাখন ও মধুর মিষ্টি-ঝাল সস একবার মিশিয়ে দেখলেই বদলে যেতে পারে ধারণা। বাইরে ক্রিসপি আবরণ আর ভেতরে নরম চিকেনের সঙ্গে মিষ্টি স্বাদের এই সমন্বয় হানি বাটার চিকেনকে করে তুলেছে বেশ আকর্ষণীয়। কোরিয়ায়...
৩ ঘণ্টা আগে
ডায়েট চার্ট থেকে হোয়াইট পয়জন খ্যাত সাদা চিনি বাদ দিয়ে গুড় কিংবা মধু আপন করে নেওয়ার ট্রেন্ড এখন তুঙ্গে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চিনির জায়গায় গুড় ব্যবহার করলেই কি সব স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব? পুষ্টিবিজ্ঞানীরা কিন্তু বলছেন ভিন্নকথা। অনেকে মনে করেন, গুড় খেলে ওজন বাড়ে না কিংবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে...
৫ ঘণ্টা আগে
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন শুধু প্রকৃতি বা কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে মানুষের ত্বকের ওপরও। তাপমাত্রার ওঠানামা, বায়ুদূষণ, আর্দ্রতা বা শুষ্কতা এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ—সব মিলিয়ে ত্বক প্রতিনিয়ত নতুন ধরনের পরিবেশগত চাপের মুখে পড়ে। ফলে সারা বছর একই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার...
১৯ ঘণ্টা আগে
বয়স ত্রিশের কোঠায় পৌঁছতেই অনেকের ত্বকে সূক্ষ্ম বলিরেখা বা ফাইন লাইনস দেখা দিতে শুরু করে। ত্বকের এই ঝুলে পড়া ভাব দূর করতে এবং চামড়া টানটান রাখতে অনেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে বোটক্স ইনজেকশন নেন। তবে কেমিক্যাল বা ইনজেকশনের কৃত্রিম পদ্ধতি এড়িয়ে পুরোপুরি প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপাদানেও ত্বকে বোটক্সের মতো...
১ দিন আগে