Ajker Patrika

আন্তর্জাতিক হ্যাশট্যাগ দিবস

বিপ্লব, প্রতিবাদ ও ব্র্যান্ডিংয়ে ছোট্ট চিহ্নের বড় আওয়াজ

ফিচার ডেস্ক
বিপ্লব, প্রতিবাদ ও ব্র্যান্ডিংয়ে ছোট্ট চিহ্নের বড় আওয়াজ

ভার্চুয়াল দুনিয়ার ছোট্ট আইকন হ্যাসট্যাগ (#)। আজ আন্তর্জাতিক হ্যাশট্যাগ দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেয়ালে এই ছোট্ট ‘#’ চিহ্নটি আমাদের প্রতিদিনের ভাবনার সঙ্গী। এটি ছাড়া ডিজিটাল দুনিয়ায় বার্তা ছড়ানো, প্রতিবাদ গড়ে তোলা কিংবা পণ্য প্রচারের কথা এখন ভাবাই যায় না। অগণিত ফিড ও বার্তার ভিড়ে নিজের কণ্ঠস্বরকে সবার সামনে তুলে ধরতে হ্যাশট্যাগের জুড়ি নেই। তবে এই সর্বব্যাপী হ্যাশট্যাগের যাত্রা কিন্তু আজকের মতো অতটা রঙিন ছিল না।

পাউন্ড সাইন থেকে হ্যাশট্যাগ

কয়েক শতক আগে ল্যাটিন শব্দ ‘লিবরা পন্ড’। এর অর্থ ওজনের একক পাউন্ড। এটি বোঝাতে লিপিকাররা সংক্ষেপে ‘#’ চিহ্নটি ব্যবহার করতেন। পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার কিবোর্ড এবং প্রোগ্রামিং ভাষায় এর উপস্থিতি ছিল। এমনকি ১৯৮০’র দশকে ‘ইন্টারনেট রিলে চ্যাট’-এ নির্দিষ্ট বিষয়ে বার্তা সাজাতে প্রথম মেটাডেটা ট্যাগ হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগের বর্তমান রূপটির কারিগর গুগল-এর প্রাক্তন ডিজাইনার ক্রিস মেসিনা। কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট টুইটারে (বর্তমান এক্স) প্রথম লেখেন, ‘হাউ ডু ইউ ফিল এবাউট ইউজিং # ফর গ্রুপস?’—সেই সঙ্গে যুক্ত করেন ‘#বারক্যাম্প’। ২০০৭ সালের অক্টোবরে নেট রিডার নামের সান ডিয়েগোর এক বাসিন্দা ‘#স্যানডিয়েগোফায়ার’ লিখে সেখানের ভয়াবহ দাবানলের খবর বিশ্ববাসীকে জানান। ব্লগার স্টো বয় ২০০৭ সালের আগস্টেই প্রথম এই চিহ্নটিকে ‘হ্যাশট্যাগ’ নামে অভিহিত করেন। ২০০৯ সালে টুইটার আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাশট্যাগ হাইপারলিংক করা ও ‘ট্রেন্ডিং টপিক’ ফিচারটি চালু করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে টুইটার ২৩ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক হ্যাশট্যাগ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

বিশ্ব কাঁপানো ও ইতিহাস গড়া হ্যাশট্যাগ

শুধুমাত্র কিবোর্ডের একটি বাটন থেকে এটি পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক আন্দোলনে। এমন ৭টি হ্যাশট্যাগ যা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল।

  • থ্রোব্যাকথ্রার্সডে: পুরনো স্মৃতি ও নস্টালজিয়া উদযাপনে এটি হয়ে ওঠে অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক ধারা।
  • লাইকএগার্ল: ২০১৪ সালে ‘অলওয়েজ’ ব্র্যান্ডের চালানো এই ক্যাম্পেইনটি নারীদের খাটো করার পুরনো মানসিকতা বদলে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠে।
  • শেয়ারএকোক: ২০১১ সালে কোকা-কোলা বোতলের লোগো বদলে নির্দিষ্ট নাম ও এই হ্যাশট্যাগ যোগ করে বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
  • দিসগার্লক্যান: ২০১৫ সালে ‘স্পোর্ট ইংল্যান্ড’-এর এই উদ্যোগ নারীদেহের সব রূপকে সম্মান জানিয়ে নারীদের শারীরিক চর্চা ও খেলায় উৎসাহিত করে।
  • ব্ল্যাকলাইভসম্যাটার: ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই হ্যাশট্যাগ বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদ ও পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
  • মিটু: ২০১৭ সালে অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানোর ডাকে ভাইরাল হওয়া এই হ্যাশট্যাগ বিশ্বজুড়ে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের মুখ খোলার সাহস দেয় এবং আইনি পরিবর্তন আনে।
  • ওওটিডি (আউটফিট অব দ্য ডে) : ফ্যাশন সচেতনদের পছন্দের এই ট্যাগটি লাখ লাখ ব্যবহারকারীকে তাদের পোশাকের শৈলী শেয়ার করতে উৎসাহিত করেছে।

ডিজিটাল প্রচারণায় হ্যাশট্যাগের ভূমিকা

বর্তমান যুগে হ্যাশট্যাগ শুধু ট্রেন্ড নয়। এটি এখন অ্যালগরিদমকে তথ্য বোঝার সিগন্যাল দেয়। বিশেষ করে ২০২৬ সালে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ‘ফর ইউ পেজ’-এ পৌঁছাতে হ্যাশট্যাগ অনবদ্য ভূমিকা রাখছে। যেমন—পণ্য কেনাকাটায় জনপ্রিয় #টিকটকমেডমিবাইইট`, সৌন্দর্যচর্চায় #স্কিনটক` এবং আধুনিক লাইফস্টাইলে #স্প্রিংরিফ্রেশ` কিংবা #এআইএভরিহয়ার`-এর মতো হ্যাশট্যাগগুলো কন্টেন্ট নির্মাতাদের পৌঁছানোর পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ঝুঁকি

হ্যাশট্যাগের কোনো মালিকানা বা সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ফলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকেই যায়। যেমন ম্যাকডোনাল্ডস তাদের ইতিবাচক প্রচারের জন্য #ম্যাকডিস্টোরিজ` চালু করলেও ব্যবহারকারীরা সেখানে নিজেদের খারাপ অভিজ্ঞতার কথা লিখতে শুরু করেন। এটি পরবর্তী সময়ে নেতিবাচক ভাইরাল রূপ নেয়। তবুও, অগণিত ফিড ও অফুরন্ত বার্তার মহাসমুদ্রে নিজের ভাবনাকে ছড়িয়ে দিতে এবং সমমনা মানুষদের এক সুতোয় গাঁথতে এই ছোট্ট ‘#’ চিহ্নটির জুড়ি নেই।

সূত্র: লাইফওয়্যার, স্পার্ক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত