নাক ডাকা সঙ্গীর পাশে ঘুমানো অনেকের কষ্টকর অভিজ্ঞতা। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, সকালে শরীর থাকে ক্লান্ত, মেজাজও ভালো থাকে না। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে তা শুধু বিরক্তির কারণ নয়, স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, এ সমস্যার কিছু সমাধান আছে।
মনোযোগ অন্যদিকে সরান
নাক ডাকার শব্দে মন না দিয়ে নিজেকে অন্য কিছুর দিকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। এর জন্য করতে পারেন—
অনেকে ধীরে ধীরে নিজেকে এমনভাবে অভ্যস্ত করে নিতে পারেন, যাতে নাক ডাকার শব্দ পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই উপেক্ষা করা যায়।
ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করুন
সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত সমাধান হতে পারে ইয়ার প্লাগ। নরম ফোমের ইয়ার প্লাগ সহজেই ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়। যাদের সঙ্গীর খুব জোরে নাক ডাকে, তারা শব্দ কমানোর জন্য বিশেষ সিলিকন ইয়ার প্লাগও ব্যবহার করতে পারেন। এতে অস্বস্তি লাগলে নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোনও একটি বিকল্প।
হোয়াইট নয়েজ
হোয়াইট নয়েজ মেশিন একটানা হালকা শব্দ তৈরি করে। এই শব্দ আশপাশের বিরক্তিকর আওয়াজ, যেমন নাক ডাকা, অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ফলে মস্তিষ্ক সেই শব্দে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং ঘুম আসতে সহজ হয়। অনেক হোয়াইট নয়েজ মেশিনে সমুদ্রের ঢেউ, বৃষ্টি পড়ার শব্দ বা ঝরনার মতো প্রাকৃতিক শব্দ শোনা যায়। এটি স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে শান্ত করে। আলাদা যন্ত্র কিনতে না চাইলে স্মার্টফোনে থাকা হোয়াইট নয়েজ বা মেডিটেশন অ্যাপ ব্যবহার করলেও একই সুবিধা পাওয়া যায়।
সঙ্গীর ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করুন
অনেকের ক্ষেত্রে চিৎ হয়ে শুলে নাক ডাকা বেড়ে যায়। তখন পাশ ফিরে বা কাত হয়ে শুলে সমস্যা কমে। এ কারণে অনেক সময় হালকা ধাক্কা দিয়ে সঙ্গীকে পাশ ফিরিয়ে দিতে পারেন। এ ছাড়া কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতিও রয়েছে—
পজিশনাল থেরাপি: পজিশনাল থেরাপি এমন একটি কৌশল, যা চিৎ হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে ঘুমাতে সহায়তা করে, ফলে নাক ডাকা কমে।
টেনিস বল কৌশল: পিঠের নিচে গোল কোনো বস্তু রাখলে চিৎ হয়ে শুতে সমস্যা হয়, ফলে পাশ ফিরে শুতে হয়। পাশ ফিরে থাকার চর্চার জন্য এটি কার্যকর উপায়। তবে এতে পিঠে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
অ্যান্টি-স্নোরিং বালিশ: বিশেষ ধরনের বালিশ, যা ঘাড় ও মাথার অবস্থান ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

সঙ্গীকে চিকিৎসকের পরামর্শ
নাক ডাকা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা খুব তীব্র হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলুন। স্লিপ স্টাডির মাধ্যমে নাক ডাকার কারণ নির্ণয় করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি হতে পারে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, যা একটি গুরুতর ঘুমের সমস্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা অনেক সময় নিজের নাক ডাকার বিষয়টি কম গুরুত্ব দেন বা জানান না, ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।
প্রয়োজনে আলাদা ঘরে ঘুমান
সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে মাঝেধ্যে আলাদা ঘরে ঘুমানোই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তব সমাধান। প্রতিদিন নয়, কিন্তু যেসব রাতে আপনি খুব ক্লান্ত থাকেন, সেদিন নিজের ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন। তবে এতে মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা জরুরি।
একসঙ্গে সমাধান খুঁজুন
এ সমস্যা একার নয়, দুজনেরই। সঙ্গীর সঙ্গে শান্তভাবে আলোচনা করুন। অনেক সময় একসঙ্গে চেষ্টা করলেই সবচেয়ে ভালো সমাধান বেরিয়ে আসে।
নাক ডাকা মানুষের পাশে ঘুমালে কি স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়
হ্যাঁ, দীর্ঘদিন ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ঘুমের অভাবে হতে পারে—
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নাক ডাকা সঙ্গীর পাশে ঘুমানো কঠিন। তাই ধৈর্য ধরে বিভিন্ন উপায় চেষ্টা করুন এবং সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।
সূত্র: হেলথলাইন

‘নুনচি’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘চোখের মাপ’। এটি মূলত কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সামগ্রিক পরিবেশ এবং মানুষের অনুভূতি দ্রুত বুঝতে পারার ক্ষমতা। কোরিয়াতে শিশুদের মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই এই শিক্ষা দেওয়া হয়। কোনো শিশু যদি পরিবেশের সাপেক্ষে বেমানান আচরণ করে, তবে কোরীয় অভিভাবকেরা
৪৩ মিনিট আগেজন্মের পর মায়ের সঙ্গে অনিরাপদ মানসিক সম্পর্ক পরবর্তী জীবনে রোমান্টিক সম্পর্কে কি কোনো প্রভাব ফেলতে পারে? উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ। প্রশ্ন হলো, অ্যাটাচমেন্ট কী? একে বাংলায় সংযোগ বলতে পারি। অ্যাটাচমেন্ট মানে গভীর, স্থায়ী ইমোশনাল বা আবেগীয় যোগাযোগ; যার দ্বারা একজন মানুষ আরেকজনের সঙ্গে সংযুক্তি অনুভব করে।
৫ ঘণ্টা আগে
হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট দেশ ভুটান। এই দেশটিতে কেউ যান পাহাড় ও নির্মল প্রকৃতির টানে, কেউ যান বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য দেখতে, আবার কেউ যান কৌতূহল থেকে। বিশ্বের সবচেয়ে কম ভ্রমণ করা ও নিয়ন্ত্রিত দেশগুলোর একটি ভুটান।
৭ ঘণ্টা আগে
আমাদের জীবন অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্ত মিলিয়ে এক দীর্ঘ পথচলা। ক্যারিয়ার নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতিদিনের খাবারের মেনু, এমনকি দেশের নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন—সবকিছুই এই জীবনকে একেকটি রূপ দেয়। তবে অনেকের জন্যই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বেশ পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
৯ ঘণ্টা আগে