প্রশ্ন: বছরে মাত্র দুবার ঈদ আসায় অনেক সময় ঈদের নামাজে আমাদের বিভিন্ন ভুল হয়ে যায়। ঈদের নামাজ কীভাবে আদায় করব? এর সঠিক পদ্ধতি কী? এবং কোনো কারণে ঈদের নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায় করতে হয় কীভাবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
শাহজাহান তালুকদার, ময়মনসিংহ
উত্তর: দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দময় ইবাদত হলো ঈদের নামাজ। এ নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম এবং বিভিন্ন বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামের বিধানগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ঈদের নামাজের হুকুম ও সময়
যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজ আদায় করাও ওয়াজিব। এটি আদায়ের জন্য কোনো আজান বা ইকামতের প্রয়োজন নেই। সূর্যোদয়ের পর এক বর্শা (প্রায় ২০ মিনিট পর) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে দ্বিপ্রহর (জোহরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে) পর্যন্ত ঈদের নামাজ আদায় করা যায়।
ঈদুল ফিতরের নামাজ কিছুটা দেরিতে পড়া সুন্নত, যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারে।
ঈদের নামাজের নিয়ম
ঈদের নামাজ দুই রাকাত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির।
প্রথম রাকাত: তাকবিরে তাহরিমা বেঁধে সানা পড়ার পর ইমাম সাহেব অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দেবেন। প্রথম দুই তাকবিরে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবিরে হাত বেঁধে নিতে হবে। এরপর স্বাভাবিকভাবে কিরাত পড়ে রুকু ও সিজদা করতে হবে।
দ্বিতীয় রাকাত: সুরা-কিরাত শেষ করার পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিতে হবে। প্রতিটি তাকবিরে হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে।
নামাজ শেষে ইমাম সাহেবের খুতবা দেওয়া সুন্নত এবং তা শোনা মুসল্লিদের জন্য ওয়াজিব। খুতবা চলাকালে কথা বলা, মোবাইল চালানো বা উঠে চলে যাওয়া উচিত নয়।
ঈদের জামাত ছুটে গেলে করণীয়
অনেকেই যাতায়াত বা প্রস্তুতির কারণে জামাতে দেরিতে পৌঁছান। এমন ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানগুলো হলো:
রুকুতে শরিক হলে: কেউ যদি ইমামকে রুকুতে থাকা অবস্থায় পায় এবং মনে করে যে দাঁড়িয়ে তাকবির বলে ইমামকে রুকুতে ধরতে পারবে, তবে সে দাঁড়িয়েই তাকবির বলবে। আর যদি দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে সরাসরি রুকুতে চলে যাবে এবং রুকুতে থাকা অবস্থায় হাত না তুলে মনে মনে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলবে।
এক রাকাত ছুটে গেলে: ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে প্রথমে সুরা-কিরাত পড়বেন। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজ শেষ করবেন।
একেবারেই জামাত না পেলে: যদি কোনো কারণে ঈদের জামাত পুরোপুরি ছুটে যায়, তবে অন্য কোথাও জামাত হচ্ছে কি না তা দেখতে হবে। যদি কোথাও জামাত পাওয়া না যায়, তবে এর কোনো কাজা নেই। এমন অবস্থায় তওবা করে চার রাকাত চাশত বা নফল নামাজ (তাকবির ছাড়া) একা পড়ে নেওয়া উত্তম।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

জাহেলিয়াতের ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত ছিল এই ধরণি। মানুষ বিস্মৃত হয়েছিল মানবিকতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ন্যূনতম আলো। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত প্রোথিত করার মতো নির্মমতা, গোত্রে গোত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর অন্যায়-অবিচারের পঙ্কিলতায় আরবের ধূলিকণা ছিল কলঙ্কিত।
৩ ঘণ্টা আগে
মানবসভ্যতার ইতিহাসে যেসব মহামানব তাঁদের কালজয়ী কর্ম ও আদর্শ দিয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একাধারে মহান শিক্ষক, সমাজসংস্কারক, ন্যায়বিচারক, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক...
৩ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআনের জরাজীর্ণ পাতায় আলতো হাত বোলান তিনি। অক্ষরের প্রতি পরম মমতায় চোখে ভেসে ওঠে এক ঐশ্বরিক শ্রদ্ধা। তিনি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির অধিবাসী হাফেজ ইমরান কুরাইশি। কোনো সরকারি অনুদান বা সংস্থার সাহায্য ছাড়া, স্রেফ নিজের ইচ্ছাশক্তি ও রবের প্রতি ভালোবাসাকে সম্বল করে চার বছর ধরে এক অনন্য...
৩ ঘণ্টা আগে
‘ফি আমানিল্লাহ’ একটি আরবি বাক্য, যার অর্থ—‘আল্লাহর নিরাপত্তায়’ বা ‘আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন’। কাউকে বিদায় দেওয়া কিংবা বিদায় নেওয়ার সময়ে দোয়ার উদ্দেশ্যে এই বাক্যটি বলা যাবে। এতে কোনো বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামের মূল শিক্ষা ও সুন্নাহর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩ ঘণ্টা আগে