
মক্কার স্থানীয় বাসিন্দা এবং হজ ও ওমরাহ পালনকারী অনেক মুসল্লি প্রতিদিন ফলমূল, শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য একটি বিশেষ এলাকার পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন।
মক্কার সুপরিচিত এলাকা জারওয়ালে অবস্থিত এই বিশেষ স্থানটিতে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কূপ—‘বিরে তুওয়া’ বা তুওয়া কূপ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মক্কায় প্রবেশের আগে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এই কূপের কাছে অবস্থান করতেন এবং এর পানি দিয়ে গোসল সম্পন্ন করতেন। মক্কা বিজয় এবং বিদায় হজের সময়ও তিনি এই আমল লালন করেছিলেন। সম্প্রতি প্রাচীন এই স্মৃতিচিহ্নটিকে সুরক্ষার জন্য কূপটির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী (সা.) এই কূপের পাশেই রাতযাপন করেন এবং পরদিন সকালে পবিত্র মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। মূল বিষয়টি হলো—মক্কায় প্রবেশের পূর্বে এখানে অবস্থান করা ছিল নবীজি (সা.)-এর একটি নিয়মিত অভ্যাস। বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত:
‘ইবনে ওমর (রা.) যখন মক্কায় পৌঁছাতেন, তখন ফজর পর্যন্ত জি-তুওয়া উপত্যকায় রাতযাপন করতেন এবং সকালে মক্কায় প্রবেশ করতেন। আর ফেরার পথেও তিনি জি-তুওয়া দিয়ে যেতেন এবং ফজর পর্যন্ত সেখানে রাত কাটাতেন। তিনি বলতেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.)-ও ঠিক এভাবেই করতেন।’ —(সহিহ বুখারি)
পবিত্র মসজিদুল হারাম বা কাবা শরিফের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কের পাশেই কূপটি অবস্থিত। মক্কার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য ঐতিহাসিক পাহাড় এবং তায়েফের জিয়ারাহ স্থানগুলোর মতো এটিও জিয়ারাহকারীদের জন্য মক্কার অন্যতম আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ঐতিহ্যবাহী এই কূপটি দেখতে এখানে ভিড় জমান।
প্রতি বছর জিয়ারতকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এলাকাটিতে অতিরিক্ত ভিড় থাকার কারণে কূপ থেকে সরাসরি পানি তোলা বা গোসল করার অনুমতি আছে কি না, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তবে আপনি যদি স্থানটি পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেন, তবে সেখানে গিয়ে তুওয়া কূপটি দেখতে পারেন এবং চোখের সামনে কল্পনা করে নিতে পারেন—আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পবিত্র সময়ে এই স্থানটি কেমন ছিল!
পবিত্র মক্কায় প্রবেশের আগে প্রিয় নবীজি (সা.) যেহেতু এই কূপের পানি ব্যবহার করেছিলেন, তাই হজ বা ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ‘বিরে তুওয়া’ দর্শন এক চমৎকার ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুভূতি এনে দেয়।
সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমের পাশাপাশি আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইমাম মালিকের বর্ণনায় মহানবী (সা.)-এর জি-তুওয়ায় অবস্থান করা, গোসল করা এবং অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করার বহু হাদিস প্রমাণিত রয়েছে।
—ইসলামিক ইনফরমেশন অবলম্বনে

ইসলামি ধারার লেখকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের সপ্তম কাউন্সিল ও ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা মিলনায়তনে কাউন্সিল ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
১ ঘণ্টা আগে
সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকার একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি আল-হাইআতুল উলয়া বা এর অধীন ছয়টি বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে স্পষ্ট...
৬ ঘণ্টা আগে
মাওলানা এহসানুল হক দীর্ঘদিন মেহনতের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি তিনি প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দেন।
৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৮ ঘণ্টা আগে