Ajker Patrika

ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার জান্নাত লাভ

ইসলাম ডেস্ক 
ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার জান্নাত লাভ
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নারীদের নানা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে কোথাও যেমন সতর্কবাণী এসেছে, আবার এসেছে জান্নাত লাভের সুসংবাদ। লুত (আ.) ও নুহ (আ.)-এর স্ত্রীরা নবীর ঘরে থেকেও ইমান না আনায় জাহান্নামি হয়েছেন। অন্যদিকে, ইতিহাসের অভিশপ্ত জালিম ফেরাউনের স্ত্রী হয়েও হজরত আসিয়া ইমানের পথে অবিচল থেকে অর্জন করেছেন জান্নাতের সর্বোত্তম মর্যাদা।

আল্লাহর নবী মুসা (আ.)-এর লালন-পালনও করেছিলেন তিনি। নীল নদ থেকে ভেসে আসা শিশু মুসাকে পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছিলেন হজরত আসিয়া। ফেরাউন তাকে হত্যা করতে চাইলেও আসিয়া বলেছিলেন—‘এই শিশুটি আমার ও আপনার চক্ষু শীতলকারী হতে পারে।’ (সুরা কাসাস: ৯)

ফেরাউন নিজেকে খোদা দাবি করলেও তাঁর স্ত্রী আসিয়া ছিলেন এক আল্লাহর ইবাদতে মশগুল। মুসা (আ.)-এর অলৌকিকত্ব দেখে তিনি মনেপ্রাণে ইমান আনেন। হজরত আসিয়া (আ.) যখন প্রকাশ্যে ইমানের ঘোষণা দেন, ফেরাউন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে উত্তপ্ত মরুভূমিতে হাত-পা বেঁধে পেরেক দিয়ে আটকিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালায়।

নির্যাতনের চূড়ান্ত পর্যায়েও তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন—‘হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করুন। আমাকে ফেরাউন ও তাঁর দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে অত্যাচারী সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।’ (সুরা তাহরিম: ১১)

হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) জান্নাতবাসীদের মধ্যে চারজন নারীকে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: ১. খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ, ২. ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ, ৩. মারিয়াম বিনতে ইমরান ও ৪. ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুজাহিম। (মুসনাদে আহমাদ)।

হজরত আসিয়ার জীবন আমাদের শেখায় যে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যেমনই হোক, সত্যের ওপর অবিচল থাকলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত