চোখ মহান আল্লাহর দেওয়া পরম অমূল্য এক নিয়ামত। এটি মানুষের অন্তরের প্রধান প্রবেশদ্বারও বটে। চোখের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই কলুষিত হয়ে পড়ে আত্মার শুভ্রতা। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক যুগে নির্জনে কিংবা রাজপথে—সবচেয়ে বড় ইমানি সংগ্রাম হলো চোখের কুদৃষ্টি থেকে বাঁচা বা দৃষ্টির হেফাজত করা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দৃষ্টি সংযত রাখার প্রত্যক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; এটি তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র।’ (সুরা নুর: ৩০)। মানুষ প্রকাশ্যে ভালো সাজার ভান করলেও নির্জনের অপকর্ম আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না। এ বিষয়ে সতর্ক করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘চোখের খেয়ানত এবং অন্তর যা গোপন রাখে, সে সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত।’ (সুরা গাফির: ১৯)
চোখের লাগামহীনতা ধীরে ধীরে চূড়ান্ত আত্মিক পতন ডেকে আনে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন, ‘চোখের ব্যভিচার হলো (হারাম বস্তুর দিকে) তাকানো।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬১২)। অনিচ্ছাকৃত প্রথম নজর ক্ষমাযোগ্য হলেও বারবার বা ইচ্ছা করে তাকানো ইসলামে নিষিদ্ধ। আলী (রা.)-কে সম্বোধন করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে আলী, দৃষ্টির পর পুনরায় দৃষ্টি ফেলো না। কারণ, প্রথম দৃষ্টি (অনিচ্ছাকৃত হওয়ায়) তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য হলেও পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমাযোগ্য নয়।’ (জামে তিরমিজি: ২৭৭৭)
প্রিয় নবী (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন একদল মানুষ তিহামা পাহাড়ের মতো বিশাল নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু নির্জনে তারা পাপাচারে লিপ্ত হতো বলে আল্লাহ তাদের সব আমল ধূলিকণায় পরিণত করবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৪৫)
আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টি অবনত করার মাধ্যমে অন্তরে এক অনাবিল জান্নাতি স্বাদ পাওয়া যায়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘প্রথমবার কোনো সুন্দরীর প্রতি নজর পড়ার পর যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়, আল্লাহ তার অন্তরে ইবাদতের এমন স্বাদ সৃষ্টি করেন, যার মিষ্টতা সে অনুভব করে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২২৭৮)

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
জাহেলি যুগে দাস-দাসী ও গৃহকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। কটু কথা বলা কিংবা সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়া ছিল তখনকার স্বাভাবিক চিত্র। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) সে যুগে এসে শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদা এবং মানবাধিকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
১ দিন আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে
দরুদ শরিফ এক সুমহান ও বরকতময় আমল। এটি মুমিনের আত্মার আত্মিক খোরাক ও প্রশান্তির মহা উৎস। নিয়মিত দরুদ পাঠের মাধ্যমে অন্তরে পবিত্রতা আসে, মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা গভীর হয় এবং জীবন ভরে ওঠে অদৃশ্য রহমতে।
২ দিন আগে