
ইসলামি দাওয়াতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.)। বিংশ শতাব্দীতে মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীনি জজবা জাগ্রত করতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাত আজ বিশ্বব্যাপী এক বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে।
মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর প্রদেশের কান্ধালা নামের গ্রামের এক বিখ্যাত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম ছিল ‘আখতার ইলিয়াস।’ তাঁর পিতা মাওলানা ইসমাইল (রহ.) ছিলেন একজন বড় মাপের আলেম। তাঁর বড় ভাই মাওলানা ইয়াহইয়া কান্ধলভিও ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক। শৈশব থেকেই তিনি এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।
তাঁর নানি প্রায়ই বলতেন, ‘আখতার, আমি তোমার থেকে সাহাবায়ে কেরামের সুঘ্রাণ পাই।’ এমনকি শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) বলতেন, তাঁকে দেখলে সাহাবায়ে কেরামের কথা স্মরণ হয়।
কান্ধালাতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার পর উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মাওলানা খলিল আহমাদ সাহারানপুরি ও শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দির মতো প্রখ্যাত স্কলারদের সান্নিধ্য লাভ করেন।
আধ্যাত্মিকতার পথে তিনি হজরত রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহি (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি মাওলানা সাহারানপুরি (রহ.)-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং শায়খুল হিন্দ (রহ.)-এর হাতে আল্লাহর পথে লড়াইয়ের বায়াত নেন।
মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর জীবনের শ্রেষ্ঠ অবদান হলো তাবলিগ জামাতের সূচনা। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মেওয়াত এলাকার মানুষের ধর্মীয় উদাসীনতা দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন।
শেষ বয়সে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও দাওয়াতি কাজে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ছিলেন অজেয় হিম্মতের অধিকারী। তিনি বলতেন, দ্বীনের এই কাজ আলেমদেরই জিম্মাদারি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এই মিশন চালিয়ে গেছেন। অবশেষে ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই মধ্যরাতে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেন।
আজ বিশ্বের আনাচে-কানাচে তাবলিগের যে জোয়ার দেখা যায়, তার বীজ বপন করেছিলেন মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)। তাঁর বিনয়, ইখলাস ও নিরলস মেহনত আজও কোটি কোটি মানুষের ইমানি পথপ্রদর্শক।

ইসলাম ধর্মে সিয়াম বা রোজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি একজন মুসলমানের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রোজা মানুষকে আত্মসংযম, ধৈর্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে পরিচালিত করে। রমজান মাসের রোজা শুধু পানাহার ত্যাগ করা নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও সমাজসেবার এক অনন্য মাধ্যম।
১৩ ঘণ্টা আগে
বলছি, মক্কার সবচেয়ে বিশ্বস্ত যুবকের যৌবনকালের কথা—যাঁর সততা আর নৈতিকতা তাঁর যৌবনের উজ্জ্বলতাকে পবিত্র করে তুলেছিল। তিনি আমাদের মহানবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁর সততা, বিশ্বস্ততা আর অনুপম চরিত্রের গল্প সবার মুখে মুখে ঘুরে বেড়াত। মানুষজন ভালোবেসে তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন—‘আল-আমিন।’
১৪ ঘণ্টা আগে
ইসলামে ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার প্রধান শর্ত হলো নিয়ত বা সংকল্প। বিশেষ করে রমজানের রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি: ১)
১৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৯ ঘণ্টা আগে