মানবসমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা, সদ্ভাব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা। এই লক্ষ্য অর্জনে হাদিয়া বা উপহার আদান-প্রদান একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও পরীক্ষিত পদ্ধতি।
হাদিয়া শুধু একটি বস্তুগত বিনিময় নয়, এটি হৃদয়ের অনুভূতি, ভালোবাসা এবং শুভেচ্ছার এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। ইসলামে এই আমলটিকে অত্যন্ত উৎসাহিত করা হয়েছে। কারণ, এর মাধ্যমে পাষাণ হৃদয়ও নরম হয়ে যায় এবং তিক্ত সম্পর্কও মধুর হয়ে ওঠে। হাদিয়া আদান-প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মাঝে আন্তরিকতা সৃষ্টি করা। এটি মানুষের মন থেকে রাগ, বিদ্বেষ ও শত্রুতার ভাব দূর করে ভালোবাসার বীজ বপন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর উপহার আদান-প্রদান করো, তাহলে তোমাদের মাঝে ভালোবাসা বৃদ্ধি হবে।’ (জামে তিরমিজি)
অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি বা তিক্ততা সৃষ্টি হয়, যা থেকে শত্রুতার জন্ম নেয়। হাদিয়া এ ক্ষেত্রে জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। আন্তরিকভাবে দেওয়া একটি উপহার কঠিন হৃদয়ের দেয়াল ভেঙে দিতে সক্ষম।
হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা পরস্পর হাদিয়া আদান-প্রদান করো। কেননা, হাদিয়া অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করে দেয়।’ (জামে তিরমিজি)। আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলাও, তাহলে তোমাদের বিদ্বেষ দূর হয়ে যাবে; আর তোমরা পরস্পরকে উপহার দাও, তাহলে শত্রুতা দূর হয়ে যাবে।’ (মুআত্তা ইমাম মালেক, আল-আদাবুল মুফরাদ)
বাস্তব জীবনে দেখা যায়, একজন তিক্ততা পোষণকারী আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে আন্তরিকতার সঙ্গে একটি উপহার দিলে তার পাষাণ হৃদয়ে পরিবর্তন আসে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এটি প্রমাণ করে যে হাদিয়া মানুষের ভেতরের নেতিবাচক অনুভূতিকে ইতিবাচক রূপে রূপান্তরিত করতে পারে।
হাদিয়া গ্রহণ ও প্রদান করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি প্রিয় অভ্যাস ছিল। তিনি উপহার গ্রহণ করতেন এবং বিনিময়ে কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এটি ছিল তাঁর উচ্চ নৈতিকতার প্রমাণ।
আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিয়া গ্রহণ করতেন এবং এর প্রতিদান দিতেন।’ (সহিহ্ বুখারি)
সামান্য ও নগণ্য হাদিয়াও তিনি ফিরিয়ে দিতেন না। এর মাধ্যমে তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে উপহারের মূল্য নয়, বরং আন্তরিকতাই আসল। হাদিয়া আদান-প্রদান শুধু একটি সামাজিক প্রথা নয়, এটি একটি ইবাদত এবং নবুওয়াতের শিক্ষা। এটি এমন এক মানবিক কৌশল, যা মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করে বিদ্বেষ দূর করে ভালোবাসা ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠা করে।
আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সম্পর্কগুলোকে সুন্দর ও মজবুত করার জন্য হাদিয়ার এই ঐশী মাধ্যমটিকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। হাদিয়ার মূল্য নয়, বরং এর পেছনে থাকা আন্তরিকতাই পারে যেকোনো মানুষের অন্তর পরিবর্তন করে সম্পর্ককে স্থায়ী ও মধুর করতে।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, কশবামাজাইল, পাংশা, রাজবাড়ী।

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে এবার বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার গৌরব উড্ডীন করলেন হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাবিবুল কোরআন ইউকে’ আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন কমপিটিশন-২০২৬ ’-এ তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠেয় ১৪৪৮ হিজরির (২০২৭ সন) দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার নিবন্ধনের সাধারণ সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশের সংশ্লিষ্ট সব মাদ্রাসা ও পরীক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য...
৯ ঘণ্টা আগে
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বকাল ও সর্বজাতির মধ্যে বাচনিক প্রজ্ঞার সর্বময় গুণের অধিকারী। তিনি যেমন অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে দূরে থাকতেন, তেমনি সত্য ও ন্যায়ের স্থানগুলোতে কখনো নিশ্চুপ থাকতেন না। পরিমিতভাষিতা ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান ভূষণ।
৯ ঘণ্টা আগে
‘মুহাম্মদ (সা.)’—পৃথিবীর ইতিহাসে এই নামটি এক অনন্য ও অতুলনীয় সত্তার প্রতীক। তাঁর জীবন, উসওয়াহ বা আদর্শ এবং কর্ম নিয়ে যুগে যুগে যত গবেষণা, আলোচনা কিংবা গ্রন্থ রচিত হয়েছে, মানবজাতির ইতিহাসে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে তা হয়নি।
১৪ ঘণ্টা আগে