Ajker Patrika

ব্লিঙ্কেনের চীন সফর: আলোচনায় অগ্রাধিকার পেতে পারে যে ৩ বিষয় 

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৩, ১৫: ১১
ব্লিঙ্কেনের চীন সফর: আলোচনায় অগ্রাধিকার পেতে পারে যে ৩ বিষয় 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দুই দিনের সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন কূটনীতিকের এটা চীনে প্রথম সফর। আজ রোববার বিবিসির প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়েছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক কিছুটা শীতল করতেই ব্লিঙ্কেনের এই সফর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

গত পাঁচ মাস আগে সফরের কথা ছিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের। কিন্তু মার্কিন আকাশে একটি সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর বেলুনের উড্ডয়নের পর তা স্থগিত হয়। মার্কিন সামরিক বিমান দ্বারা বেলুনটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বেলুনের বিষয়ে চীন বলেছিল, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য তারা এটা উড়িয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সফরের জন্য প্রত্যাশা কমিয়েছে এবং উভয় পক্ষই স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো বড় অগ্রগতির আশা করছে না।

চীন সফরে ব্লিঙ্কেন চীনের শীর্ষ পররাষ্ট্রনীতি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে কিন্তু চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে দেখা করবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এদিকে গত শুক্রবার মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করেছেন শি জিনপিং।

তবে ব্লিঙ্কেনের এই সফরে তিনটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিষয়গুলো হলো—সম্পর্ক মেরামত, বাণিজ্য সংঘাত কমানো এবং যুদ্ধ এড়ানো।

সম্পর্ক মেরামত
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্লিঙ্কেন হলেন চীনে যাওয়া মার্কিন সরকারের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এই সফরের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে, যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়া সমাধান করা। এর আগে গত মাসে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একত্রে বসে প্রাথমিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে ব্লিঙ্কেনের এই সফর নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া কিছুটা শীতল। ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বুধবার রাতে ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতির জন্য কে দায়ী তা একেবারেই স্পষ্ট।

ব্লিনকেনকে গ্যাং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত চীনের উদ্বেগকে সম্মান জানানো। চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। প্রতিযোগিতার নামে চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা উচিত।’

স্টেট ডিপার্টমেন্টের জ্যেষ্ঠ পূর্ব এশিয়া কূটনীতিক ড্যানিয়েল জে ক্রিটেনব্রিংক বলেন, ‘দুজন একে অপরের সঙ্গে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাতে কোনো ধরনের অগ্রগতি আশা করা ঠিক হবে না। সম্পর্ক ঠিক করতে হলে দুই দেশকেই নিজেদের আগ্রহ দেখাতে হবে।’ 

বাণিজ্য সংঘাত কমানো
চীনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বইডেনের সম্পর্ক একটি নড়বড়ে অবস্থা থেকে শুরু হয়েছিল। কারণ তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রণীত বাণিজ্যব্যবস্থা বাতিল করতে ইচ্ছুক ছিলেন না। যার মধ্য রয়েছে, চীনের তৈরি পণ্য আমদানির ওপর বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপ।। 

আবার বাইডেন ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তিতে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার প্রয়াসে চীনে মার্কিন কম্পিউটার-চিপ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। প্রতিক্রিয়ায় চীন মার্কিন প্রতিষ্ঠান মাইক্রোনের কম্পিউটার মেমোরি চিপ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপসহকারী এবং ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক সমন্বয়কারী কার্ট ক্যাম্পবেল চীনের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর মতে, এসবের পেছনের কারণগুলো সফরে হয়তো ব্যাখ্যা করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া সামনের দিনগুলোয় আর কী কী হতে পারে তারও একটা ধারণা দিতে পারেন ব্লিঙ্কেন। 

যদি কম্পিউটার প্রযুক্তি দুটি পরাশক্তির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার জন্য নির্ধারিত একটি ক্ষেত্র হয়, তবে মাদক কারবারের জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হেরোইনের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী সিনথেটিক ওপিওড ফেন্টানাইল তৈরিতে ব্যবহৃত চীনা উৎপাদিত রাসায়নিক উপাদানগুলোর রপ্তানি সীমিত করতে চায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলের অতিরিক্ত মাত্রায় মৃত্যুর হার গত সাত বছরে তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

যুদ্ধ এড়ানো
বেলুনের ঘটনার পর চীন রাশিয়ার কাছে অস্ত্র পাঠানোর কথা ভাবছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবিলম্বে এগুলো ব্যবহার করা হবে। ইউক্রেন-রাশিয়া বিরোধকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রক্সি যুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

ভিয়েনায় চীনাদের দেওয়া হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়া দেখাবেন ব্লিঙ্কেন—এমনটাই মনে করছেন কর্মকর্তারা। তিনি বলতে পারেন, চীন যদি রাশিয়াকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়, তবে পরিণতি গুরুতর হবে। 

তাইওয়ান প্রণালি এবং দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা যুদ্ধজাহাজ কয়েক দফায় মুখোমুখি হয়েছে। চীন এলাকাটিকে নিজেদের বলে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জোর গলায় বলে আসছে, এটা আন্তর্জাতিক জলসীমা। 

ব্লিঙ্কেন ও তাঁর কূটনৈতিক দল বলেছে যে, এই সফরে তাঁর লক্ষ্য হলো উত্তেজনাকে ‘ঝুঁকিমুক্ত করা’ এবং নতুন যোগাযোগ শুরু করা। 

এদিকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনার আগে ব্লিঙ্কেন বলেছেন, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর উপায় বের করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার আশা তাঁর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত