Ajker Patrika

গোপনে সিআইএ প্রধানকে রাশিয়া পাঠান ট্রাম্প, জানতেন না শীর্ষ কর্মকর্তারাও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গোপনে সিআইএ প্রধানকে রাশিয়া পাঠান ট্রাম্প, জানতেন না শীর্ষ কর্মকর্তারাও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের রাশিয়া সফর নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফরকে ‘সেমি-রুটিন’ বা অনেকটাই নিয়মিত সফর হিসেবে অভিহিত করলেও জানা গেছে, ট্রাম্প নিজেই এই সফরে পাঠিয়েছিলেন র‍্যাটক্লিফকে এবং এর চেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল এ সফরের কথা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাটভিয়া থেকে একটি মার্কিন সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমানে করে র‍্যাটক্লিফ রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় যান। তাঁর সফর ঘিরে এতটাই গোপনীয়তা ছিল যে সফরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কয়েকজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ট্রাম্প রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে নতুন কূটনৈতিক পথ খুঁজছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর এমন সময়ে এই রহস্যজনক সফর হলো, যখন মস্কো ইউক্রেনে হামলা আরও জোরদার করছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ প্রতিহত করছে।

আর এ ট্রাম্পের দূত হিসেবে র‍্যাটক্লিফকে বেছে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের অন্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সহযোগীর মাধ্যমে আগের আলোচনার উদ্যোগগুলো কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। ফলে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ থাকা সিআইএ প্রধানের ওপর ভরসা করেছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সিআইএ প্রধান তাঁর মস্কো সফরে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ আবার শুরু করার বিষয়েও চাপ দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান কিরিলো বুদানভ জানান, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক থেকে দূরে সরে আসার জন্য রাশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছেন র‍্যাটক্লিফ। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার অভিযান জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মস্কো সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ক্রমবর্ধমানভাবে সমর্থন করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এখনো টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।

সফর সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর ইউরোপের দুজন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, র‍্যাটক্লিফ তাঁর রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সমকক্ষ কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন এখনো ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রতি দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর আগে জানিয়েছিল, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে রুশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন র‍্যাটক্লিফ। তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এই হুমকির বিষয়টি গুরুত্বহীন করে দেখিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘ন্যাটোর ভূখণ্ডে হামলা করবেন না’।

আর ন্যাটোর বিষয়ে র‍্যাটক্লিফের সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন ইউরোপীয় সরকারগুলো জোটের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কথিত ‘হাইব্রিড’ অভিযান নিয়ে ক্রমশ বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। ইউরোপের মিত্র দেশগুলোতে ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, সাইবার হামলা এবং এমনকি বিস্ফোরক থাকা প্যাকেট পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন দুর্বল করা এবং ন্যাটোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করাই এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য।

এর আগে গত আগস্টে আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে বৈঠকটি কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলের এমন কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে চাপ দিতে থাকে, যেগুলো রাশিয়া এখনো পুরোপুরি দখল করতে পারেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত