
পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সিনেটর রানা সানাউল্লাহ পাকিস্তানের শীর্ষ পাঁচ ব্যক্তিত্বের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে দেশে কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। তিনি চার নেতার নাম স্পষ্ট করলেও, পঞ্চম ব্যক্তির নাম নেননি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ক্যাপিটাল টক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন নওয়াজ শরিফ, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং আরও একজন।’ তবে সেই পঞ্চম ব্যক্তির নাম তিনি খোলসা করেননি।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক ও জনবিষয়ক উপদেষ্টা সানাউল্লাহর মতে, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের হতে পারবে না। নিচু স্তরের অপ্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ কোনো বড় সংকট মেটাতে পারবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা আমির ডোগার আলোচনার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিতে সানাউল্লাহকে অনুরোধ জানান। জবাবে সিনেটর বলেন, ডোগারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আনবে না। পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি সংলাপে বসা দরকার।
একই সঙ্গে রানা সানাউল্লাহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানান। এই ধরনের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে পিটিআই নেতারা যে দাবি করেন, তা তিনি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘এমন দাবি করে দলটি দায় এড়াতে পারে না।’ বরং দলটির উচিত জনসমক্ষে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং সেগুলো বন্ধ করা নিশ্চিত করা। সানাউল্লাহর মতে, প্রোপাগান্ডা যদি করতেই হয় তবে তা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে করা যেতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের ডাক নিয়ে পিটিআইকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি ব্যর্থ হবে এবং তারা দেশ অচল করতে পারবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ওই দলের জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সানাউল্লাহ পিটিআইকে এই কর্মসূচির ডাক প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংঘাতের পথে হাঁটলে পরিস্থিতির শুধু অবনতিই হবে।
অন্যদিকে, আমির ডোগার বলেন, ২০২৫ সালে তাঁর দল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। ২০২৬ সালে এই পরিস্থিতির অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, গত এক বছরে দেশে কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে।
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান ডোগার। তিনি বিশেষভাবে সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস ও মাহমুদ আচাকজাইকে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। তাঁর বিশ্বাস, এ ধরনের যোগাযোগ বিবাদ মেটানোর পথ তৈরি করতে পারে।
জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, যদি প্রতিষ্ঠানবিরোধী প্রচার বন্ধ করা যায়, তবেই রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নত হবে এবং ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পথ সুগম হবে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ইমরান খানের বোন যখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন জেল সুপারিনটেনডেন্ট তাঁকে বাইরে গিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আমির ডোগারও মনে করেন, দেশের ‘শীর্ষ পাঁচ’ ব্যক্তিত্বের বৈঠকই পারে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে। তিনি স্বীকার করেন যে রাতারাতি হয়তো বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না, কিন্তু আলোচনার দরজা সব সময়ই খোলা রাখা উচিত।

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু কে হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়েছে। ইরানের পর ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির দৈনিক মাআরিভে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির’...
২ ঘণ্টা আগে
ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় পবিত্র বাইবেলের শ্লোক পড়তে গিয়ে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা ‘পাল্প ফিকশন’-এর একটি কাল্পনিক সংলাপ আওড়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ। গত বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রার্থনা সভায় তিনি বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল ২৫: ১৭’ শ্লোকটির কথা...
২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেইজিংকে এক কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে সামলানো, অন্যদিকে তেহরানকে চটানো যাবে না—এমন এক ভারসাম্য রক্ষার...
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে চীন। ওয়াশিংটন যখন তেহরানকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এ বিষয়টি সামনে এল। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী...
২ ঘণ্টা আগে