Ajker Patrika

জলপাই সংগ্রহে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন ইসরায়েলের সাবেক জেনারেলরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
জলপাই সংগ্রহে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন ইসরায়েলের সাবেক জেনারেলরা
ফিলিস্তিনি চাষিদের পাশে ইসরায়েলি সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও নানা বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহ কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা।

আল-জাজিরার এক ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়—গত ৩ নভেম্বর নাবলুসের কাছে ফিলিস্তিনি চাষিদের জলপাই সংগ্রহে অংশ নেন ইসরায়েলের ছয় সাবেক জেনারেলসহ প্রায় ৩০ জন সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।

ইসরায়েলের সাবেক মেজর জেনারেল আইয়াল বেন-রুভেন কয়েক মাস আগে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন। জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান হামলার প্রতিবাদ এবং কৃষকদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনাকে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর অতীতে সংঘটিত নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে তুলনা করেন বেন-রুভেন। তিনি বলেন, তাঁর মা-বাবার কাছ থেকে শোনা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর কথা বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে পড়ছে।

ইসরায়েলের সাবেক কর্নেল ডোরন মেইনার্টও পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি দখলদারত্বের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এই দখলদারত্ব ইসরায়েলি সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা। এর সমাধানে ফিলিস্তিনিদের অন্তর্ভুক্ত করে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনি ভূমির মালিক নিমর নাজ্জাল জানান, সাবেক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণে তিনি এবার এমন কিছু জলপাইগাছের ফল সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যেখানে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার আশঙ্কায় একা যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা দিচ্ছে। ফলে কৃষকদের জন্য নিজেদের জমিতে কাজ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, পশ্চিমতীরে নিরাপত্তা বজায় রাখাই তাদের দায়িত্ব। বসতি স্থাপনকারীদের সহায়তা করা কিংবা হামলার ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন-এর তথ্য অনুযায়ী—চলতি বছরের জলপাই সংগ্রহ মৌসুমের প্রথম ৩৫ দিনে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর ১৮০টি শারীরিক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার ২৩ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের উপস্থিতি ছিল।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জলপাই সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি চাষিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ১৯৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।

ফিলিস্তিনের হাজার হাজার পরিবারের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস জলপাই চাষ। কিন্তু চলাচলে বিধিনিষেধ, ভয়ভীতি ও হামলার কারণে কৃষিজমিতে প্রবেশ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সহযোগিতায় এগিয়ে আসা ইসরায়েলের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোনাথন ইয়োনি বলেন, ফিলিস্তিনি কৃষকদের দুর্দশার পাশাপাশি পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা তাঁকে এই উদ্যোগে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাঁর মতে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে, ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

পশ্চিমতীরে প্রায় পাঁচ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং অন্তত ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী মনে করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে অঞ্চলটিকে বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

জলপাই সংগ্রহে সাবেক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ দেশটির সমাজের অভ্যন্তরে দখলদারত্ব ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণ নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যও সামনে এনেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত