Ajker Patrika

যুদ্ধবিরতির পরও গাজার রাফাহ ক্রসিং চালুতে ইসরায়েলের শর্তারোপ, চলাচল হবে একমুখী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ২১
যুদ্ধবিরতির পরও গাজার রাফাহ ক্রসিং চালুতে ইসরায়েলের শর্তারোপ, চলাচল হবে একমুখী

গাজায় থেকে যাওয়া সর্বশেষ ইসরায়েলি সেনার মরদেহ উদ্ধারের অভিযান শেষ হওয়ার পর মিসরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিংয়ের একটি ‘সীমিত পুনঃ উদ্বোধন’ করার অনুমতি দেবে ইসরায়েল। তবে এই সীমান্ত খোলা হবে শুধু ‘একমুখী’ চলাচলের শর্তে, যা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গতকাল রোববার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন একসময়ে এ ঘোষণা এল যখন গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, রাফাহ সীমান্ত পুনরায় চালুর বিষয়টি মূলত হামাসের পক্ষ থেকে ‘শতভাগ প্রচেষ্টার’ ওপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা রান গভিলির মরদেহ খুঁজে বের করে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না। গত অক্টোবর মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রাথমিক ধাপেই এই সীমান্ত খোলার কথা ছিল। বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাসংলগ্ন একটি কবরস্থানে গভিলির মরদেহের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, হামাস দাবি করেছে তারা ইতিমধ্যে ‘সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার’ সঙ্গে রান জি গভিলির মরদেহের অবস্থান ইসরায়েলকে জানিয়ে দিয়েছে। হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা চুক্তি অনুযায়ী আমাদের সমস্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ করেছি। এই বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার কোনো আগ্রহ আমাদের নেই।’ তিনি উল্টো ইসরায়েলকে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

২০২৪ সাল থেকেই রাফাহ ক্রসিংয়ের গাজা অংশটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় সীমান্তটি ‘উভয় দিকে’ খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, এটি শুধু ‘পথচারী চলাচলের’ জন্য এবং ‘ইসরায়েলি পরিদর্শন ব্যবস্থার’ অধীনে সীমিতভাবে খোলা হবে।

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের এই ‘সীমিত’ প্রবেশাধিকারের আসল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করা। ‘দ্য প্যালেস্টাইন ল্যাবরেটরি’ বইয়ের লেখক অ্যান্থনি লোওয়েনস্টাইন আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইসরায়েল চাইছে ফিলিস্তিনিরা চলে যাক, কিন্তু তারা যেন আর ফিরে আসতে না পারে। মিসরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গত দুই বছর ধরে আটকা পড়ে আছে, যারা নিজ দেশে ফিরতে চায়। কিন্তু ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ থাকলে তাদের ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি ‘টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনি কমিটি’ এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। যদিও হামাস স্পষ্ট জানিয়েছে, দখলদারিত্ব চলাকালীন তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।

এদিকে শান্তি আলোচনার মধ্যেই গতকাল গাজা সিটির তুফাহ এবং দক্ষিণ খান ইউনিসে পৃথক হামলায় আরও তিনজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেই গাজায় ৪৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গত দুই বছরের যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৫৭ জনে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ছাড়িয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘পাকিস্তান সরকার যদি ক্রিকেট বোর্ডকে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াতে বলে, তখন’

সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু, এসআইকে কান ধরিয়ে রাখল বিক্ষুব্ধ জনতা

ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করতে যাচ্ছে পাকিস্তান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত