Ajker Patrika

অবরুদ্ধের পর এবার হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ২৬
অবরুদ্ধের পর এবার হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিতে দেখা গেছে। ছবি: বিবিসি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙতে শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় ওই দুই সেনা নিহত হন। শুক্রবারের (২৩ অক্টোবর) এই ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হামলাকারী দুজনও নিহত হন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামলাকারীরা যে এলাকা থেকে এসেছেন, সেটি ‘ধ্বংস’ করা হবে। অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকধারীদের তীব্র গোলাগুলির দৃশ্য দেখা গেছে। যাচাই না হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি গাড়ি থেকে নেমে দুই বন্দুকধারী হেবরনের বাইরের একটি চেকপোস্টে সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। তাঁদের হাতে পিস্তল ও অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো অস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সেনারাও পাল্টা গুলি চালান।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বাড়ছে। বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, চার দিন পর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি করেছেন নেতানিয়াহু। হামলার পর আজ সকালের নির্ধারিত নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দেয় তাঁর দল লিকুদ পার্টি। ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীদের এলাকার চেহারা পুরোপুরি বদলে দেওয়া হবে।

ইসরায়েলি বাহিনী অতীতেও হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে সমালোচনা করেছে। নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের শরণার্থীশিবিরগুলোতে আগের সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। তবে কবে তা শুরু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। হেবরন ও পাশের হালহুল শহরের চারপাশে অবরোধও আরোপ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ পশ্চিম তীরে গাজা বা লেবাননের মতো অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৯৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় চার ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মী ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজকের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত