উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ আবির্ভাব, ঘোষণা শিগগির

কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি জানিয়েছেন, কাতার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে নতুন ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ গড়ে তুলতে চায়। এই বিষয়ে শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। আজ সোমবার দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছি।’ শেখ সৌদ বলেন, কাতার সম্প্রতি নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পর্যালোচনা করেছে। এ ক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা এবং পানির নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। শেখ সৌদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের সময় যৌথ অভিজ্ঞতা ও কয়েক দশকের সামরিক বিনিয়োগের ফলে ‘৯০ শতাংশের বেশি হামলা’ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল।
কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে কাতার। তিনি বলেন, হামলা শুরুর আগে ইরানের সঙ্গে কাতারের আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক ছিল। দুই দেশের যৌথ গ্যাসক্ষেত্রের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের জুন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’ এ সময় তিনি ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলার কথা উল্লেখ করেন। কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ সৌদ বলেন, দোহা এ ঘটনায় ‘বিস্মিত’ হয়েছিল। তবে এরপর থেকে তেহরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না।’ মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন পর্যায়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে কাতার বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘সাধারণ সমঝোতা’ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, কাতারের ‘প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ ঘোষণার করতে যাওয়ার বিষয়ে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গবেষক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেছেন, দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে আশাবাদী মনোভাব ছিল। এলমাসরি বলেন, ‘উপপ্রধানমন্ত্রী মূলত সহনশীলতা ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতার বার্তা দিতে চাইছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, উপপ্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম যুদ্ধের প্রসঙ্গ আবার তুলে এনেছেন, যা ছিল লক্ষণীয়। এলমাসরি বলেন, ‘তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর কাতার এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসির অন্যান্য দেশ কীভাবে আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল। তখন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতি আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছিল। আমার মনে হয়, তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর এবং আশাবাদী থাকার বার্তা দিয়েছেন।’
এলমাসরির মতে, ঘোষিত নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বটি ‘সম্ভাব্যভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ‘আঞ্চলিক অংশীদারত্ব ও সংলাপ’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।









