Ajker Patrika

‘সে জেলেই মরবে’, ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুকে বিচারকের চিঠি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘সে জেলেই মরবে’, ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশুকে বিচারকের চিঠি
ধর্ষণের শিশুকে চিঠি লেখেন ভারতের রোহিণীর অতিরিক্ত দায়রা বিচারক-০১ (পকসো) রজনী রাঙ্গা। ছবি: এনডিটিভি

৭ বছর বয়সী একটি শিশুকে ধর্ষণ করেছিলেন এমন এক ব্যক্তি যাঁকে সে ‘আঙ্কেল’ বলে ডাকত। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়িয়ে সাজা হিসেবে ‘বৃদ্ধ’ হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছিল শিশুটি। ধর্ষণের অভিযোগের সেই মামলার রায় হতে হতে পার হয়েছে তিন বছর। রায় ঘোষণার পর ১০ বছর বয়সী ওই শিশুটিকে সাহস জুগিয়ে চিঠি লিখলেন বিচারক। ভারতের রোহিণীতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়।

ভারতের রোহিণীর অতিরিক্ত দায়রা বিচারক-০১ (পকসো) রজনী রাঙ্গা রায় ঘোষণার পর প্রথাগত আইনি ভাষার বাইরে গিয়ে সরাসরি শিশুটিকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লেখেন।

চিঠিতে বিচারক লেখেন,

‘প্রিয় সন্তান,

এই আদালত তোমার কথা শুনেছে। তুমি বলেছিলে, ‘আঙ্কেল যত দিন না বৃদ্ধ হয়ে যায়, ততদিন যেন তাকে জেলেই রাখা হয়’। আদালত তোমার কথা শুনেছে। আদালত তোমার সেই আরজির জবাব দিয়েছে।

আজ এই আদালত আদেশ দিয়েছে, তুমি যাকে ‘আঙ্কেল’ বলতে, সে আর কোনোদিন মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। বাকি জীবন তাকে খাঁচাতেই কাটাতে হবে। সে ওই খাঁচাতেই বৃদ্ধ হবে। সেই খাঁচাতেই তার মৃত্যু হবে। সে আর কখনো তোমার, তোমার ছোট বোনের বা অন্য কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।

তুমি এই আদালতের দেখা সবচেয়ে সাহসী ছোট মেয়ে। তুমি আদালতে এসেছ, যে লোকটি তোমাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে চিহ্নিত করেছ এবং সত্যি কথা বলেছ।

যাকে তুমি ‘আঙ্কেল’ বলতে, সে তোমার সঙ্গে খুব খারাপ একটা কাজ করেছে। কিন্তু তুমি চুপ থাকোনি। তুমি তোমার মাকে বলেছ। আর তোমার কথা বলার সাহস ছিল বলেই সে আর কোনোদিন কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।

এই আদালত তোমাকে তোমার শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে আদালত তোমাকে কথা দিতে পারে যে, তোমার কথা শোনা হয়েছে। তোমার আরজি মঞ্জুর করা হয়েছে। যে লোকটি তোমার ক্ষতি করেছে, সে আর কোনোদিন মুক্ত মানুষ হিসেবে সূর্য দেখতে পাবে না।

এখন, বাচ্চা আমার, তোমার জীবনটা বাঁচো। স্কুলে যাও। বন্ধু বানাও। হাসো। খেলাধুলো করো। স্বপ্ন দেখো। এই আদালত সর্বদা তোমার সাহসের কথা মনে রাখবে।’

দিল্লি হাইকোর্ট উত্তর-পশ্চিম দিল্লি জেলা আইনি সেবা কর্তৃপক্ষকে (ডিএলএসএ) নির্দেশ দিয়েছেন, বিচারকের ওই বার্তাটি শিশুটির কাছে অথবা তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে। শিশু যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন বা পকসো আইনের আওতায় মামলাটি পরিচালিত হয়েছে।

আদালত বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থের সঙ্গে বার্তাটি শিশুটির কাছে পৌঁছে দিতে হবে। বিচারপতি প্রতিভা এম সিং ও বিচারপতি দীনেশ ভট্টের বেঞ্চ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এই আদেশ দেন।

হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই ঘটনাটি ঘটেছিল। তখন শিশুটির বয়স ছিল সাত বছর। এখন তার বয়স ১০ বছর। বিচারিক আদালতের দেওয়া শিশুটির উদ্দেশে লেখা বার্তাটিকে হাইকোর্টের বেঞ্চ ‘সাহসের বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সুমিত শাক্য নামের এক ব্যক্তির করা ফৌজদারি আপিলের সূত্রে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে। বিচারিক আদালত ১২ বছরের কম বয়সী এক শিশুর ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতন এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন।

পকসো আইনের আওতায় তাঁকে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়। অপরাধমূলক ভয় দেখানোর দায়ে তাঁকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়। দুই সাজাই একই সময়ে কার্যকর হবে।

বিচারিক আদালত শিশুটির জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত