Ajker Patrika

ভারতে পেট্রলপাম্পে কুড়াল দিয়ে যুবকের দুই হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন, বাঁচাতে মায়ের আপ্রাণ চেষ্টা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৫: ০৬
ভারতে পেট্রলপাম্পে কুড়াল দিয়ে যুবকের দুই হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন, বাঁচাতে মায়ের আপ্রাণ চেষ্টা
পাম্পে তেল নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ওই যুবক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের মাহোবায় একটি পেট্রলপাম্পে সামান্য বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের দুই হাত কুড়াল দিয়ে কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, কানপুর-সাগর মহাসড়কে চন্দেল পেট্রলপাম্পের সামনে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী যুবকের নাম জয়ভেন্দ্র সিং ওরফে ভিক্কি। এই হামলার পেছনে স্থানীয় এক রাজনীতিকের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পেট্রলপাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।

ভিক্কির পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভিক্কি মোটরবাইকে জ্বালানি নিতে ওই পেট্রলপাম্পে গিয়েছিলেন। সেখানে তেল নেওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকজন লোকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে ভিক্কির আগে থেকে কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক শত্রুতা ছিল না। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ধারালো কুড়াল নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নৃশংসভাবে কুপিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

হামলায় ভিক্কির দুই হাতের কবজি প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর এক পায়ে মারাত্মক জখম এবং মাথায় একাধিক গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে।

খবর পেয়ে ভিক্কির স্বজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ছেলের রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা। রক্তপাত বন্ধ করতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ছেলের প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া হাত দুটি কাপড়ের টুকরো দিয়ে বেঁধে দেন এবং মাথায় কাপড় জড়িয়ে দেন।

পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় একটি মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর বা রেফার করেন।

জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ড. শিশু পাল ভিক্কির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘রোগীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁর হাত দুটি শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, যা কোনো রকমে ব্যান্ডেজ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পায়ে গুরুতর আঘাত এবং মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।’

এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে ভিক্কির পরিবার। তারা স্থানীয় এক নেতার ইন্ধনে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে একজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।

মাহোবা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেট্রলপাম্প ও মহাসড়কের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জড়িত বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত