
দিল্লির জন্তর মন্তরে গত সপ্তাহে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার কয়েক শ গিগাবাইট সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। নীটের (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
গত ২০ ও ২২ জুলাই ব্যাপক নিরাপত্তাবেষ্টিত মধ্য দিল্লির এই এলাকা কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক এবং পুলিশের মুখোমুখি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্তত ১০০টি সিসিটিভি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, কীভাবে জনতা নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙেছে, পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, পাথর ছুড়েছে এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে এমন অনেক মুখ দেখা গেছে, যাদের পূর্ব অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এবং যাদের নথিপত্র ইতিমধ্যেই পুলিশের রেকর্ডে আছে। ফেসিয়াল-রেকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) প্রযুক্তির সাহায্যে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮৭৩ জন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি এবং পকসো (POCSO) আইনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এদের অনেকের নামই অপরাধী হিসেবে পুলিশের খাতায় ছিল এবং একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী চিহ্নিত হওয়া অপরাধীদের তালিকা—খুন সংশ্লিষ্ট ১০১ জন (এর মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে দুই বা তার বেশি এবং ১২ জনের বিরুদ্ধে ১০টি বা তার বেশি মামলা রয়েছে), খুনের চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় ৬২ জন, ডাকাতি সংশ্লিষ্ট ২৮৪ জন, ধর্ষণ সংশ্লিষ্ট মামলায় ৬১ জন (এর মধ্যে ৮ জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে), পকসো আইনে ৬ জন, যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত মামলায় ২৫ জন, অস্ত্র আইনে ২২৯ জন এবং অপহরণ সংক্রান্ত মামলায় ১৯ জনকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ।
বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশাল জমায়েত করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়, ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে, পাথর ছোড়ে, পেপার স্প্রে ব্যবহার করে, যানবাহন ভাঙচুর করে, গাড়ির ভেতর থাকা পুলিশকর্মীদের আক্রমণ করে এবং সংলগ্ন এলাকার দোকানপাট ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে।
গত ২০ জুলাইয়ের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জনতা ব্যারিকেড ভেঙে এগোচ্ছে এবং সংসদ মার্গের বেশ কয়েকটি জায়গায় পাথর ছুড়ছে। ওই দিনই জন্তর মন্তরের কাছে পুলিশের ওপর পাথর ছোড়া হয়, গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ভেতরে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলে। টলস্টয় মার্গে সিসিটিভি ফুটেজে একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং বাসের টায়ার ফুটো করার দৃশ্য ধরা পড়ে।
ভিডিওগুলোতে পুলিশকর্মীদের ওপর সরাসরি আক্রমণের ছবি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আঘাত পাওয়া এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে তার সহকর্মীরা উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন—এমন দৃশ্যও ধরা পড়েছে। সংসদ মার্গে এক পুলিশকর্মীকে ঘিরে ধরে মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। রক্তে ভেজা পোশাক পরা অন্তত ২০০ জন আহত পুলিশকর্মীর ফুটেজ এখন পুলিশের হাতে।
পরে ২২ জুলাইয়ের ফুটেজে নন্দকিশোর এবং বিবেক ভগত নামের দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছাড়া, ক্যামেরায় ধারণ হওয়া কিছু বিক্ষোভকারীর আপত্তিকর বক্তব্য আলাদা করে বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। এর মধ্যে কনট প্লেসে এক নারীর দেশের প্রধান মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য, সংসদ মার্গে এক ব্যক্তির সংসদ ভবন নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পুলিশের প্রতি এক নারীর অশালীন গালিগালাজের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবশ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর গত শনিবার কাকরোচ জনতা পার্টি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। পদত্যাগই ছিল দলটির মূল দাবি। ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সেসব এফআইআর তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিজেপি।

দিল্লির জন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ভাষা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আন্দোলনের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, স্লোগান ও মিম ছিল নানা ধরনের।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র দেওয়ার আগে সরকার সমঝোতার অংশ হিসেবে তাঁর মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) রাজি করানোর জন্য। কিন্তু সিজেপি রাজি হয়নি।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি এক সংকটের মুখে ফেলে দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে গুঞ্জন উঠছে—ইরানের ওপর লাগাতার যে বোমাবর্ষণ তিনি চালাচ্ছিলেন, তা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এখন কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার দিকেই পুরোপুরি নজর দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে এবং দুই দেশের সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই আলোচনা কোনো ফল না আনলে ফের মার্কিন হামলা শুরু করা হবে।
৪ ঘণ্টা আগে