Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে ৩৫০০ মার্কিন মেরিন-নাবিক, ইরান বলছে—কফিন প্রস্তুত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০: ৩৬
মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে ৩৫০০ মার্কিন মেরিন-নাবিক, ইরান বলছে—কফিন প্রস্তুত
ইউএসএস ত্রিপোলির ডেক। ছবি: এক্স

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক মাস পার হয়েছে। সেই আগ্রাসনে এবং সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনায় শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের শক্তি বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে, সাড়ে ৩ হাজার মেরিন ও নাবিক মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, গতকাল শনিবার আর্কিন উভচর আক্রমণ জাহাজ বা অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস ত্রিপোলিতে করে ৩ হাজার ৫০০ মেরিন ও নাবিক মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচাইতে বড় সামরিক সমাবেশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা একটি পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, ‘ইউএসএস ত্রিপোলিতে থাকা মার্কিন নাবিক এবং মেরিনরা ২৭ মার্চ ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছেছে।’

সেন্টকমের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, সেনারা হেলমেট, গগলস এবং যুদ্ধের পোশাক (কমব্যাট ফ্যাটিগ) পরে আছেন। এই মেরিন সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবেন।

এই অ্যাসল্ট শিপটি মেরিনদের পাশাপাশি পরিবহন ও স্ট্রাইক ফাইটার এয়ারক্রাফটসহ উভচর আক্রমণ ও কৌশলগত সরঞ্জাম বহন করছে। উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি এবং এতে থাকা ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা জাপানে অবস্থান করছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার সময় তারা তাইওয়ানের আশপাশে মহড়া চালাচ্ছিলেন।

ত্রিপোলি ছাড়াও অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস বক্সার ও আরও দুটি জাহাজ এবং আরেকটি মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটকে সান ডিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এমন জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন হয়তো ইরানের অভ্যন্তরে স্থল অভিযানের প্রস্ততি নিচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, সংঘাত মেটাতে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্ত আছে, তবু এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ওই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতিকে অনেক বাড়িয়ে দেবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও মার্কিন হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তাতে ট্রাম্পকে আরও বেশি সামরিক বিকল্প দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে। এই নতুন সেনারা আগে থেকে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ও মেরিনদের সঙ্গে যোগ দেবে।

ট্রাম্প অবশ্য বারবার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য স্থল সেনা পাঠানোর কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। তবে এই অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী ঠিক কোথায় অবস্থান নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, তাদের সম্ভবত ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং ইরানি উপকূলের অদূরে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল খারগ দ্বীপের আক্রমণাত্মক দূরত্বের মধ্যে মোতায়েন করা হবে।

এদিকে ইরানের ইংরেজি দৈনিক তেহরান টাইমসের আজ রোববারের ছাপা পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘ওয়েলকাম টু হেল’ বা ‘জাহান্নামে স্বাগতম’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে তারা কেবল ‘কফিনবন্দী হয়েই ফিরবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির ছবিসহ পরিচয় প্রকাশ

জোড়া লাল কার্ডের ম্যাচে ভারতকে রুখে দিল বাংলাদেশ

বেরোবিতে ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ঢাবি ছাত্র, থানায় নিয়ে মুচলেকা

বগুড়ায় বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

প্রেম, বিয়ে ও একই সঙ্গে বিজেএস জয়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত