
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরায়েল ও ইহুদি জনগণের প্রতি তাঁর কট্টর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী (ইহুদিবাদী) রাষ্ট্রপ্রধান’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিলেই তাঁর কট্টর ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করা রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের তীব্র সমালোচনা করেন। কট্টর উদারতাবাদী (লিবার্টারিয়ান) তাত্ত্বিক হান্স-হারম্যান হোপের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের একজন শক্তিশালী সমর্থক হওয়ায় হোপে বিরক্ত।’ এরপরই উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি নিজেকে গর্বিত জায়নবাদী দাবি করেন।
রাজনৈতিক সমর্থনের বাইরেও মিলেই তাঁর বক্তৃতায় নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সভ্যতার মূল তিনটি ভিত্তি—জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি—আসলে তাওরাত (তোরাহ) এবং বাইবেলের ‘দশটি আদেশের’ (টেন কমান্ডমেন্টস) ওপর প্রতিষ্ঠিত।
বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে মিলেই বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো: চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’
তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস (মিসর থেকে ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থান) কাহিনির মধ্যেই স্বাধীনতার মূল ধারণাটি গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রথম আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’
নিজে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ (নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী) হিসেবে পরিচিত হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন এবং নিয়মিত বিভিন্ন র্যাবাইয়ের (ইহুদি ধর্মযাজক) পরামর্শ নিয়ে থাকেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই মূল্যবোধগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না এবং এই মূল্যবোধগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমা সভ্যতার সব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’
আধুনিক দার্শনিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে মিলেই ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি যুক্তি দেন, সামগ্রিক সব বিষয়ের জন্য কোনো নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ হতে পারে না, বরং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে কিছু মৌলিক মূল্যবোধ দেওয়া আছে যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।
২০২৩ সালের শেষভাগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন বা রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে ইসরায়েল যান। সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেয়ালে প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন, যা ফিলিস্তিনিদের দাবির মুখে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। ঘটনাটি কখন বা কোথায় ঘটেছিল, কিংবা তাঁর কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, তাও জানাননি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২৫ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ (ওপিটি) কর্মসূচির ওপর নতুন ও চড়া ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
৩২ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন, এমন দুই লাখ পর্যন্ত বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় তাদের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররা ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
১ ঘণ্টা আগে