
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিশাল এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ বা খাস জমি হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েল সরকার। এই পদক্ষেপকে অনেকেই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে কার্যত একীভূত করে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি দেন ইসরায়েলে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। রোববার এটি অনুমোদন করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিস্তীর্ণ জমির ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এসব জমির বড় অংশই নিবন্ধনবিহীন অবস্থায় রয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় নিবন্ধনহীন বা তথাকথিত ‘পরিত্যক্ত’ জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করে তা অধিগ্রহণকে বৈধ করা যাবে।
এর আগে, ১৯৬৮ সালে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জর্ডানের নেতৃত্বে চলা জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্থগিত করে। এর ফলে ফিলিস্তিনিরা তাদের সম্পত্তির মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করার সুযোগ হারান। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তি অধিকৃত ভূখণ্ডে জমি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালাতে পারে না। কারণ, এটি একবার সম্পন্ন হলে তা আর ফেরানো যায় না। তাই এই প্রক্রিয়াকে অধিকৃত ভূমির ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়।
এক যৌথ বিবৃতিতে কাৎজ, স্মতরিচ ও লেভিন বলেন, এরিয়া সি-তে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যে ‘অবৈধ বসতি’ স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা আইন ও চুক্তির লঙ্ঘন, তার উপযুক্ত জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও গভীরভাবে জমির অধিকার যাচাই করা যাবে। আইনি বিরোধের অবসান ঘটবে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংগঠিতভাবে জমি বিপণনের সুযোগ তৈরি হবে।
কাৎজ বলেন, এটি একটি ‘অত্যাবশ্যক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।’ এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইসরায়েল রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ ও স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে। স্মতরিচ বলেন, ‘আমরা আমাদের সব ভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বসতি বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছি।’
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফায় প্রকাশিত মন্তব্যে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ বলে আখ্যা দেয়। তারা একে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে কার্যত একীভূত করার শামিল বলে উল্লেখ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলোকে কার্যত বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাব লঙ্ঘন করে। বিশেষ করে প্রস্তাব ২৩৩৪, যেখানে পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলা হয়েছে।
হামাস এই পদক্ষেপকে ‘অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমি চুরি ও ইহুদিকরণ করার চেষ্টা’ বলে নিন্দা জানায়। তারা একে একটি ‘অবৈধ দখলদার শক্তির’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে ‘অকার্যকর’ বলে ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে, এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান, কাতার ও তুরস্কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক রাষ্ট্রও।
এর আগে, গত সপ্তাহে স্মতরিচ ও কাৎজের প্রস্তাবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জমির ওপর ইহুদি ইসরায়েলিদের মালিকানা সহজ করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বসতি সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং ১৯৯৩ সালের অসলো অ্যাকর্ডকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে এরিয়া এ ও বি-তে ইসরায়েলের বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। এসব এলাকায় বড় বড় ফিলিস্তিনি শহর ও নগর অবস্থিত। অসলো চুক্তির পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব এলাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রে রয়েছে। স্মতরিচ এক বিবৃতিতে বলেন, এসব পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে ‘আইনি ও বেসামরিক বাস্তবতাকে মৌলিকভাবে বদলে দিচ্ছে’ এবং ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দিচ্ছে।’

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে পোল্যান্ডের নিজের পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের বিষয়টি ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যারোল নওরোকি। তিনি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল পোলস্যাট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। খবর ব্লুমবার্গের।
২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন পারমাণবিক চুক্তি করতে চায়, যাতে দুই পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। গতকাল রোববার এক ইরানি কূটনীতিক এমন কথা বলেছেন বলে খবরে প্রকাশ। কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হওয়ার কথা।
৩ ঘণ্টা আগে
সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী হারমান গালুশচেঙ্কো। তবে তিনি কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তা জানা যায়নি। গত নভেম্বরে প্রায় ১০ কোটি ডলার আত্মসাতের একটি অভিযোগের জড়িতদের নামের তালিকায় গালুশচেঙ্কোর নাম উঠে আসে। এর তাঁকে অপসারণ করা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিশাল বিজয় নতুন করে আশা জাগিয়েছে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনে। এই জয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক আবার শুরু হবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে