Ajker Patrika

‘আমাকে বিয়ে করো’, এপস্টেইনকে বলেছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী, টাকাও ধার চেয়েছিলেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ৩১
‘আমাকে বিয়ে করো’, এপস্টেইনকে বলেছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী, টাকাও ধার চেয়েছিলেন
সারা ফার্গুসন ও জেফরি এপস্টেইন। ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত বিতর্কিত অর্থলগ্নি কারবারি ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্প্রতি প্রকাশিত ই-মেইলগুলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য নতুন করে চরম অস্বস্তি ও লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নথিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন (যিনি ‘ফার্গি’ নামে পরিচিত) এবং তাঁদের দুই কন্যা প্রিন্সেস বিয়াট্রিস ও ইউজেনির নাম বারবার উঠে এসেছে।

প্রকাশিত ই-মেইলগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, এপস্টেইনের সঙ্গে সারা ফার্গুসনের বন্ধুত্ব ছিল অত্যন্ত গভীর। ২০০৯ সালের একটি ই-মেইলে সারা এপস্টেইনকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘আমার মেয়েদের সামনে তুমি আমাকে যে প্রশংসা করেছ, তাতে আমি অভিভূত। জেফরি, তুমি আমার সেই ভাই যার অভাব আমি সারা জীবন অনুভব করেছি।’ ২০১০ সালের অন্য একটি বার্তায় তিনি এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে রসিকতা করে লিখেছিলেন, ‘তুমি একটা কিংবদন্তি। তোমার দয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ...জাস্ট ম্যারি মি (আমাকে বিয়ে করে ফেলো)!’

নথিতে ফার্গুসনের আর্থিক সংকটের চিত্রও ফুটে উঠেছে। ২০০৯ সালে একটি ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পর তিনি এপস্টেইনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ২৭,৫০০ ডলার) ঋণের আবেদন করেন। ই-মেইলে তিনি জানান, বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় বাড়িওয়ালা পত্রিকায় গিয়ে তথ্য দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এপস্টেইনও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তাঁকে আর্থিক সহায়তা করার দাবি করেছেন।

ই-মেইলগুলো প্রমাণ করে, ব্রিটিশ উচ্চবিত্ত সমাজের একেবারে কেন্দ্রে এপস্টেইনের যাতায়াত ছিল অবাধ। সারা ফার্গুসন নিজেই এই সুযোগ করে দিতেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১০ সালে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ৫০ তম জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য এপস্টেইনকে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল সারা ফার্গুসনের পক্ষ থেকে। এমনকি বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর ক্যাসেলে চা-চক্রের আয়োজন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

এই নথিতে প্রিন্সেস ইউজেনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করা কিছু কুরুচিকর মন্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে। এগুলো রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর। একটি ই-মেইলে ইউজেনির ব্যক্তিগত ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন স্বয়ং সারা ফাগুসন। যদিও এই ই-মেইলগুলো সরাসরি সারা ফার্গুসন লিখেছিলেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

সারা ফার্গুসন যখন এপস্টেইনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন এপস্টেইন আড়ালে তাঁকে নিয়ে উপহাস করতেও ছাড়েননি। ২০১১ সালে প্রিন্সেস বিয়াট্রিসের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানের একটি ছবি দেখে এপস্টেইন বিদ্রূপ করে লিখেছিলেন, ‘ফার্গির এই ছবি মোটেও দেখার মতো নয়।’

২০০৮ সালে এপস্টেইন কিশোরী পাচারের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পরেও এই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং সারা ফার্গুসনের প্রতিনিধিরা কোনো প্রকার অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ‘ইয়র্ক’ ব্র্যান্ড যে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর মধ্যেই খবর পাওয়া গেছে, অ্যান্ড্রুকে শিগগিরই তাঁর রাজকীয় আবাস ‘রয়্যাল লজ’ ত্যাগ করতে হবে। একাধিক দাতব্য সংস্থা ইতিমধ্যেই সারা ফার্গুসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। বিয়াট্রিস ও ইউজেনির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন বড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এপস্টেইন নথিতে নাম থাকা মানেই সরাসরি অপরাধী সাব্যস্ত হওয়া নয়। তবে এটি নৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে বহু প্রভাবশালীকে বড় চাপের মুখে ফেলেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চট্টগ্রাম-৭ ও ১৪ আসন: প্রতিপক্ষের সমালোচনায় অলি, থেমে নেই হুমামও

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সমীরণ দেওয়ানকে বহিষ্কার

বান্দরবানে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর নিহতের তিন বছর, সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধা

ভোটের দায়িত্বে বিএনসিসিকে চায় না বিএনপি

‘আমাকে বিয়ে করো’, এপস্টেইনকে বলেছিলেন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী, টাকাও ধার চেয়েছিলেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত