
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে কোনো হাসপাতালের চিকিৎসকদের পার্কিং লটের দিকে তাকালে মনে হতে পারে যেন কোনো জার্মান বিলাসবহুল গাড়ির শোরুম। বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ থেকে শুরু করে বিশ্বের দামি সব ব্র্যান্ডের ভিড় সেখানে। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর বিষণ্নতা। আমেরিকার ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান বা পারিবারিক চিকিৎসকেরা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনভোগী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তাঁরা চরম মানসিক অবসাদ বা ‘বার্নআউট’ সংকটে ভুগছেন।
সম্প্রতি ‘দ্য কমনওয়েলথ ফান্ড’ নামের একটি আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ১০টি উন্নত দেশের ১১ হাজার চিকিৎসকের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। জরিপে উঠে আসা তথ্যগুলো বেশ উদ্বেগজনক।
জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকান চিকিৎসকদের ৪৩ শতাংশই ‘বার্নআউট’ বা চরম মানসিক ক্লান্তির শিকার। এটি জরিপ করা বাকি ৯টি দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
বেতন বনাম সুখের তুলনাতেও মার্কিন চিকিৎসকদের পরিস্থিতি ভয়াবহ। একজন আমেরিকান প্রাইমারি-কেয়ার চিকিৎসক বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেন। অন্যদিকে ব্রিটেনের এনএইচএসের চিকিৎসকেরা এর প্রায় অর্ধেক বেতন পেলেও তাঁদের মধ্যে বার্নআউটের হার ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ কাঁড়ি কাঁড়ি টাকাও চিকিৎসকদের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারছে না।
বোস্টনের ইন্টারনিস্ট ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রেবতী রবি দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, ‘বার্নআউট এখানে একটি নোংরা ক্ষুদ্র গোপন সত্যের মতো। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় মানসিক বিপর্যস্ত হওয়ার মতো সব উপাদানই বিদ্যমান।’
সংকটের মূল কারণ
কমনওয়েলথ স্টাডির অন্যতম লেখক সেলি হর্স্টম্যানের মতে, চিকিৎসকদের এই দুর্দশার মূল কারণ হলো প্রশাসনিক কাজ বা ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’।
রোগীদের সরাসরি সময় দেওয়ার চেয়েও চিকিৎসকদের এখন ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে লড়তে হয় চিকিৎসার অনুমোদন পেতে। এ ছাড়া প্রত্যেক রোগীর জন্য দীর্ঘ তালিকা তৈরি করা এবং অগণিত ফরম পূরণ করতে বিপুল সময় ব্যয় হয়।
এ ছাড়া ইদানীং ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (ইএইচআইআর) বা ডিজিটাল রেকর্ডিং ব্যবস্থা উপকারের বদলে নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. টেইট শানাফেল্ট জানান, চিকিৎসকেরা এখন প্রতিদিন গড়ে এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন শুধু রোগীদের ডিজিটাল মেসেজের উত্তর দিতে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই মেসেজের প্রবাহ ‘সুনামি’র রূপ নিয়েছে।

কাজের সীমাবদ্ধতাও এখানে বড় সমস্যা। ডালাসের চিকিৎসক স্কট ইয়েটস বলেন, ‘আমরা মেডিকেল স্কুলে গিয়েছিলাম চিকিৎসা করতে, ইনস্যুরেন্স কোম্পানির নথিপত্র সামলাতে নয়।’
চিকিৎসাদের এই অবসাদের পরিণামে ভুল চিকিৎসা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকদের এই মানসিক অবসাদ শুধু তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অবসাদগ্রস্ত বা বার্নআউটে ভোগা চিকিৎসকদের হাতে ভুল চিকিৎসা হওয়ার আশঙ্কা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ। এটি সরাসরি রোগীর জীবনের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ ছাড়া বার্নআউটের কারণে অনেক মেধাবী চিকিৎসক অকালে অবসর নিচ্ছেন বা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই কর্মবিমুখতা এবং পেশা ত্যাগের কারণে আমেরিকায় বছরে প্রায় ৪৬০ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। প্রত্যেক চিকিৎসকের অবসাদজনিত ক্ষতির পরিমাণ গড়ে ৭ হাজার ৬০০ ডলার।
সমাধানের পথ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা যোগব্যায়াম দিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। এর জন্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। গবেষকেরা অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ টেনে বলছেন, সেখানে স্বাস্থ্য আমলাতন্ত্রের জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, এই প্ল্যাটফর্ম চিকিৎসকের নানা ফরম পূরণের বোঝা অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকান একাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানসের চেয়ার জেন ব্রুল আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এআই চিকিৎসকদের রুটিন কাজ; যেমন নোট নেওয়া, কোডিং এবং চার্ট তৈরির কাজগুলো করে দিতে পারবে।
ড. রেবতী রবির মতে, এখন সময় এসেছে চিকিৎসকদের ওপর থেকে কাজের বোঝা সরাসরি কমানোর। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি এখন চিকিৎসকদের কোচিং দিচ্ছেন, যাতে তাঁরা এই বার্নআউট কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং পেশায় টিকে থাকতে পারেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পদে অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক...
১০ ঘণ্টা আগে
দেশে সরকারি চিকিৎসকদের ৭৫ শতাংশই শহরে এবং বাকি ২৫ শতাংশ গ্রামে সেবা দেন। নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য জনবলের চিত্রও অনেকটা একই। অথচ দেশের জনসংখ্যার মাত্র ৩৮ শতাংশের বসবাস শহরে। আবার চিকিৎসকের সঙ্গে অন্যান্য স্বাস্থ্য জনবলের অনুপাতও ঠিক নেই।
২ দিন আগে
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ কিডনি রোগে আক্রান্ত। এ সংখ্যা ২ কোটির বেশি হতে পারে। প্রতিবছর এই সংখ্যা বাড়ছে। পবিত্র রমজান মাসে কিডনি রোগীরা রোজা রাখার সময় সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৪ দিন আগে
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতার ও সেহরির মাধ্যমে আমরা শরীরে শক্তি ফিরে পাই। কিন্তু অসচেতনতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ মাসেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পেটের পীড়া কিংবা ফুড পয়জনিংয়ের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। অনেকে আছেন, যাঁরা শুধু ইফতারে ভাজাপোড়া কিংবা বাইরের খোলা খাবার খেয়ে তীব্র পেটব্যথা...
৪ দিন আগে