ফ্যাক্টচেক /দুই শিশু ও এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি গত বছরের

সম্প্রতি শিশুসহ একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
‘Rajon Ahmed’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৪ অক্টোবর ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘শিশু বাচ্চা সহ তিন জনের ম/র/দেহ উদ্ধার.... এর শেষ কোথায় হবে? দেশে কি আইন মরে গেছে? নাকি হাতে চুরি পরে প্রশাসন ঘুরতেছে। এর বিচার বাংলার মাটিতে একদিন হবেই ইনশাআল্লাহ, ইতিহাসের পাতায় সব কিছু লেখ থাকবে।’
শেয়ার করা পোস্টের কমেন্ট ও রিয়েকশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ের মনে করেছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে বিছানার ওপর এক নারীকে এবং মেঝেতে দুটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিনজন সদস্যকে দেখা গেলেও এতে নির্দিষ্ট স্থান বা তারিখ সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ধরে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যমে সম্প্রতি দেশের কোথাও এমন ঘটনার কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হলে জাতীয় দৈনিক ‘ইত্তেফাক’-এর ওয়েবসাইটে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যচিত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কবি মহিদুল সড়কের একটি দোতলা বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—মালয়েশিয়া প্রবাসী শাহীন দেওয়ানের স্ত্রী শিখা আক্তার (২৭),আলভী (৭) ও সায়মা আক্তার (২)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লাশের পাশ থেকে বিষের ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানদের বিষ খাইয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করেছিল পুলিশ।
প্রবাসী শাহীন দেওয়ানের মামা আমান আনসারীর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহীন ঘটনার এক মাস আগে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। নিহত দুই শিশুর মধ্যে ছেলে আলভী তাঁর আগের পক্ষের সন্তান এবং মেয়ে সায়মা শিখার সঙ্গে তাঁর সন্তান। এ ছাড়া, শাহীনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দাম্পত্যকলহ চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পারিবারিক কলহের কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণার কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
প্রতিবেদনে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ বরাতে বলা হয়, তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। একটি মামলা করা হয়েছে।
জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’ ও‘ঢাকা পোস্ট’-এও একই ঘটনা নিয়ে সে সময় প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সিদ্ধান্ত
শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের নামে প্রচারিত দাবিটি পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়; এটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে মানিকগঞ্জে ঘটে যাওয়া পুরোনো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ।









