সাগর হোসেন তামিম, মাদারীপুর

কোনোভাবেই দমন করা যাচ্ছে না কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। মাদারীপুর পৌর শহরে গত দশ মাসে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অন্তত ৬টি ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব কিশোর।
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ছায়ায় উঠতি বয়সের কিশোরেরা সহিংসতাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। মাদারীপুরের প্রশাসনের দাবি, অভিভাবকদের অবহেলায় বিপথে যাচ্ছে কিশোররা। অন্যদিকে পুলিশ বিভাগের হুঁশিয়ারি, ছাড় দেওয়া হবে না অপরাধীদের।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট মাদারীপুর পৌর শহরের শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পেছনের বালুর মাঠে সৈকত সরদার নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তারাই ছড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ঘটনার তিন দিন পর ১০ আগস্ট সদর থানায় আহত ব্যক্তির বাবা একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় চারজন গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তাঁরা জামিনে বেরিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। শুধু সৈকত সরদারই নয়, গত দশ মাসে মাদারীপুরে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ে হামলার ছয়টি ঘটনা ঘটেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকায় সজল গৌড়ার ছেলে রাজীব গৌড়া, মে মাসে পূর্ব রাস্তি এলাকায় কাসেম ব্যাপারীর ছেলে শিশির ব্যাপারী, জুন মাসে সোবাহান শিকদারের ছেলে মাহিম শিকদার, আগস্ট মাসে শহরের সবুজবাগ এলাকার লিটন জমাদ্দারের ছেলে কদর জমাদ্দার, একই মাসে সিরাজ আকনের ছেলে অভি আকনকে মারধর করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও কোনো লাভ হয়নি। এসব ঘটনায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মাদারীপুর শহরের শান্তিনগর এলাকায় একটি ভবনের ছাদে সোহান শেখ নামের এক কিশোরকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ছাদ থেকে মাটিতে ফেলে দেওয়ায় সোহান শেখের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় মামলা হলেও ক্ষমতার দাপটে বেরিয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এসব কিশোরেরা। এদের পেছনে ক্ষমতার প্রভাব দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কিশোর গ্যাংয়ের এসব সদস্যরা ইভটিজিং, বখাটেপনা, মাদক সেবন, এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ হত্যাকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছে। এমনকি ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এতে উৎকণ্ঠায় সুশীল সমাজও।
কিশোর গ্যাংয়ের নির্যাতনের শিকার সৈকত সরদারের মা জালিয়া বেগম বলেন, ‘দিন দিন যেভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বাড়ছে। এতে তো আমাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে ভয় হয়। আমার সন্তানকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল, তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি দেখাচ্ছে। এখন মনে হয়, মামলা করেও ভুল করেছি। এদের রুখতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।’
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাই পারে কিশোরদের রুখতে এমনটাই দাবি করেন মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘মাদারীপুর পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের মাত্র আঠারোটি স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা গেলে কিশোর গ্যাংসহ অনেক অপরাধ দমন করা সম্ভব। সন্ধ্যার পরে ৮ থেকে ১০ জন কিশোর একত্র হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অভিভাবকদের জানাতে হবে। তাহলে কিশোরেরা অপরাধের সঙ্গে জড়াতে পারবে না। আর রাজনৈতিক বিভিন্ন সভা, মিছিল, মিটিংয়ে কিশোরদের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাদের এক ধরনের নেশার মতো ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতারা। এটাও বন্ধ করতে হবে।’
আর প্রশাসন মনে করছে, অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে কিশোরদের বিপথ থেকে ফেরাতে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল মনে করেন, যে কোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। কিশোরদের অপরাধ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারব। এ ছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কিশোর গ্যাং রোধ করা যাবে না। যদি বাবা-মা সচেতন না হয়, তাহলে রোধ হবে না। এ জন্যে প্রত্যেক অভিভাবকদের ছেলে-মেয়েকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সন্ধ্যার পরে বের হতে হলে বাবা-মার অনুমতি নিয়ে বের হতে হবে। আমরা সবাই সচেতন হলে এসব অপরাধ রুখে দেওয়া সম্ভব।’

কোনোভাবেই দমন করা যাচ্ছে না কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। মাদারীপুর পৌর শহরে গত দশ মাসে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অন্তত ৬টি ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব কিশোর।
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ছায়ায় উঠতি বয়সের কিশোরেরা সহিংসতাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। মাদারীপুরের প্রশাসনের দাবি, অভিভাবকদের অবহেলায় বিপথে যাচ্ছে কিশোররা। অন্যদিকে পুলিশ বিভাগের হুঁশিয়ারি, ছাড় দেওয়া হবে না অপরাধীদের।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট মাদারীপুর পৌর শহরের শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পেছনের বালুর মাঠে সৈকত সরদার নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তারাই ছড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ঘটনার তিন দিন পর ১০ আগস্ট সদর থানায় আহত ব্যক্তির বাবা একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় চারজন গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তাঁরা জামিনে বেরিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। শুধু সৈকত সরদারই নয়, গত দশ মাসে মাদারীপুরে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ে হামলার ছয়টি ঘটনা ঘটেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকায় সজল গৌড়ার ছেলে রাজীব গৌড়া, মে মাসে পূর্ব রাস্তি এলাকায় কাসেম ব্যাপারীর ছেলে শিশির ব্যাপারী, জুন মাসে সোবাহান শিকদারের ছেলে মাহিম শিকদার, আগস্ট মাসে শহরের সবুজবাগ এলাকার লিটন জমাদ্দারের ছেলে কদর জমাদ্দার, একই মাসে সিরাজ আকনের ছেলে অভি আকনকে মারধর করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও কোনো লাভ হয়নি। এসব ঘটনায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মাদারীপুর শহরের শান্তিনগর এলাকায় একটি ভবনের ছাদে সোহান শেখ নামের এক কিশোরকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ছাদ থেকে মাটিতে ফেলে দেওয়ায় সোহান শেখের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় মামলা হলেও ক্ষমতার দাপটে বেরিয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এসব কিশোরেরা। এদের পেছনে ক্ষমতার প্রভাব দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কিশোর গ্যাংয়ের এসব সদস্যরা ইভটিজিং, বখাটেপনা, মাদক সেবন, এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ হত্যাকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছে। এমনকি ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এতে উৎকণ্ঠায় সুশীল সমাজও।
কিশোর গ্যাংয়ের নির্যাতনের শিকার সৈকত সরদারের মা জালিয়া বেগম বলেন, ‘দিন দিন যেভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বাড়ছে। এতে তো আমাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে ভয় হয়। আমার সন্তানকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল, তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি দেখাচ্ছে। এখন মনে হয়, মামলা করেও ভুল করেছি। এদের রুখতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।’
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাই পারে কিশোরদের রুখতে এমনটাই দাবি করেন মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘মাদারীপুর পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের মাত্র আঠারোটি স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা গেলে কিশোর গ্যাংসহ অনেক অপরাধ দমন করা সম্ভব। সন্ধ্যার পরে ৮ থেকে ১০ জন কিশোর একত্র হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অভিভাবকদের জানাতে হবে। তাহলে কিশোরেরা অপরাধের সঙ্গে জড়াতে পারবে না। আর রাজনৈতিক বিভিন্ন সভা, মিছিল, মিটিংয়ে কিশোরদের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাদের এক ধরনের নেশার মতো ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতারা। এটাও বন্ধ করতে হবে।’
আর প্রশাসন মনে করছে, অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে কিশোরদের বিপথ থেকে ফেরাতে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল মনে করেন, যে কোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। কিশোরদের অপরাধ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারব। এ ছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কিশোর গ্যাং রোধ করা যাবে না। যদি বাবা-মা সচেতন না হয়, তাহলে রোধ হবে না। এ জন্যে প্রত্যেক অভিভাবকদের ছেলে-মেয়েকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সন্ধ্যার পরে বের হতে হলে বাবা-মার অনুমতি নিয়ে বের হতে হবে। আমরা সবাই সচেতন হলে এসব অপরাধ রুখে দেওয়া সম্ভব।’

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫