সাইফুল মাসুম, ঢাকা

চায়ের দোকান, রিকশার গ্যারেজ, গোয়ালঘর—সবই আছে এখানে। শুধু হারিয়ে যাচ্ছে উচ্ছল শৈশব ও তারুণ্যের উদ্যম। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে খিলগাঁও চৌধুরীপাড়াসংলগ্ন হাজীপাড়া খেলার মাঠ। ইতিমধ্যে ১৮ বিঘা (৬ একর) আয়তনের মাঠটির তিন বিঘা দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি শহরে প্রতিটি মানুষের জন্য থাকতে হবে ৯ বর্গমিটার খোলা জায়গা, ঢাকায় আছে মাত্র ১ বর্গমিটার। জনসংখ্যা অনুযায়ী যেখানে ঢাকায় থাকার কথা ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০টি খেলার মাঠ, সেখানে দুই সিটি করপোরেশনে আছে মাত্র ২৩৫টি খেলার মাঠ। অর্থাৎ মাঠের ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ১০০টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ একর আয়তনের হাজীপাড়া খেলার মাঠটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের। ২০০৪ সালের আগে পরিত্যক্ত ঝিল ছিল। ২০০৪ সালে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বালু ফেলে জায়গাটি উঁচু করা হয়। সেই থেকে শিশু-কিশোরেরা এখানে খেলাধুলা করে আসছে। জায়গাটি পরিচিতি পেয়েছে খেলার মাঠ হিসেবে। হাজীপাড়া বালুর মাঠ নামেও এর পরিচিতি তৈরি হয়। এরপর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জায়গাটিতে কাগজে-কলমে খেলার মাঠ ও ঈদগাঁ ঘোষণার দাবি তোলেন। গণপূর্ত থেকে খেলার মাঠ ও ঈদগাঁর জায়গা হিসেবে বরাদ্দও দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মাঠের যে সাইনবোর্ড ছিল, দখলদার গোষ্ঠী সেটাও ভেঙে ফেলেছে।
নির্ধারিত সীমানাপ্রাচীরের অভাবে ২০১০ সাল থেকে জায়গাটি ধীরে ধীরে দখলের কবলে পড়ে। মাঠের চারপাশে গড়ে ওঠে গ্যারেজ, গোয়ালঘর, চায়ের দোকান, খাবার হোটেল, ভাঙারির দোকান ও বস্তিঘর। প্রতি মাসে এখান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি চাঁদা ওঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ বছরে দখলদারদের পকেটে ঢুকেছে প্রায় ২৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।
গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, মাঠের উত্তর-পশ্চিম অংশে কয়েকটি গরু বাঁধা। পাশেই রয়েছে গোয়ালঘর। ওই ঘরের পাশে আরেকটি ঘরে একজন মাংস রান্না করছিলেন। মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে রয়েছে ইকরা মাদ্রাসার দেয়াল। উত্তর-পূর্ব অংশে কয়েকটি চায়ের দোকান। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আটটি রিকশার গ্যারেজ। সেগুলোর একটির মালিক নুর ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, ‘কয়েক বছর আগেই আমি রিকশার গ্যারেজ দিয়েছি। আমি কাউকে কোনো টাকা দিই না। তবে রামপুরা থানার পুলিশ চা-পানির জন্য কিছু টাকা নেয়। দোকানপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়।’
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, মাঠটি দেখভাল করার কেউ না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ইতিমধ্যে তিন বিঘা দখল হয়ে গেছে।
হাজীপাড়া মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী করতে দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও এলাকাবাসী। হাজীপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা কামাল আহমেদ দুলু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী করতে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু গণপূর্ত কিংবা সিটি করপোরেশন কেউই পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি সন্ধ্যার পর এখন মাঠে মাদকের আখড়াও বসে। চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা হচ্ছে প্রায়ই।’
রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকাসক্তদের উৎপাতের কোনো সুযোগ নেই। থানার কোনো পুলিশ অবৈধ দখল কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিএনসিসির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শাখাওয়াত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খুব শিগগির গণপূর্ত থেকে মাঠটির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। আমি যত দিন বেঁচে আছি, এই মাঠ কাউকে দখল করতে দেব না।’ ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেলিম রেজা বলেন, ‘মাঠটি খেলার উপযোগী করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জায়গাটিতে খেলার মাঠ ও ঈদগাঁহ করার বিষয়ে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন হলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। মাঠের কোনো অংশ দখল হলে সেটাও উদ্ধার করা হবে।’

চায়ের দোকান, রিকশার গ্যারেজ, গোয়ালঘর—সবই আছে এখানে। শুধু হারিয়ে যাচ্ছে উচ্ছল শৈশব ও তারুণ্যের উদ্যম। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে খিলগাঁও চৌধুরীপাড়াসংলগ্ন হাজীপাড়া খেলার মাঠ। ইতিমধ্যে ১৮ বিঘা (৬ একর) আয়তনের মাঠটির তিন বিঘা দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি শহরে প্রতিটি মানুষের জন্য থাকতে হবে ৯ বর্গমিটার খোলা জায়গা, ঢাকায় আছে মাত্র ১ বর্গমিটার। জনসংখ্যা অনুযায়ী যেখানে ঢাকায় থাকার কথা ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০টি খেলার মাঠ, সেখানে দুই সিটি করপোরেশনে আছে মাত্র ২৩৫টি খেলার মাঠ। অর্থাৎ মাঠের ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ১০০টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ একর আয়তনের হাজীপাড়া খেলার মাঠটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের। ২০০৪ সালের আগে পরিত্যক্ত ঝিল ছিল। ২০০৪ সালে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বালু ফেলে জায়গাটি উঁচু করা হয়। সেই থেকে শিশু-কিশোরেরা এখানে খেলাধুলা করে আসছে। জায়গাটি পরিচিতি পেয়েছে খেলার মাঠ হিসেবে। হাজীপাড়া বালুর মাঠ নামেও এর পরিচিতি তৈরি হয়। এরপর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জায়গাটিতে কাগজে-কলমে খেলার মাঠ ও ঈদগাঁ ঘোষণার দাবি তোলেন। গণপূর্ত থেকে খেলার মাঠ ও ঈদগাঁর জায়গা হিসেবে বরাদ্দও দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মাঠের যে সাইনবোর্ড ছিল, দখলদার গোষ্ঠী সেটাও ভেঙে ফেলেছে।
নির্ধারিত সীমানাপ্রাচীরের অভাবে ২০১০ সাল থেকে জায়গাটি ধীরে ধীরে দখলের কবলে পড়ে। মাঠের চারপাশে গড়ে ওঠে গ্যারেজ, গোয়ালঘর, চায়ের দোকান, খাবার হোটেল, ভাঙারির দোকান ও বস্তিঘর। প্রতি মাসে এখান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি চাঁদা ওঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ বছরে দখলদারদের পকেটে ঢুকেছে প্রায় ২৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।
গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, মাঠের উত্তর-পশ্চিম অংশে কয়েকটি গরু বাঁধা। পাশেই রয়েছে গোয়ালঘর। ওই ঘরের পাশে আরেকটি ঘরে একজন মাংস রান্না করছিলেন। মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে রয়েছে ইকরা মাদ্রাসার দেয়াল। উত্তর-পূর্ব অংশে কয়েকটি চায়ের দোকান। দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আটটি রিকশার গ্যারেজ। সেগুলোর একটির মালিক নুর ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, ‘কয়েক বছর আগেই আমি রিকশার গ্যারেজ দিয়েছি। আমি কাউকে কোনো টাকা দিই না। তবে রামপুরা থানার পুলিশ চা-পানির জন্য কিছু টাকা নেয়। দোকানপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়।’
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, মাঠটি দেখভাল করার কেউ না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ইতিমধ্যে তিন বিঘা দখল হয়ে গেছে।
হাজীপাড়া মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী করতে দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও এলাকাবাসী। হাজীপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা কামাল আহমেদ দুলু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী করতে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু গণপূর্ত কিংবা সিটি করপোরেশন কেউই পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি সন্ধ্যার পর এখন মাঠে মাদকের আখড়াও বসে। চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা হচ্ছে প্রায়ই।’
রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকাসক্তদের উৎপাতের কোনো সুযোগ নেই। থানার কোনো পুলিশ অবৈধ দখল কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিএনসিসির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শাখাওয়াত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খুব শিগগির গণপূর্ত থেকে মাঠটির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। আমি যত দিন বেঁচে আছি, এই মাঠ কাউকে দখল করতে দেব না।’ ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেলিম রেজা বলেন, ‘মাঠটি খেলার উপযোগী করতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জায়গাটিতে খেলার মাঠ ও ঈদগাঁহ করার বিষয়ে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন হলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। মাঠের কোনো অংশ দখল হলে সেটাও উদ্ধার করা হবে।’

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫